ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বাংলাদেশ পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করতে চায় ইরান ডোনাল্ড লুর চাপে সরানো হয়েছিল ইমরান খানকে, গোপন তথ‍্য ফাঁস মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে যেভাবে অগ্রিম আয়কর আদায় করা হবে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পশ্চিমবঙ্গ কোরবানি বন্ধের চেষ্টা হলে লাখো মানুষ নিয়ে প্রতিরোধের হুঁশিয়ারি: হুমায়ুন কবির শেখ হাসিনার প্রতি আমাদের ইনসাফ থাকবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা এবারের হজে খুতবা অনুবাদ করা হবে বাংলাসহ ৫০টি ভাষায় হাম পরিস্থিতি শিখিয়েছে, আজকের দায়িত্বহীনতা ভবিষ্যতের সংকট: তথ্যমন্ত্রী ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর: অর্থমন্ত্রী

সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নেই জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতা: আখতার হোসেন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্ভাব্য জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে যখন দলটির ভেতর-বাইরে তীব্র সমালোচনা চলছে, তখন সেই বিতর্কে ব্যাখ্যা তুলে ধরলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন জানান, সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নেই জামায়াতসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে এনসিপির মতের মিল তৈরি হয়েছে।

পোস্টে তিনি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গেই অন্য দলগুলোর মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হতো। সেখানে সংস্কারের পয়েন্টগুলোতে ন্যাচারালি (স্বাভাবিকভাবেই) এনসিপি, জামায়াত এবং অন্য দলগুলো একমত হয়েছে।’ তিনি বলেন, দেশটাকে নতুন করে গড়া, ‘নতুনভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে গড়ে তোলার জন্য যে রাজনীতি, সে রাজনীতির প্রতি যে কমিটমেন্ট সেটাকেই নির্বাচনী রাজনীতিতে জোটের বা সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধানতম বিবেচ্য বিষয় হিসেবে এটাকে মূল্যায়ন করছি।’

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে জোট গঠনের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। যেকোনো সময় এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার খবরে এনসিপির ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে। শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ৩০ জন নেতা এই সমঝোতার বিরোধিতা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা পদত্যাগ করেছেন। তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। পাশাপাশি এনসিপির আরও কয়েকজন নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যা দলীয় অস্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দলীয় সূত্র জানায়, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মোট ২১৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৮৪ জনই জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, জামায়াতের সঙ্গে যেকোনো রাজনৈতিক জোট বা সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন শীর্ষ নেতা দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে এই উদ্যোগকে ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ এবং ‘দলের আদর্শিক আত্মহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জোটবিরোধী এই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, ফরিদুল হক, মো. ফারহাদ আলম ভূঁইয়া ও ইমন সৈয়দ; কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন; যুগ্ম আহ্বায়ক অর্পিতা শ্যামা দেব; নুসরাত তাবাসসুম; খালেদ সাইফুল্লাহসহ কেন্দ্র ও অঞ্চলভিত্তিক একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও আলোচিত ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ

সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নেই জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির সমঝোতা: আখতার হোসেন

আপডেট সময় ১০:৫৪:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্ভাব্য জোট বা নির্বাচনী সমঝোতা নিয়ে যখন দলটির ভেতর-বাইরে তীব্র সমালোচনা চলছে, তখন সেই বিতর্কে ব্যাখ্যা তুলে ধরলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আখতার হোসেন জানান, সংস্কার ও রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নেই জামায়াতসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে এনসিপির মতের মিল তৈরি হয়েছে।

পোস্টে তিনি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনে সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গেই অন্য দলগুলোর মতভিন্নতা পরিলক্ষিত হতো। সেখানে সংস্কারের পয়েন্টগুলোতে ন্যাচারালি (স্বাভাবিকভাবেই) এনসিপি, জামায়াত এবং অন্য দলগুলো একমত হয়েছে।’ তিনি বলেন, দেশটাকে নতুন করে গড়া, ‘নতুনভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে গড়ে তোলার জন্য যে রাজনীতি, সে রাজনীতির প্রতি যে কমিটমেন্ট সেটাকেই নির্বাচনী রাজনীতিতে জোটের বা সমঝোতার ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধানতম বিবেচ্য বিষয় হিসেবে এটাকে মূল্যায়ন করছি।’

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে জোট গঠনের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। যেকোনো সময় এই জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার খবরে এনসিপির ভেতরে ব্যাপক অসন্তোষও প্রকাশ পেয়েছে। শনিবার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির অন্তত ৩০ জন নেতা এই সমঝোতার বিরোধিতা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা পদত্যাগ করেছেন। তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। পাশাপাশি এনসিপির আরও কয়েকজন নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যা দলীয় অস্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে দলীয় সূত্র জানায়, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মোট ২১৪ জন সদস্যের মধ্যে ১৮৪ জনই জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, জামায়াতের সঙ্গে যেকোনো রাজনৈতিক জোট বা সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন শীর্ষ নেতা দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে এই উদ্যোগকে ‘জাতির সঙ্গে প্রতারণা’ এবং ‘দলের আদর্শিক আত্মহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। জোটবিরোধী এই স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, ফরিদুল হক, মো. ফারহাদ আলম ভূঁইয়া ও ইমন সৈয়দ; কেন্দ্রীয় সংগঠক আরমান হোসাইন; যুগ্ম আহ্বায়ক অর্পিতা শ্যামা দেব; নুসরাত তাবাসসুম; খালেদ সাইফুল্লাহসহ কেন্দ্র ও অঞ্চলভিত্তিক একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।