ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার স্বপ্ন দেখেন প্রতিটি খেলোয়াড়। আর সেই স্বপ্নের দুয়ারে যখন সুযোগ এসে কড়া নাড়ে, তখন জীবনের অন্যান্য পরিকল্পনাগুলো গৌণ হয়ে যায়। নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষক মাইকেল উড ঠিক তেমনটাই করলেন। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে কিউই দলে ডাক পাওয়ায় নিজের বিয়ের অনুষ্ঠান পিছিয়ে দিয়েছেন তিনি।
অকল্যান্ড এফসির ২৭ বছর বয়সী গোলরক্ষক মাইকেল উড গত বছর বাগদান করেছিলেন জানা রেন্টনের সঙ্গে। জুন-জুলাইয়ে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের সময়সীমার মধ্যেই বিয়ের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন তারা। কিন্তু কোচ ড্যারেন বাজেলির ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে ডাক পাওয়ার পর সব পরিকল্পনা বদলে যায়।
বিশ্বকাপে হয়তো মাঠে নামার সুযোগ নাও মিলতে পারে, কিন্তু উডের কাছে দলে থাকাটাই অনেক বড় অর্জন। চার বছর পর পর আসা এই সুযোগটি হাতছাড়া করতে চাননি উড। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমার বাগদত্তা খুবই সমর্থন দিয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য বিয়ে পিছিয়ে দেওয়া খারাপ কিছু নয়। জীবনে চার বছর পরপর এমন সুযোগ আসে। আমরা আগামী বছর বিয়ে করব।’
বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার পথটা উডের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। মৌসুমের মাঝপথে ফর্মহীনতায় অকল্যান্ডের মূল একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের জোরে আবার সুযোগ আসে যখন দলের মূল গোলরক্ষক অলিভার সেইল চোটে ছিটকে পড়েন। সেই সুযোগের দারুণ ব্যবহার করেছেন উড। অকল্যান্ড এফসির ঐতিহাসিক প্রথম এ-লিগ শিরোপা জয়ে তিনি পালন করেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। মেলবোর্ন সিটির বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি ঠেকানো কিংবা সিডনি এফসির বিপক্ষে গ্র্যান্ড ফাইনালে ক্লিন শিট রাখা—সব মিলিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থেকেই জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন তিনি।
দলের তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে বিশ্বকাপে যাচ্ছেন উড। নিজের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বেশ বাস্তববাদী। তিনি বলেন, ‘আমার ভূমিকা পরিষ্কার। অন্য গোলরক্ষকদের সহায়তা করা ও প্রয়োজন হলে নিজের সেরাটা দেওয়া।’
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড গ্রুপ পর্বে মুখোমুখি হবে ইরান, মিসর ও বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের। উডের মতো নিবেদিতপ্রাণ খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে নিউজিল্যান্ড দল বড় মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার অপেক্ষায় আছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















