ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাত্তর নিয়ে বক্তেব্যের পর দুঃখ প্রকাশ করলেন আইন উপদেষ্টা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:০৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫
  • ৩৯৮ বার পড়া হয়েছে

এবার ‘শেখ হাসিনা ও তার দোসররা যে অপরাধ বাংলাদেশে করেছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীও মনে হয় এত জঘন্য অপরাধ করেনি’ এমন মন্তব্য করার কয়েক ঘন্টা পরই দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন।

আসিফ নজরুল লিখেছেন, শেখ হাসিনার নৃশংসতা অবিশ্বাস্য। লাশ ও আহত মানুষকে আগুনে পোড়ানো, নির্বিচারে নারী-কিশোর-শিশু হত্যা, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করে বেসামরিক মানুষ মারা, মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতর তরুণকে গুলি করে মারা, হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে হত্যা করার নির্দেশদাতা ছিলেন শেখ হাসিনা। যুদ্ধের ময়দানেও এসব কর্মকান্ডকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তিনি আরও লিখেছেন, কিন্তু তাই বলে তার নৃশংসতার সঙ্গে একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার তুলনা করা ঠিক হয়নি আমার। দুটোই জঘন্যতম অপরাধ। আমার কথায় যারা ভেবেছেন আমি একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞকে ছোট করে দেখেছি, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। এর আগে, মঙ্গলবার (২৯ জুলাই)  জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হওয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনা ও তথ্য প্রদর্শনীতে হাসিনার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতার তুলনা করেন আসিফ নজরুল।

সেখানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দোসররা যে অপরাধ বাংলাদেশে করেছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীও মনে হয় এত জঘন্য অপরাধ করেনি। মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা, আহতদের গুলি করে মেরে ফেলা, নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা বলতে পারেন, ২৫ মার্চ কালরাতে হয়েছে। অবশ্যই হয়েছে, ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ওটা তো অন্য দেশের বাহিনী। আমরা তো স্বাধীনতা ঘোষণা করেছি তারপর।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলেছে, এরকম কোনো ফুটেজ আমি দেখিনি। ১৯৭১ সালে একজন গুলি খেয়েছে, তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তার বন্ধু, সে অবস্থায় তাকে গুলি করেছে। কোনো মুক্তিযোদ্ধার এমন কোনো বর্ণনা আমি পড়িনি বা ফুটেজ দেখিনি। অন্যরকম নৃশংসতা থাকতে পারে, কিন্তু এরকম নৃশংসতা করেনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

একাত্তর নিয়ে বক্তেব্যের পর দুঃখ প্রকাশ করলেন আইন উপদেষ্টা

আপডেট সময় ০২:০৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

এবার ‘শেখ হাসিনা ও তার দোসররা যে অপরাধ বাংলাদেশে করেছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীও মনে হয় এত জঘন্য অপরাধ করেনি’ এমন মন্তব্য করার কয়েক ঘন্টা পরই দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখ প্রকাশ করেন।

আসিফ নজরুল লিখেছেন, শেখ হাসিনার নৃশংসতা অবিশ্বাস্য। লাশ ও আহত মানুষকে আগুনে পোড়ানো, নির্বিচারে নারী-কিশোর-শিশু হত্যা, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করে বেসামরিক মানুষ মারা, মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতর তরুণকে গুলি করে মারা, হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে হত্যা করার নির্দেশদাতা ছিলেন শেখ হাসিনা। যুদ্ধের ময়দানেও এসব কর্মকান্ডকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তিনি আরও লিখেছেন, কিন্তু তাই বলে তার নৃশংসতার সঙ্গে একাত্তরে বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার তুলনা করা ঠিক হয়নি আমার। দুটোই জঘন্যতম অপরাধ। আমার কথায় যারা ভেবেছেন আমি একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞকে ছোট করে দেখেছি, তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। এর আগে, মঙ্গলবার (২৯ জুলাই)  জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হওয়া হত্যাকাণ্ডের বিচার বিষয়ে আয়োজিত এক আলোচনা ও তথ্য প্রদর্শনীতে হাসিনার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতার তুলনা করেন আসিফ নজরুল।

সেখানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার দোসররা যে অপরাধ বাংলাদেশে করেছে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীও মনে হয় এত জঘন্য অপরাধ করেনি। মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা, আহতদের গুলি করে মেরে ফেলা, নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। আপনারা বলতে পারেন, ২৫ মার্চ কালরাতে হয়েছে। অবশ্যই হয়েছে, ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু ওটা তো অন্য দেশের বাহিনী। আমরা তো স্বাধীনতা ঘোষণা করেছি তারপর।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলেছে, এরকম কোনো ফুটেজ আমি দেখিনি। ১৯৭১ সালে একজন গুলি খেয়েছে, তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে তার বন্ধু, সে অবস্থায় তাকে গুলি করেছে। কোনো মুক্তিযোদ্ধার এমন কোনো বর্ণনা আমি পড়িনি বা ফুটেজ দেখিনি। অন্যরকম নৃশংসতা থাকতে পারে, কিন্তু এরকম নৃশংসতা করেনি।