সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পারিবারিক কলহের জেরে বৃদ্ধা মায়ের মুখে লাথি মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক ছেলে মনিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৮ জুন) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার আহত আনোয়ারা বেগম (৭২) বাদী হয়ে তার বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম (৫৩) ও পুত্রবধূ ফেরদৌসি ইসলাম ঝর্ণা (৪৫)-এর বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার হওয়া মনিরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে এবং বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারা বেগমের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতেন না। স্বামীর মৃত্যুর পর তার নামে থাকা সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়া এবং তাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৬ জুন দুপুরে মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী লাঠিসোঁটা নিয়ে আনোয়ারা বেগমের ঘরে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে মনিরুল গরান কাঠের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। তিনি মাথা সরিয়ে নিলে আঘাত মুখে লেগে সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং ঠোঁট ফেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, পুত্রবধূ ঝর্ণা লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তা নাকে লাগে। এছাড়া মনিরুল মুখে লাথি মারেন এবং দুজন মিলে চড়, কিল-ঘুষি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। এ সময় আনোয়ারা বেগমকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার মেয়ে নাছিমা খাতুনকেও মারধর করা হয়।
পরে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। আনোয়ারা বেগম কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তার বক্তব্য অনুযায়ী থানায় এজাহার দায়ের করা হয়।
শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন জানান, মামলার অন্যতম আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















