ঢাকা , সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
হাসপাতালের বাথরুমে মিলল সরকারি ওষুধ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ক্লিনিক সিলগালা বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা তদন্ত নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক নবম পে স্কেল অন্তত দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ আইএমএফের ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি চায় সিরিয়া বিদ্যালয়ে ‘আজ কেন মন উদাসী’ গানে শিক্ষিকার রিলস, তদন্তে কমিটি ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলার জবাব দিতে হবে: আরাগচি সামর্থ্যের অভাবে রোনালদোর নাম-জার্সি নম্বর হাতে লিখেছিলেন দিয়োমান্দে, তিনিই যাচ্ছেন রিয়ালে জাতিসংঘে হঠাৎ মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ফ্রান্স, তীব্র বাকযুদ্ধ মামদানির আপত্তি উপেক্ষা করে নিউইয়র্কে যাওয়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর এবার পালটা হামলা বন্ধের ঘোষণা দিলো ইরান

মামদানির আপত্তি উপেক্ষা করে নিউইয়র্কে যাওয়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে মামদানিকে কড়া ভাষায় আক্রমণও করেছেন তিনি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ইহুদিদের মধ্যে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা মামদানির চেয়েও কম।

মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে বলেছিলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। ইসরায়েলের সমালোচনা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি মামদানির সমর্থন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থি মহলের সমালোচনার মুখে ফেলেছে। তারা মামদানির এই অবস্থানকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘তিনি (মামদানি) ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। তার তো নিউইয়র্কের সব নাগরিকেরইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিম, সবার মেয়র হওয়ার কথা। কিন্তু তিনি এক গোষ্ঠীকে আরেক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। আমি ইহুদিআমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলি, তারা এখন ভীত।

অবশ্য গত জুন মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসএনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ এক হাজারের বেশি ইহুদি মার্কিন নাগরিকের ওপর চালানো এক জরিপে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। জরিপে দেখা যায়, ৪৪ শতাংশ ইহুদি প্রাপ্তবয়স্ক মামদানিকেকিছুটাবাখুবইইতিবাচকভাবে দেখেন। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ তাকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। আর প্রায় ২০ শতাংশের এ বিষয়ে কোনও মতামত নেই। অন্যদিকে মাত্র একতৃতীয়াংশ ইহুদি প্রাপ্তবয়স্ক নেতানিয়াহুকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। প্রায় ৬০ শতাংশ তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ তাকেখুবই নেতিবাচকভাবেমূল্যায়ন করেছেন। আর প্রায় ১০ শতাংশের এ বিষয়ে কোনও মতামত নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে নেতানিয়াহুর এ ধরনের বক্তব্য বর্তমান জনমতের সঙ্গে ক্রমেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় মামদানির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হলেও সাম্প্রতিক এপিএনওআরসি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিদের মধ্যে নেতানিয়াহুর চেয়ে মামদানির জনপ্রিয়তা বেশি। একই সঙ্গে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। প্রসঙ্গত, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।

নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করবেন। তবে সম্প্রতি তিনি স্পষ্ট করেন, নেতানিয়াহুকে তিনি যুদ্ধাপরাধী মনে করলেও নিউইয়র্ক সিটির নিজের কোনও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই। এ সপ্তাহে প্রকাশিত ইউগভএর এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত। বিপরীতে ২৮ শতাংশ মনে করেন, তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলেই ইসরায়েলের শক্তিশালী মিত্র এবং দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলপন্থিরা জনমতের এই পরিবর্তন ঠেকাতে কার্যকরভাবে সফল হয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের অগ্রাধিকার ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সেই যুদ্ধও ভোটাররা ভালোভাবে নেয়নি। রোববার নেতানিয়াহু বলেন, ইরান যদি আবারও ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়, তাহলে সেটি হবেভয়াবহ ভুলসাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা মামদানি ও তার স্ত্রীউদযাপনকরেছিলেন। তিনি বলেন, ‘মামদানি, তার স্ত্রী ও তার পরিবার ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড উদযাপন করেছে। এটি ছিল হলোকাস্টের পর ইহুদিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।অন্যদিকে জোহরান মামদানি বারবারই বলেছেন, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ছিলভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

