কিশোরগঞ্জের ভৈরবের একটি গ্রামে বাজারের নাম নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ দিন পর থানায় ৯০ জনকে আসামি করে দুটি মামলা করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ও আজ শুক্রবার সকালে মামলা দুটি রেকর্ড করা হয়। তার মধ্য মাসুদ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম বাদী হয়ে ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করা হয়।
এছাড়া হিরন হত্যা মামলায় তার ভাই রতন মিয়া বাদী হয়ে ৪০ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় আজ শুক্রবারও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গত ২৭ জুলাই সোমবার বাজারের নামকরণ নিয়ে ভৈরবের দুটি গ্রামের দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনার সময় দুইজন নিহত হয়। এর পর থেকে প্রায় শতাধিক বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট করা হয়। এমনকি অন্তত ২০টি বসত বাড়ীতর আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে প্রতিপক্ষরা।
ঘটনার দিন গত সোমবার মিরারচর গ্রামের মাসুদ ও হিরণ আকবরনগরবাসীর বল্লমের আঘাতে মারা যায়। পরে লাশের ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার তাদের দাফন করা হয়। দাফন শেষ করে মিরারচরবাসী আকবরনগর গ্রামে হামলা লুটপাট শুরু করে। গত দুদিন ধরে চলছে লুটপাট ভাংচুর। নিহতের ঘটনার পর আকবরনগর গ্রামের মানুষ বাড়ীঘর ফেলে পুলিশ ও মিরারচরবাসীর ভয়ে পালিয়েছে। এখন গ্রামটি মানুষ শূন্য হয়ে যাওয়ায় লুটপাট ভাংচুর চলছে। প্রতিপক্ষরা বাড়ীঘর ভাংচুর, লুটপাট করে ঘরের মূল্যবান জিনিষপত্র নিয়ে যাচ্ছে, এমন অভিযোগ করছে ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, ভৈরবের গ্রামে বাজারের নাম নিয়ে আকবরনগর ও মিরারচর গ্রামবাসীর মধ্য গত সোমবার সংঘর্ষ হয়। বাজারটির নাম আকবরনগর কিন্ত মিরারচরবাসী চাই দুই গ্রাম আকবরনগর-মিরারচর নাম রাখতে। এতে আপত্তি আকবরনগর গ্রামবাসীর। মৌজার নাম আকবরনগর তাই আকবরনগর নামটি থাকবে এটা ওই গ্রামবাসীর দাবি।
এ নিয়ে গত সোমবার দুইপক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে দুইজন নিহত ও অর্ধশত আহত হয়। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা এদিন ৬ ঘন্টা চেষ্টা করে পরিস্থিতি শান্ত করলেও এখন চলছে ভাংচুর লুটপাট। মিরারচর গ্রামের দুইজন নিহত হওয়ায় আকবরনগরবাসী এখন বেকায়দায় রয়েছে। হত্যা মামলা ও পুলিশের ভয়ে তারা বাড়ীঘর ফেলে পালিয়ে গেছে।
আজ শুক্রবার দুপুরে দিকে আকবরনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামটি মানুষ শূন্য হয়ে আছে। তবে গ্রামে কয়েকজন বৃদ্ধ নারী-পুরুষকে দেখা যায়। গ্রামে পুরুষ নেই বললেই চলে।
গ্রামের সালমা বেগম বলেন, গত দুদিন যাবত মিরারচর গ্রামের মানুষ আমাদের গ্রামের বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট করছে। এখনো চলছে।
আতাউল্লা বলেন, আমার চোখের সামনে বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট করে নিয়ে যাচ্ছে তারা। ঘরের ফ্রিজ, টিন, হাট, থালাবাসন, চেয়ার টেবিল সবই লুট করছে তারা। তার বাড়ীর সবাই ভয়ে পালিয়ে গেছে বলে তিনি জানান।
গ্রামটি ঘুরে দেখা যায় কমপক্ষে শ’খানেক বাড়ীঘর ভাংচুর লুটপাট হয়েছে। এমনকি আকবরনগর বাজারের কয়েকটি দোকানপাট লুট হয়ে গেছে। অনেক বাড়ীতে প্রতিপক্ষরা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে দেখা যায়।
এবিষয়ে কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. জামাল মিয়া বলেন, বাজারের নাম নিয়ে দ্বন্দ চলছে কয়েক বছর যাবত। আমরা দুই পক্ষকে থামাতে পারছি না। এখন দুইজন খুন হলো। তাই আকবরনগর গ্রামে লুটপাট ভাংচুর করছে মিরারচরবাসী। পুলিশও পারছেনা তাদেরকে দমন করতে। একই ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, আকবরনগর গ্রামের মানুষ পুলিশ ও প্রতিপক্ষের ভয়ে পালিয়েছে। তাই গ্রামে অরাজকতা লুটপাট ভাংচুর করছে মিরাচরবাসী। তাদেরকে আমরা দমন করতে ব্যর্থ হয়েছি।
কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ লিটন মিয়া বলেন, বাজারটি আমার ইউনিয়নের আকবরনগর মৌজাতে অবস্থিত। ঘটনার দ্বন্দ অনেক আগে থেকে। এখন মিরারচর গ্রামের দুইজন খুন হয়েছে বলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে এসব করছে। যেখানে পুলিশও অসহায় সেখানে আমরা কি করব। যা হবার তা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবুর রহমান জানান, হত্যার ঘটনায় গতকাল ও আজ শুক্রবার দুটি মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিব। আজও এলাকায় পুলিশ মোতায়েন আছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















