ঢাকা , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৭, মৃত্যু নেই ‘লংমার্চের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে জামায়াত’: রাশেদ খাঁন ‘একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা সঠিক ছিল না, তারা তা মেনে নিয়েছে’: আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’খ্যাত অভিনেতা পাভেলের নতুন ভিডিও ভাইরাল, ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন হত্যা মামলায় চিত্রনায়ক মরতুজা পলাশ গ্রেপ্তার, অনিশ্চয়তায় অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’ সিনেমা ঢাকায় ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৬৪ এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবছে সরকার ছুটির দিনেও অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস, দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ ভাইরাল অডিওর ঘটনায় সাবেক ওসি রাকিবুলকে ডিবিতে জিজ্ঞাসাবাদ সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে তারা মালয়েশিয়া এজেন্সি সিন্ডিকেটে জড়িত নয়: জামায়াত আমির

ফোন করলেই হোম ডেলিভারিতে মিলছে মাদক, সীমান্তজুড়ে সক্রিয় সিন্ডিকেট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮৮ বার পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সীমান্তপথে মাদকের প্রবেশ এবং সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এর বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এখন নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে মাদক কেনার প্রয়োজন হচ্ছে না; ফোন করলেই চাহিদা অনুযায়ী পৌঁছে যাচ্ছে মাদক।

বিজিবি ও পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য, সীমান্তের নদীভাঙন ও পরিবর্তিত গতিপথের কারণে কয়েকটি এলাকায় টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উদয়নগরসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন রুটে মাদক পাচার করছে চোরাকারবারিরা। পদ্মা নদীর বিভিন্ন নৌপথও পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেটের চাহিদা বেশি। আকারে ছোট হওয়ায় এসব মাদক সহজে পরিবহন করা যায়। প্রশাসনের নজর এড়াতে সরাসরি বেচাকেনার বদলে ফোনে যোগাযোগ করে ‘হোম ডেলিভারি’র মাধ্যমে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

একটি সূত্রের দাবি, দৌলতপুরে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাদকের লেনদেন হয়। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, বিদেশি মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক।

অন্যদিকে, দৌলতপুর থানা পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে মাদকসংক্রান্ত ১০৬টি মামলা হয়েছে এবং ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের সবচেয়ে বড় শিকার তরুণ ও যুবসমাজ। এর প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের অপরাধও বাড়ছে।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, মাদকের বিস্তার বেড়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেনও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দৌলতপুরে মাদকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে টহল ও জনবল বাড়ানো হয়েছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে মাদক উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। যৌথ অভিযানের মাধ্যমেই মাদকের বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের মতে, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। ‘হোম ডেলিভারি’সহ নতুন কৌশলে পরিচালিত মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবি, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান জরুরি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৪৭, মৃত্যু নেই

ফোন করলেই হোম ডেলিভারিতে মিলছে মাদক, সীমান্তজুড়ে সক্রিয় সিন্ডিকেট

আপডেট সময় ০৬:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সীমান্তপথে মাদকের প্রবেশ এবং সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এর বিস্তার উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এখন নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে মাদক কেনার প্রয়োজন হচ্ছে না; ফোন করলেই চাহিদা অনুযায়ী পৌঁছে যাচ্ছে মাদক।

বিজিবি ও পুলিশের গোয়েন্দা সূত্রের ভাষ্য, সীমান্তের নদীভাঙন ও পরিবর্তিত গতিপথের কারণে কয়েকটি এলাকায় টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উদয়নগরসহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন রুটে মাদক পাচার করছে চোরাকারবারিরা। পদ্মা নদীর বিভিন্ন নৌপথও পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেটের চাহিদা বেশি। আকারে ছোট হওয়ায় এসব মাদক সহজে পরিবহন করা যায়। প্রশাসনের নজর এড়াতে সরাসরি বেচাকেনার বদলে ফোনে যোগাযোগ করে ‘হোম ডেলিভারি’র মাধ্যমে মাদক পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

একটি সূত্রের দাবি, দৌলতপুরে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাদকের লেনদেন হয়। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন, বিদেশি মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক।

অন্যদিকে, দৌলতপুর থানা পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে মাদকসংক্রান্ত ১০৬টি মামলা হয়েছে এবং ৭৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকের সবচেয়ে বড় শিকার তরুণ ও যুবসমাজ। এর প্রভাবে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি নানা ধরনের অপরাধও বাড়ছে।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, মাদকের বিস্তার বেড়েছে। এটি নিয়ন্ত্রণে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেনও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দৌলতপুরে মাদকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্তে টহল ও জনবল বাড়ানো হয়েছে। তবে দেশের অভ্যন্তরে মাদক উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা প্রয়োজন। যৌথ অভিযানের মাধ্যমেই মাদকের বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকদের মতে, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে এই অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। ‘হোম ডেলিভারি’সহ নতুন কৌশলে পরিচালিত মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবি, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান জরুরি।