ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন নাসর’ শুরু করলো ইরান ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, এশিয়ার ৩ দেশে সুনামি সতর্কতা ব্যস্ত সময় কাটিয়ে দেশে ফিরলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস আ. লীগ নেতা ও সাবেক মেয়র আনিছুরের জানাজায় মানুষের ঢল ‘এই স্কুলে মুসলিমদের জায়গা নেই’: ৩০ শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে দিলেন কেরালার প্রধান শিক্ষিকা ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক গ্রাহকদের, ৫ দিনে ৩৫০০ কোটি টাকা উত্তোলন প্রটোকল ছাড়াই হঠাৎ আমিনবাজার-আশুলিয়া ভূমি অফিস পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী ড. ইউনূস-নুরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা বর্তমানে বিশ্বের ১৪০টি দেশে বাংলাদেশের ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান

প্রভাবের জোরে জমি দখলবাজি: কাগজ নেই, তবুও থামছে না বাপ–বেটার দাপট!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:১০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৯৩ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ি মাদারগঞ্জ গ্রামে কাগজপত্র ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম সাপর ও তার ছেলে রাকিবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ স্বীকার করলেও থামছে না তাদের দাপট এতে আতঙ্কে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গেল কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় জমি দখল নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি আলোচনায় আসার পর সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কাগজে কলমে জমিটির প্রকৃত মালিক মৃত নইমউদ্দীন (মন্ডল) ও তার স্ত্রী মৃত মনোয়ারা বেগম।

মাদারগঞ্জ মৌজার জেল নং-৪০ দাগ নং-৫৭৯৬ অনুযায়ী তারা সাড়ে ৪৮ শতক জমি ক্রয় করেছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা বাইরে থাকায় সুযোগ নিয়ে প্রায় ৩ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন শফিকুল ইসলাম সাপর।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। শুধু নইমউদ্দীনের পরিবারের জমিই নয়, একই গ্রামের রবিউল ইসলামেরও প্রায় ৭ শতক জমি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

রবিউল ইসলাম বলেন, শফিকুল ইসলাম জোর করে আমার জমিও দখল করেছে। তার ছেলে রাকিব আউলিয়াপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। বিষয়টি আমরা জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

সংবাদকর্মীরা শফিকুল ইসলাম সাপর ও তার ছেলে রাকিবের কাছে জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বরং রাকিব সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরাও।

জমির মালিক নইমউদ্দীনের ছেলে মুজাহারুল ইসলাম জানান, আমাদের জমি অন্যায়ভাবে দখল করে রেখেছেন শফিকুল ইসলাম সাপর। বারবার শালিশ বৈঠক হলেও তিনি তা মানতে অস্বীকার করেন। শুধু আমাদের নয়, রবিউলের জমিও দখল করেছেন তিনি। মানুষ তাদের অত্যাচার থেকে মুক্তি চায়।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, রাকিবের বিরুদ্ধে জমি দখলের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন নাসর’ শুরু করলো ইরান

প্রভাবের জোরে জমি দখলবাজি: কাগজ নেই, তবুও থামছে না বাপ–বেটার দাপট!

আপডেট সময় ০৮:১০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কচুবাড়ি মাদারগঞ্জ গ্রামে কাগজপত্র ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম সাপর ও তার ছেলে রাকিবের বিরুদ্ধে। অভিযোগ স্বীকার করলেও থামছে না তাদের দাপট এতে আতঙ্কে স্থানীয়রা।

জানা গেছে, গেল কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় জমি দখল নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি আলোচনায় আসার পর সংঘর্ষের আশঙ্কায় স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিকরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কাগজে কলমে জমিটির প্রকৃত মালিক মৃত নইমউদ্দীন (মন্ডল) ও তার স্ত্রী মৃত মনোয়ারা বেগম।

মাদারগঞ্জ মৌজার জেল নং-৪০ দাগ নং-৫৭৯৬ অনুযায়ী তারা সাড়ে ৪৮ শতক জমি ক্রয় করেছিলেন। তাদের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা বাইরে থাকায় সুযোগ নিয়ে প্রায় ৩ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন শফিকুল ইসলাম সাপর।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। শুধু নইমউদ্দীনের পরিবারের জমিই নয়, একই গ্রামের রবিউল ইসলামেরও প্রায় ৭ শতক জমি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

রবিউল ইসলাম বলেন, শফিকুল ইসলাম জোর করে আমার জমিও দখল করেছে। তার ছেলে রাকিব আউলিয়াপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। বিষয়টি আমরা জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

সংবাদকর্মীরা শফিকুল ইসলাম সাপর ও তার ছেলে রাকিবের কাছে জমি দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বরং রাকিব সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরাও।

জমির মালিক নইমউদ্দীনের ছেলে মুজাহারুল ইসলাম জানান, আমাদের জমি অন্যায়ভাবে দখল করে রেখেছেন শফিকুল ইসলাম সাপর। বারবার শালিশ বৈঠক হলেও তিনি তা মানতে অস্বীকার করেন। শুধু আমাদের নয়, রবিউলের জমিও দখল করেছেন তিনি। মানুষ তাদের অত্যাচার থেকে মুক্তি চায়।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতে ইসলামী’র সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, রাকিবের বিরুদ্ধে জমি দখলের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।