ঢাকার সাভারের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে গোপনে ঘোড়া জবাই করে সেই মাংস রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় সরবরাহের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ইয়ারপুর ইউনিয়নের তৈয়বপুর এলাকায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রেন ও ময়লার ভাগাড়সংলগ্ন নির্জন ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে গভীর রাতে ঘোড়া এনে জবাই করা হতো। এরপর মাংস প্রক্রিয়াজাত করে ভোরের দিকে প্যাকেটজাত অবস্থায় বিভিন্ন যানবাহনে করে রাজধানীর উত্তরা, কাশিমপুর ও আশুলিয়ার বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিরিয়ানির দোকানে পাঠানো হতো। অভিযোগ রয়েছে, এসব মাংস খাসি বা গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করা হতো।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, রংপুর মার্কেট এলাকার আলফাজ নামে এক ব্যক্তি এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে ঘটনাস্থলে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বর্জ্য সংগ্রাহক জানান, কয়েকদিন পরপর তাকে ওই বাড়ির পাশে ডেকে কিছু বস্তা সরিয়ে নিতে বলা হতো। বস্তাগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতো এবং মাঝে মধ্যেই সেগুলোর ভেতরে রক্তাক্ত ও পচা বর্জ্য দেখা যেত।
ইয়ারপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য আছমা বেগম বলেন, পরিত্যক্ত বাড়িটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানা গুঞ্জন ছিল। বাড়িটির সামনে ও পেছনে আলাদা প্রবেশপথ থাকায় গোপনে যাতায়াত করা সহজ ছিল বলেও জানান তিনি।
এদিকে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগটি প্রশাসনের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























