পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আন্দোলনকারী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। একই সঙ্গে নির্বাচন চলাকালে প্রাণঘাতী সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। খবর আল জাজিরার।
সোমবার প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে জেএএসির অন্তত ২০ জন সমর্থক নিহত হন বলে বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন সংগঠনটির নেতা সারদার ওমর নাজির।
তিনি আরও বলেন, পরদিন রাওয়ালাকোট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ চলাকালে আরও অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।
ভিডিও বার্তায় নাজির বলেন, আমাদের দাবি ছিল শান্তিপূর্ণ। আমরা আন্দোলন অহিংস রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের অভিযোগকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এসিএলইডির জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পিয়ার প্যান্ডিয়া বলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান সহিংসতা পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
সোমবার মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বার জেলায় প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামী ২ আগস্ট ও ১০ আগস্ট আরও দুই দফায় ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম দফার নির্বাচনে অংশ নেওয়া ১৩টি আসনের মধ্যে নয়টিতে জয় পেয়েছে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)।
গত জুনে স্থানীয় সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়। এর পর থেকে অঞ্চলটির ব্যাংকিং সেবা, সড়ক যোগাযোগ ও ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় তথ্যপ্রবাহও সীমিত হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, কাশ্মীরি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ভারত-সমর্থিত সশস্ত্র ব্যক্তিরাও যুক্ত ছিলেন। তবে ভারত অতীতের মতো এবারও এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণার সিদ্ধান্ত আইনসম্মত নয় এবং এর ভিত্তিতে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ইসাবেল লাসি পাকিস্তানকে সব ধরনের যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু করা এবং গণমাধ্যম ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের ওই এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আঞ্চলিক নির্বাচন নিয়ে জেএএসির অন্যতম প্রধান দাবি হলো কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আইনসভা আসন বাতিল করা।
সংগঠনটির সমর্থকদের অভিযোগ, এসব আসন ব্যবহার করে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক দলগুলো মূলত অঞ্চলের বাইরে বসবাসকারী ভোটারদের মাধ্যমে স্থানীয় পার্লামেন্টের ভারসাম্য নিজেদের পক্ষে নিয়ে যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি বলেন, সরকার গঠনের জন্য পিএমএল-এনকে সম্ভবত ওই ১২টি সংরক্ষিত আসনের প্রতিনিধিদের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে।
তিনি বলেন, যখন সরকারের টিকে থাকাই ওই বিতর্কিত ১২টি আসনের ওপর নির্ভরশীল, তখন এই সমস্যার সমাধান তারা কীভাবে করবে?
এদিকে সোমবার ভোট বর্জন না করা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও নির্বাচনের ফল নিয়ে আপত্তি তুলেছে। তারা একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যালট বাক্স ছিনতাই এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ করেছে।
সূত্র : আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট 


















