ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
তালাকের মুহূর্ত ভিডিও করে পোস্ট, বিতর্কের মুখে টিকটকার তীব্র তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে এসি-ফ্যান কেনার হিড়িক, দোকানে ভাঙচুর-সংঘর্ষ কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে বড় দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা কালিমা পড়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলার টেটে জুলাই নিয়ে নিলুফারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ছাত্রদল সভাপতির এলপিজির দাম কমলো ৩৫৭ টাকা, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর খামেনির মরদেহ নেওয়া হবে ঐতিহাসিক কারবালায় জুলাই নিয়ে পোস্টে সমালোচনাকারীদের কটাক্ষ করলেন শাওন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপ চাই না: চিফ হুইপ ভারতে যে হারে মসজিদ ভাঙা হয়, সে হারে কি বাংলাদেশে মন্দির ভাঙা হয়: প্রশ্ন চিফ হুইপের

১৩ জনকে বাঁচাতে জীবন দিলেন হাসান: মিশরের তরুণ বীরের গল্পে দেশজুড়ে শোক ও গর্ব

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
  • ৮১৮ বার পড়া হয়েছে

নিজের জীবন বাজি রেখে ১৩ জন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছিলেন মাত্র ২২ বছর বয়সী হাসান আহমেদ আল গাজ্জার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেই রক্ষা পেলেন না। মিশরের সিনাই অঞ্চলের মেনিয়েল দোয়েইব গ্রামের এই তরুণের অমর বীরত্ব এখন পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

একটি মিনিবাসের টায়ার বিস্ফোরিত হয়ে নদীতে পড়ে গেলে ঘটনাটি সামনে থেকেই দেখেন হাসান। সাঁতার না জানলেও এক মুহূর্ত দেরি না করে পানিতে ঝাঁপ দেন। ডুবে থাকা মিনিবাসের পেছনের দরজা ভেঙে তিনি একে একে ১৩ জন ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। কিন্তু অতিরিক্ত পরিশ্রম, আতঙ্ক ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আর ভেসে থাকতে পারেননি। ক্লান্ত শরীরটি শেষ পর্যন্ত নদীর গভীরে তলিয়ে যায়—বাঁচাতে গিয়ে নিজেই হারালেন প্রাণ।

দরিদ্র পরিবারের জীবিকা সন্ধানে সিনাইয়ে গিয়েছিলেন হাসান। ঘরে রয়েছে স্ত্রী ও তিনটি কন্যাশিশু—যাদের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। শোকে ভেঙে পড়া বাবা জানান, “আমার ছেলে একজন নায়ক হয়ে মরেছে। আমি তার জন্য গর্বিত।” মাত্র দুই দিন পরই ছিল হাসানের জন্মদিন—পুত্রের জন্য কেক কিনে তাকে দেখতে যাওয়ার পথে বাবা পেয়েছিলেন মৃত্যুসংবাদ।

মায়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা জানিয়েছিল হাসান তার শেষ ফোনকলে—যে ইচ্ছা আর পূরণ হলো না।

হাসানের পরিবার সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে—তার স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ যেন সুরক্ষিত করা হয়, আর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার বীরত্ব যেন স্বীকৃতি পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাকে জাতীয় বীর, শহিদ ও রাষ্ট্রীয় পদকের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরছেন। তারা লিখছেন, হাসানের আত্মদান শুধু ১৩টি প্রাণই নয়, অসংখ্য পরিবারের কান্না থামিয়েছে।

মানবতা, সাহস ও আত্মত্যাগের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকলো হাসান আহমেদ আল গাজ্জারের নাম—যে নাম আজ মিশরের মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তালাকের মুহূর্ত ভিডিও করে পোস্ট, বিতর্কের মুখে টিকটকার

১৩ জনকে বাঁচাতে জীবন দিলেন হাসান: মিশরের তরুণ বীরের গল্পে দেশজুড়ে শোক ও গর্ব

আপডেট সময় ১১:৩৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫

নিজের জীবন বাজি রেখে ১৩ জন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে মৃত্যুর মুখ থেকে উদ্ধার করেছিলেন মাত্র ২২ বছর বয়সী হাসান আহমেদ আল গাজ্জার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিজেই রক্ষা পেলেন না। মিশরের সিনাই অঞ্চলের মেনিয়েল দোয়েইব গ্রামের এই তরুণের অমর বীরত্ব এখন পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

একটি মিনিবাসের টায়ার বিস্ফোরিত হয়ে নদীতে পড়ে গেলে ঘটনাটি সামনে থেকেই দেখেন হাসান। সাঁতার না জানলেও এক মুহূর্ত দেরি না করে পানিতে ঝাঁপ দেন। ডুবে থাকা মিনিবাসের পেছনের দরজা ভেঙে তিনি একে একে ১৩ জন ছাত্রীকে উদ্ধার করেন। কিন্তু অতিরিক্ত পরিশ্রম, আতঙ্ক ও মানসিক চাপের কারণে তিনি আর ভেসে থাকতে পারেননি। ক্লান্ত শরীরটি শেষ পর্যন্ত নদীর গভীরে তলিয়ে যায়—বাঁচাতে গিয়ে নিজেই হারালেন প্রাণ।

দরিদ্র পরিবারের জীবিকা সন্ধানে সিনাইয়ে গিয়েছিলেন হাসান। ঘরে রয়েছে স্ত্রী ও তিনটি কন্যাশিশু—যাদের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে। শোকে ভেঙে পড়া বাবা জানান, “আমার ছেলে একজন নায়ক হয়ে মরেছে। আমি তার জন্য গর্বিত।” মাত্র দুই দিন পরই ছিল হাসানের জন্মদিন—পুত্রের জন্য কেক কিনে তাকে দেখতে যাওয়ার পথে বাবা পেয়েছিলেন মৃত্যুসংবাদ।

মায়ের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা জানিয়েছিল হাসান তার শেষ ফোনকলে—যে ইচ্ছা আর পূরণ হলো না।

হাসানের পরিবার সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে—তার স্ত্রী ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ যেন সুরক্ষিত করা হয়, আর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার বীরত্ব যেন স্বীকৃতি পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তাকে জাতীয় বীর, শহিদ ও রাষ্ট্রীয় পদকের দাবিদার হিসেবে তুলে ধরছেন। তারা লিখছেন, হাসানের আত্মদান শুধু ১৩টি প্রাণই নয়, অসংখ্য পরিবারের কান্না থামিয়েছে।

মানবতা, সাহস ও আত্মত্যাগের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকলো হাসান আহমেদ আল গাজ্জারের নাম—যে নাম আজ মিশরের মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।