ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::

ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

অনুমোদন না মিললেও কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের গেটের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বিকালে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

জিহাদ ফেরদৌস চমক জেলা ছাত্রদলের নতুন ঘোষিত কমিটির পাশাপাশি চিলমারী উপজেলা কমিটির সম্পাদকীয় পদপ্রত্যাশী ছিলেন। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার হওয়ার ফলে তার সেই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

 

 

কেন্দ্র ঘোষিত বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলে সদ্য সাবেক কমিটির সাবেক সহ সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমককে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

 

 

বহিষ্কারাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সোমবার এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একইসঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনও রকমের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে জিহাদ ফেরদৌস চমককে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বহিষ্কারাদেশের পত্র আমরা পেয়েছি। কলেজ মাঠে হাটের অনুমোদন না মিললেও সেখানে হাঠ বসানোর অভিযোগ আমলে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।’

 

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সোমবার দুপুরে চিলমারীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জিহাদ ফেরদৌস চমক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, কলেজ মাঠে হাট বসানোর জন্য তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছেন। তবে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ এবং নিজের করা আবেদনপত্রের কপি ছাড়া তিনি কর্তৃপক্ষের লিখিত কোনও অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি।

 

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী ছাত্রদল নেতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘আমরা কাউকে হাট বসানোর অনুমতি দিইনি। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কলেজ মাঠে হাট বসানোর নিয়ম নেই। কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত বুধবার রেজুলেশনসহ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়।’

 

ছাত্রদল নেতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেছেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা কাউকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিইনি। অধ্যক্ষ গেট তালা দিয়ে রেখেছেন। সেই তালা ভেঙে হাট বসানো হয়েছে।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাঙ্গোলায় স্বর্ণের খনিতে ভয়াবহ ধস, একই পরিবারের ১৩ সদস্যসহ নিহত ২৮

ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

আপডেট সময় ১০:০৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

অনুমোদন না মিললেও কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের গেটের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর ঘটনায় জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমককে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দফতর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বিকালে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

জিহাদ ফেরদৌস চমক জেলা ছাত্রদলের নতুন ঘোষিত কমিটির পাশাপাশি চিলমারী উপজেলা কমিটির সম্পাদকীয় পদপ্রত্যাশী ছিলেন। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার হওয়ার ফলে তার সেই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

 

 

কেন্দ্র ঘোষিত বহিষ্কারাদেশে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলে সদ্য সাবেক কমিটির সাবেক সহ সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমককে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।

 

 

বহিষ্কারাদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সোমবার এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। একইসঙ্গে ছাত্রদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনও রকমের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে জিহাদ ফেরদৌস চমককে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বহিষ্কারাদেশের পত্র আমরা পেয়েছি। কলেজ মাঠে হাটের অনুমোদন না মিললেও সেখানে হাঠ বসানোর অভিযোগ আমলে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।’

 

এদিকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সোমবার দুপুরে চিলমারীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জিহাদ ফেরদৌস চমক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, কলেজ মাঠে হাট বসানোর জন্য তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়েছেন। তবে টাকা জমা দেওয়ার রসিদ এবং নিজের করা আবেদনপত্রের কপি ছাড়া তিনি কর্তৃপক্ষের লিখিত কোনও অনুমতিপত্র দেখাতে পারেননি।

 

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী ছাত্রদল নেতার দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ‘আমরা কাউকে হাট বসানোর অনুমতি দিইনি। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কলেজ মাঠে হাট বসানোর নিয়ম নেই। কলেজের স্টাফ কাউন্সিলের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। গত বুধবার রেজুলেশনসহ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়।’

 

ছাত্রদল নেতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেছেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা কাউকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানোর অনুমতি দিইনি। অধ্যক্ষ গেট তালা দিয়ে রেখেছেন। সেই তালা ভেঙে হাট বসানো হয়েছে।’