হাসপাতালের বাথরুমে মিলল সরকারি ওষুধ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ক্লিনিক সিলগালা

মামদানির আপত্তি উপেক্ষা করে নিউইয়র্কে যাওয়ার ঘোষণা নেতানিয়াহুর

আপডেট সময় ১০:০৮:২৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির আপত্তি সত্ত্বেও জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একইসঙ্গে মামদানিকে কড়া ভাষায় আক্রমণও করেছেন তিনি। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কয়েকটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ইহুদিদের মধ্যে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা মামদানির চেয়েও কম।

মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে বলেছিলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত। ইসরায়েলের সমালোচনা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি মামদানির সমর্থন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলপন্থি মহলের সমালোচনার মুখে ফেলেছে। তারা মামদানির এই অবস্থানকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘তিনি (মামদানি) ঘৃণা ছড়াচ্ছেন। তার তো নিউইয়র্কের সব নাগরিকেরইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিম, সবার মেয়র হওয়ার কথা। কিন্তু তিনি এক গোষ্ঠীকে আরেক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। আমি ইহুদিআমেরিকানদের সঙ্গে কথা বলি, তারা এখন ভীত।

অবশ্য গত জুন মাসে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসএনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ এক হাজারের বেশি ইহুদি মার্কিন নাগরিকের ওপর চালানো এক জরিপে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে। জরিপে দেখা যায়, ৪৪ শতাংশ ইহুদি প্রাপ্তবয়স্ক মামদানিকেকিছুটাবাখুবইইতিবাচকভাবে দেখেন। বিপরীতে ৩৯ শতাংশ তাকে নেতিবাচকভাবে দেখেন। আর প্রায় ২০ শতাংশের এ বিষয়ে কোনও মতামত নেই। অন্যদিকে মাত্র একতৃতীয়াংশ ইহুদি প্রাপ্তবয়স্ক নেতানিয়াহুকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। প্রায় ৬০ শতাংশ তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ তাকেখুবই নেতিবাচকভাবেমূল্যায়ন করেছেন। আর প্রায় ১০ শতাংশের এ বিষয়ে কোনও মতামত নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে নেতানিয়াহুর এ ধরনের বক্তব্য বর্তমান জনমতের সঙ্গে ক্রমেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় মামদানির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা হলেও সাম্প্রতিক এপিএনওআরসি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিদের মধ্যে নেতানিয়াহুর চেয়ে মামদানির জনপ্রিয়তা বেশি। একই সঙ্গে ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালিয়েছে। প্রসঙ্গত, গাজায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।

নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তার করবেন। তবে সম্প্রতি তিনি স্পষ্ট করেন, নেতানিয়াহুকে তিনি যুদ্ধাপরাধী মনে করলেও নিউইয়র্ক সিটির নিজের কোনও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই। এ সপ্তাহে প্রকাশিত ইউগভএর এক জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা উচিত। বিপরীতে ২৮ শতাংশ মনে করেন, তাকে গ্রেপ্তার করা উচিত নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলেই ইসরায়েলের শক্তিশালী মিত্র এবং দেশটির রাজনীতিতে প্রভাব থাকা সত্ত্বেও, ইসরায়েলপন্থিরা জনমতের এই পরিবর্তন ঠেকাতে কার্যকরভাবে সফল হয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ও অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের অগ্রাধিকার ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সেই যুদ্ধও ভোটাররা ভালোভাবে নেয়নি। রোববার নেতানিয়াহু বলেন, ইরান যদি আবারও ইসরায়েলের ওপর হামলা চালায়, তাহলে সেটি হবেভয়াবহ ভুলসাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা মামদানি ও তার স্ত্রীউদযাপনকরেছিলেন। তিনি বলেন, ‘মামদানি, তার স্ত্রী ও তার পরিবার ৭ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ড উদযাপন করেছে। এটি ছিল হলোকাস্টের পর ইহুদিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড।অন্যদিকে জোহরান মামদানি বারবারই বলেছেন, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ছিলভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