ঢাকা , শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাফিনিয়াকে ঘিরে দেউলিয়ার গুঞ্জন, চাঞ্চল্য ফুটবল মহলে অনলাইন জুয়াকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় এনেছে সরকার: অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংকটের জন্য বিএনপিকে দায়ী করলেন: জামায়াত আমির ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিরোপা জয়ের রেকর্ডের সঙ্গে লাল কার্ডের রেকর্ডও ব্রাজিলের শেষ বত্রিশের দরজা খুলল যাদের জন্য, বিদায় নিল কারা কোলে সন্তান নিয়েই ইইউ বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী, গড়লেন নজির ‘আমি এখন কার জন্য বাঁচব?’—মা ও তিন বোনকে হারিয়ে সিফাতের আর্তনাদ ব্রাজিলকে আগেভাগেই হুঁশিয়ারি জাপানি স্ট্রাইকারের

কোলে সন্তান নিয়েই ইইউ বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী, গড়লেন নজির

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সাধারণত দেখা যায় কূটনীতি, নীতি নির্ধারণ আর দীর্ঘ আলোচনার দৃশ্য। তবে এবার সেই আনুষ্ঠানিক পরিবেশেই সবার নজর কেড়েছে এক ব্যতিক্রমী উপস্থিতি—মাত্র তিন মাস বয়সী এক শিশু।

লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের জলবায়ুবিষয়ক বৈঠকে নিজের ছেলে আদামকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন সুইডেনের জলবায়ুমন্ত্রী রোমিনা পোরমোখতারি। ইইউ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীদের এ ধরনের বৈঠকে কোনো শিশুর উপস্থিতির ঘটনা এবারই প্রথম।

রোমিনা জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে গিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন—উপযুক্ত পারিবারিক সহায়তা ও ছুটির ব্যবস্থা থাকলে নারীদের ক্যারিয়ার এবং পরিবার—দুটির মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে হয় না।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিবার ও কর্মজীবন একসঙ্গে সামলানো সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন দায়িত্ব ভাগাভাগিতে বিশ্বাসী একজন সহায়ক জীবনসঙ্গী এবং পরিবারবান্ধব সামাজিক ব্যবস্থা।

মাত্র ৩০ বছর বয়সে সুইডেনের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া রোমিনা সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফিরেছেন। বর্তমানে তার স্বামী পিতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন এবং সন্তান দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন। বৈঠকের সময় শিশুর দেখভালের জন্য তিনিও লুক্সেমবার্গে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বের অন্যতম উদার পিতৃত্ব ও মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে সুইডেনে। দেশটিতে বাবা-মা যৌথভাবে প্রায় ১৬ মাসের বেতনসহ ছুটি পান। এর একটি নির্দিষ্ট অংশ শুধুমাত্র মা এবং আরেকটি অংশ শুধুমাত্র বাবার জন্য সংরক্ষিত, যা অন্যজনের কাছে হস্তান্তর করা যায় না।

রোমিনার মতে, পরিবারবান্ধব নীতি শুধু দীর্ঘ ছুটি দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাবা-মায়ের জন্য নমনীয় কর্মপরিবেশ এবং সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি। এতে পরিবার যেমন উপকৃত হয়, তেমনি কর্মক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এদিকে পোল্যান্ডের উপ-জলবায়ুমন্ত্রী ক্রিশতোফ বোলেস্তা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছেন। তার ভাষায়, বৈঠকে একটি শিশুর উপস্থিতি কোনো সমস্যা তৈরি করেনি; বরং এটি জীবনেরই একটি স্বাভাবিক প্রতিচ্ছবি।

সব মিলিয়ে, কোলের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে অংশ নিয়ে শুধু নজিরই গড়েননি রোমিনা পোরমোখতারি, বরং পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্য নিয়ে নতুন এক আলোচনারও জন্ম দিয়েছেন।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাফিনিয়াকে ঘিরে দেউলিয়ার গুঞ্জন, চাঞ্চল্য ফুটবল মহলে

কোলে সন্তান নিয়েই ইইউ বৈঠকে সুইডিশ মন্ত্রী, গড়লেন নজির

আপডেট সময় ১২:০৮:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সাধারণত দেখা যায় কূটনীতি, নীতি নির্ধারণ আর দীর্ঘ আলোচনার দৃশ্য। তবে এবার সেই আনুষ্ঠানিক পরিবেশেই সবার নজর কেড়েছে এক ব্যতিক্রমী উপস্থিতি—মাত্র তিন মাস বয়সী এক শিশু।

লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউন্সিলের জলবায়ুবিষয়ক বৈঠকে নিজের ছেলে আদামকে সঙ্গে নিয়ে অংশ নেন সুইডেনের জলবায়ুমন্ত্রী রোমিনা পোরমোখতারি। ইইউ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রীদের এ ধরনের বৈঠকে কোনো শিশুর উপস্থিতির ঘটনা এবারই প্রথম।

রোমিনা জানান, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে গিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন—উপযুক্ত পারিবারিক সহায়তা ও ছুটির ব্যবস্থা থাকলে নারীদের ক্যারিয়ার এবং পরিবার—দুটির মধ্যে কোনো একটি বেছে নিতে হয় না।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পরিবার ও কর্মজীবন একসঙ্গে সামলানো সম্ভব। তবে এজন্য প্রয়োজন দায়িত্ব ভাগাভাগিতে বিশ্বাসী একজন সহায়ক জীবনসঙ্গী এবং পরিবারবান্ধব সামাজিক ব্যবস্থা।

মাত্র ৩০ বছর বয়সে সুইডেনের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া রোমিনা সম্প্রতি মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কাজে ফিরেছেন। বর্তমানে তার স্বামী পিতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন এবং সন্তান দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন। বৈঠকের সময় শিশুর দেখভালের জন্য তিনিও লুক্সেমবার্গে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বের অন্যতম উদার পিতৃত্ব ও মাতৃত্বকালীন ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে সুইডেনে। দেশটিতে বাবা-মা যৌথভাবে প্রায় ১৬ মাসের বেতনসহ ছুটি পান। এর একটি নির্দিষ্ট অংশ শুধুমাত্র মা এবং আরেকটি অংশ শুধুমাত্র বাবার জন্য সংরক্ষিত, যা অন্যজনের কাছে হস্তান্তর করা যায় না।

রোমিনার মতে, পরিবারবান্ধব নীতি শুধু দীর্ঘ ছুটি দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বাবা-মায়ের জন্য নমনীয় কর্মপরিবেশ এবং সাশ্রয়ী শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি। এতে পরিবার যেমন উপকৃত হয়, তেমনি কর্মক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

এদিকে পোল্যান্ডের উপ-জলবায়ুমন্ত্রী ক্রিশতোফ বোলেস্তা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেছেন। তার ভাষায়, বৈঠকে একটি শিশুর উপস্থিতি কোনো সমস্যা তৈরি করেনি; বরং এটি জীবনেরই একটি স্বাভাবিক প্রতিচ্ছবি।

সব মিলিয়ে, কোলের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী বৈঠকে অংশ নিয়ে শুধু নজিরই গড়েননি রোমিনা পোরমোখতারি, বরং পরিবার ও কর্মজীবনের ভারসাম্য নিয়ে নতুন এক আলোচনারও জন্ম দিয়েছেন।