ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এবার পালটা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিলো ইরান ককরোচ’দের আন্দোলনকে সমর্থন করায় ভারতে গ্রেপ্তার ৩ মুসলিম তরুণ দেশের ৭৬.৫% টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উদ্বেগ গুনে গুনে ঘুষ নেওয়া ভূমি কর্মকর্তা বরখাস্ত বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাসিনার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি: মাহমুদা মিতু জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর খাওয়ার পানির ট্যাংকে বিষ দিয়েছে সন্ত্রাসীরা: পুলিশ বিচার ও সংস্কারে কোনো আপস করবে না এনসিপি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প পথ নেই: মামুনুল হক ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গ্রিন সিগনালে কক্সবাজার-গাজীপুরে ছাত্রলীগের মিছিল’: ফেসবুক পোস্টে সারজিস আলম

দেশের ৭৬.৫% টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উদ্বেগ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৪৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের একটি বড় অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এক বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পরীক্ষার জন্য নেওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যা মোট নমুনার ৭৬.৫ শতাংশ।
পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) রোববার (২৬ জুলাই) এ গবেষণার ফল প্রকাশ করে। গবেষকদের দাবি, বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে।
গবেষণায় পাঁচটি টুথপেস্টে তুলনামূলক বেশি মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে, যা সর্বোচ্চ। ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, শিশুদের জন্য তৈরি কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে ১৪০টি এবং সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি কণা পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ভোক্তা সুরক্ষা ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন করে গুরুত্বের দাবি রাখে।
এদিকে, দেশব্যাপী ২ হাজার ৭৬০ জনের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনও সীমিত। জরিপে ৪১.৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা এ বিষয়ে আগে কিছুই জানতেন না। ৩১.৩ শতাংশ বিষয়টি সম্পর্কে শুনলেও বিস্তারিত জানেন না বলে জানান। মাত্র ২৬.৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে সচেতন বলে উল্লেখ করেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৫.৬ শতাংশ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড হিসেবে মেডিপ্লাসের নাম উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট ব্যবহার করেন ১৩.৮ শতাংশ এবং কোলগেট ব্যবহার করেন ১১.৩ শতাংশ উত্তরদাতা।
গবেষণার ফল প্রকাশের পর বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) জানিয়েছে, টুথপেস্টের জাতীয় মানদণ্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক-সংক্রান্ত বিষয় যুক্ত করার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংস্থাটির উপপরিচালক (রসায়ন) মো. মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমানে টুথপেস্টের মানদণ্ডে ৪০ ধরনের অনুমোদিত উপাদান ও কণার আকার নির্ধারণ করা আছে। নতুন গবেষণার তথ্য বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ইএসডিওর মতে, দেশে এখনও টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য সীমা, পরীক্ষার নির্দিষ্ট পদ্ধতি, বাধ্যতামূলক লেবেলিং বা পৃথক কোনো জাতীয় নীতিমালা নেই। তাই জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার পালটা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিলো ইরান

দেশের ৭৬.৫% টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৮:৪৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের একটি বড় অংশে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এক বছরের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পরীক্ষার জন্য নেওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে, যা মোট নমুনার ৭৬.৫ শতাংশ।
পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) রোববার (২৬ জুলাই) এ গবেষণার ফল প্রকাশ করে। গবেষকদের দাবি, বাংলাদেশে বাজারজাত টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হওয়ার এটিই প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা। নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে।
গবেষণায় পাঁচটি টুথপেস্টে তুলনামূলক বেশি মাত্রায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি কণা শনাক্ত হয়েছে, যা সর্বোচ্চ। ক্লোজআপ রেড হট ও ক্লোজআপ মেন্থল ফ্রেশে ১৬০টি করে, শিশুদের জন্য তৈরি কোডোমো আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা-স্ট্রবেরিতে ১৪০টি এবং সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি কণা পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ভোক্তা সুরক্ষা ও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নতুন করে গুরুত্বের দাবি রাখে।
এদিকে, দেশব্যাপী ২ হাজার ৭৬০ জনের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এখনও সীমিত। জরিপে ৪১.৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানান, তারা এ বিষয়ে আগে কিছুই জানতেন না। ৩১.৩ শতাংশ বিষয়টি সম্পর্কে শুনলেও বিস্তারিত জানেন না বলে জানান। মাত্র ২৬.৯ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে সচেতন বলে উল্লেখ করেন।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৩৫.৬ শতাংশ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ব্র্যান্ড হিসেবে মেডিপ্লাসের নাম উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ক্লোজআপ ও পেপসোডেন্ট ব্যবহার করেন ১৩.৮ শতাংশ এবং কোলগেট ব্যবহার করেন ১১.৩ শতাংশ উত্তরদাতা।
গবেষণার ফল প্রকাশের পর বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) জানিয়েছে, টুথপেস্টের জাতীয় মানদণ্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক-সংক্রান্ত বিষয় যুক্ত করার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংস্থাটির উপপরিচালক (রসায়ন) মো. মনজুরুল করিম বলেন, বর্তমানে টুথপেস্টের মানদণ্ডে ৪০ ধরনের অনুমোদিত উপাদান ও কণার আকার নির্ধারণ করা আছে। নতুন গবেষণার তথ্য বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ইএসডিওর মতে, দেশে এখনও টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য সীমা, পরীক্ষার নির্দিষ্ট পদ্ধতি, বাধ্যতামূলক লেবেলিং বা পৃথক কোনো জাতীয় নীতিমালা নেই। তাই জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় দ্রুত নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।