ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
উত্তর কোরিয়ার বিপরীতে একজোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া এনসিপি নেতারা সুযোগের অভাবে সৎ: রাশেদ খাঁন রাজনীতিতে ত্যাগীরা শ্রমিকের মতো, সুবিধা ভোগ করে এসি রুমে বসে টিভি দেখা সুবিধাবাদীরা: নয়ন সাত বছর পর ৪০০ সদস্য নিয়ে ভারতে যাচ্ছেন শি জিনপিং লোহিত সাগরে সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা স্থানীয় নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেবে: সারজিস চট্টগ্রাম ডুবলে হাঁটু পানিতে নেমে মেয়র-এমপিদের নাটক আর দেখতে চাই না: সারজিস ‘হিজাব ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়’, ভারতীয় আদালতের রায় কক্সবাজারে ঘুরতে এসে বাসের চাকায় পিষ্ট যুবক, মরদেহ সড়কে ফেলে পালাল সফরসঙ্গীরা পুলিশের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে গণপতি চক্রবর্তীর পরিবার

দুই সপ্তাহ ঊর্ধ্বগতির পর স্থিতিশীল তেলের বাজার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৭:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কী হতে পারে, তা এখন খতিয়ে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যেই আগের দিনের বড় দরপতনের পর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ সেন্ট বেড়ে হয়েছে ৮৫ দশমিক ০২ ডলার।

এর আগে টানা দুই সপ্তাহ দাম বাড়ার পর মুনাফা তুলে নেওয়ায় সোমবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই ২ শতাংশের বেশি কমে যায়।

এর মধ্যেই ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বিভিন্ন দেশকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। তা না হলে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় বাধার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তবে ঠিক কোন কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা আপাতত নিষেধাজ্ঞাকে সরাসরি তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের চেয়ে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পরও তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়নি।

তবে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। কারণ, বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।

এরই মধ্যে ওমানের আশ শিহাহ এলাকার কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি অব্যাহত রেখেছে ইরান। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে বিভিন্ন দেশও নিজেদের কৌশলগত তেল মজুত থেকে জ্বালানি ব্যবহার করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে প্রায় ৩৭ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে। বর্তমানে এই মজুত নেমে এসেছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেলে—যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন।

সব মিলিয়ে, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আপাতত তেলের বাজারে বড় ধাক্কা না দিলেও, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তর কোরিয়ার বিপরীতে একজোট হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া

দুই সপ্তাহ ঊর্ধ্বগতির পর স্থিতিশীল তেলের বাজার

আপডেট সময় ১১:২৭:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কী হতে পারে, তা এখন খতিয়ে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যেই আগের দিনের বড় দরপতনের পর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯ সেন্ট কমে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১ সেন্ট বেড়ে হয়েছে ৮৫ দশমিক ০২ ডলার।

এর আগে টানা দুই সপ্তাহ দাম বাড়ার পর মুনাফা তুলে নেওয়ায় সোমবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই ২ শতাংশের বেশি কমে যায়।

এর মধ্যেই ইরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বিভিন্ন দেশকে ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। তা না হলে ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় বাধার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তবে ঠিক কোন কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে এবং কবে থেকে তা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা আপাতত নিষেধাজ্ঞাকে সরাসরি তেল সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের চেয়ে তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। এ কারণে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার পরও তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়নি।

তবে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। কারণ, বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।

এরই মধ্যে ওমানের আশ শিহাহ এলাকার কাছে একটি তেলবাহী জাহাজ অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি অব্যাহত রেখেছে ইরান। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে বিভিন্ন দেশও নিজেদের কৌশলগত তেল মজুত থেকে জ্বালানি ব্যবহার করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে প্রায় ৩৭ লাখ ব্যারেল তেল কমেছে। বর্তমানে এই মজুত নেমে এসেছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেলে—যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন।

সব মিলিয়ে, ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আপাতত তেলের বাজারে বড় ধাক্কা না দিলেও, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।