চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছয় সমন্বয়ককে এদিনে হেফাজতে রেখে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষনা দেওয়ায় ডিবি পুলিশ। যদিও আত্মগোপনে থাকা দুই সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ও হান্নান মাসুদকে নির্যাতনের মুখে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেন। এদিন ১১ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করে জনমনের আতঙ্ক কাটানোর চেষ্টা চালায় ফ্যাসিবাদী সরকার। সেইসাথে সারাদেশে বহাল রাখে ব্লক রেইড। সে সময়ের স্বৈরাচার সরকারের হিসাবেই ১৭ থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সারাদেশে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ১৪৭ । সরাসরি ছাত্র–জনতার বুকে গুলি করেও যখন গণঅভ্যুত্থান দমানো যাচ্ছিলো না তখন ভিন্ন পথ নেয় সরকার।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে এর আগের ১০ দিনের সহিংসতায় নিহত ৩৪ পরিবারের সদস্যদের গণভবনে ডাকেন শেখ হাসিনা। যেখানে ছিল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাইদের পরিবারও। আর্থিক সহায়তা হিসেবে নিহতদের পরিবারের হাতে তুলে দেন সঞ্চয়পত্র এবং নগদ অর্থ। সেসময় বাংলাদেশকে নিয়ে খেলা বারবার খেলতে দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারিও দেন শেখ হাসিনা। ছাত্র–জনতার আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শীর্ষ সমন্বয়কদের দুইদিন ধরে হেফাজতে রাখে ডিবি। তাদের দিয়ে জোরপূর্বক কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ায় সেসময়ের ভাতের হোটেলের মালিক খ্যাত ডিবি হারুন।
যদিও জোর করে আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রতিবাদে পরেরদিন সারাদেশে বিক্ষোভের কর্মসূচি দেয় আত্মগোপনে থাকা সমন্বয়করা। এদিকে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিবৃতি দিয়ে জানান, সারাদেশে দলের নয় হাজারের বেশি নেতা–কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাবেক মন্ত্রী– এমপিসহ বিএনপির অসুস্থ সিনিয়র নেতাদের নিষিদ্ধ সন্ত্রাসীদের মতো পাঁচ থেকে সাত দিন করে রিমান্ডে নির্যাতনের প্রতিবাদ জানান তিনি। জুলাই অভ্যুত্থানের এদিনে অনেকটাই নির্ভার ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতারা। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, কোটা আন্দোলনের নামে শ্রীলঙ্কা স্টাইলে গণভবন দখলের পাঁয়তারা চলছে। দেশ–বিদেশে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে।
১০ দিনের সহিংসতার পর এদিন ভিন্ন ভিন্নভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরেন তখনকার ৩ মন্ত্রী। হতাহতের পরিসংখ্যান দিতে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তখনকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দাবি– জানমাল রক্ষায় আইন–শৃঙ্খলা বাহিনী বাধ্য হয়ে গুলি চালিয়েছে। আর দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে দিতে এ সব সহিংসতা বলে জ্ঞান দেন তখনকার আরেকমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে এসেছে ভেবে টানা দশ দিন বন্ধ থাকার পর এদিন বিকাল তিনটা থেকে চালু করা হয় মোবাইল ইন্টারনেট। নানা চেষ্টার পরও ছাত্র–জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ক্ষোভকে কোনোভাবেই আড়াল করতে পারেনি স্বৈরাচার সরকার। সর্বশ্রেণীর জনগনের অংশগ্রহনে আরো গতি পায় ফ্যাসিস্ট পতনের আন্দোলন।

ডেস্ক রিপোর্ট 























