ভারতের মহারাষ্ট্রের জলগাঁও জেলায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে আত্মহত্যার পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে উদ্বেগজনক এক চিত্র। পুলিশ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এ সময়ে জেলায় মোট ৪৩১ জন আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে ২৯ জন পুরুষের ক্ষেত্রে বিয়ে না হওয়া বা বিয়ের আলোচনা ভেঙে যাওয়াকে আত্মহত্যার সম্ভাব্য একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৩৮৩ জন পুরুষ, ২৯ জন নারী, ৮ জন কিশোর এবং ১১ জন কিশোরী। এতে দেখা যায়, পুরুষদের আত্মহত্যার সংখ্যা নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
পুলিশের তথ্যে বলা হয়েছে, আর্থিক সংকট, পারিবারিক কলহ, মানসিক অবসাদ, মাদক বা মদ্যপানের আসক্তি, ঋণের চাপ এবং দীর্ঘদিনের অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণ আত্মহত্যার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি ২৯ জন পুরুষের ক্ষেত্রে বিয়ে না হওয়া বা বিয়ের প্রক্রিয়া ভেঙে যাওয়ার বিষয়টিও একটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জলগাঁও জেলায় নারী-পুরুষের অনুপাত তুলনামূলকভাবে অসম। প্রতি এক হাজার পুরুষের বিপরীতে সেখানে প্রায় ৯২৫ জন নারী রয়েছেন, আর শহরাঞ্চলে এই সংখ্যা আরও কম। ফলে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পেতে দীর্ঘ সময় লাগা, সামাজিক চাপ এবং ব্যক্তিগত হতাশা অনেকের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আত্মহত্যার পেছনে সাধারণত একাধিক সামাজিক, অর্থনৈতিক ও মানসিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে। তাই কোনো একটি কারণকে এককভাবে দায়ী না করে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, সামাজিক সহায়তা জোরদার করা এবং সংকটে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















