ঢাকা , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আমরা ইরানের ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালিয়েছি: ট্রাম্প ভবিষ্যতে জনগণ আর রাজনীতিবিদদের সম্মান করবে না: জামায়াত আমির প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজে সমর্থন দেশের ৭৫.৩ শতাংশ মানুষের ফাউল হলে তখনই কেন খেলা থামানো হল না, প্রশ্ন মরিনহোর যুদ্ধবিরতি ভাঙলে মধ্যপ্রাচ্যের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হবে: ইরান আর্জেন্টিনার জয় যেন দিনের আলোয় ডাকাতি: জোসে মরিনিয়ো বহিষ্কারের পরেও যদি কেউ অপকর্ম করে সে দায় যুবদলের নয়: যুবদল সভাপতি শেষ মুহূর্তে যান্ত্রিক ত্রুটির বার্তা, এরপরই যাত্রীসহ নিখোঁজ পাকিস্তানের বিমান বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক আর্জেন্টিনার পর এবার ফ্রান্স ম্যাচে ৫ আর্জেন্টাইন রেফারি

এসআইয়ের থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটল যুবদল নেতার!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩৫৪ বার পড়া হয়েছে

এবার টাঙ্গাইলের গোপালপুরে যুবদল নেতাকে ডেকে নিয়ে থাপ্পর দিয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে গোপালপুর থানার একটি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। আহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার আলমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা যায়, আলমনগর ইউনিয়নের নবগ্রাম উত্তর চরপাড়ার মৃত মান্নানের দুই ছেলে, মিঠু আকন্দ ও মিজু আকন্দের জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সোমবার (২৫ আগস্ট) সালিশ বসে। কিন্তু সালিশে মিঠু আকন্দ উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পরদিন মঙ্গলবার বাড়িতে পুলিশ নিয়ে হাজির হন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হন। তারা পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে এই ঘটনায় ফোন করে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামকে থানায় ডেকে নেয়া হয়।

এরপর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত ভিপির উপস্থিতিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে বৈঠক বসে। সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে যুবদল নেতা আমিনুল ও এসআই রাসেলকে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রুম থেকে বেরিয়ে আসার পর আরেকটি কক্ষে নিয়ে এসআই রাসেল তাকে সজোরে থাপ্পড় দেন। এরপর আর কানে শুনতে পাচ্ছি না। কানে তীব্র ব্যথা অনুভবের পাশাপাশি কানের পর্দা ফেটে গেছে।’

গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল বলেন, ‘জরুরিসেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর সেখানে আমিনুল অভিযোগকারীদের পুলিশের সামনে মারধর করেন। পরে তাকে সেখান থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ওসির নির্দেশে তাকে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। সেখানে তাকে মারধর করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত জানান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওপেল চৌধুরীসহ আলমনগর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে মীমাংসার জন্য থানার ওসির কক্ষে বৈঠক করছিলেন। এ সময় এসআই রাসেলের সঙ্গে ওই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খাইরুল আলম জানান, আমিনুল ইসলামের কানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে যেহেতু কানে না শোনার কথা বলছিলেন, তাই পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল রেফার করা হয়েছে। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘যুবদল নেতা আমিনুল পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছিলেন। তাকে থানায় ডেকে আনা হয়েছিল। পরে দায়িত্বরত এসআইয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। নেতাদের ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা ইরানের ‘বিপজ্জনক’ ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালিয়েছি: ট্রাম্প

এসআইয়ের থাপ্পড়ে কানের পর্দা ফাটল যুবদল নেতার!

আপডেট সময় ১০:৫২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

এবার টাঙ্গাইলের গোপালপুরে যুবদল নেতাকে ডেকে নিয়ে থাপ্পর দিয়ে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেলের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে গোপালপুর থানার একটি কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। আহত আমিনুল ইসলাম উপজেলার আলমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা যায়, আলমনগর ইউনিয়নের নবগ্রাম উত্তর চরপাড়ার মৃত মান্নানের দুই ছেলে, মিঠু আকন্দ ও মিজু আকন্দের জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সোমবার (২৫ আগস্ট) সালিশ বসে। কিন্তু সালিশে মিঠু আকন্দ উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পরদিন মঙ্গলবার বাড়িতে পুলিশ নিয়ে হাজির হন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হন। তারা পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে এই ঘটনায় ফোন করে ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামকে থানায় ডেকে নেয়া হয়।

এরপর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত ভিপির উপস্থিতিতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে বৈঠক বসে। সেখানে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে যুবদল নেতা আমিনুল ও এসআই রাসেলকে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রুম থেকে বেরিয়ে আসার পর আরেকটি কক্ষে নিয়ে এসআই রাসেল তাকে সজোরে থাপ্পড় দেন। এরপর আর কানে শুনতে পাচ্ছি না। কানে তীব্র ব্যথা অনুভবের পাশাপাশি কানের পর্দা ফেটে গেছে।’

গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল বলেন, ‘জরুরিসেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর সেখানে আমিনুল অভিযোগকারীদের পুলিশের সামনে মারধর করেন। পরে তাকে সেখান থেকে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর ওসির নির্দেশে তাকে থানা হাজতে রাখা হয়েছিল কিছু সময়ের জন্য। সেখানে তাকে মারধর করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত জানান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ওপেল চৌধুরীসহ আলমনগর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে মীমাংসার জন্য থানার ওসির কক্ষে বৈঠক করছিলেন। এ সময় এসআই রাসেলের সঙ্গে ওই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খাইরুল আলম জানান, আমিনুল ইসলামের কানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে যেহেতু কানে না শোনার কথা বলছিলেন, তাই পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল রেফার করা হয়েছে। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘যুবদল নেতা আমিনুল পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছিলেন। তাকে থানায় ডেকে আনা হয়েছিল। পরে দায়িত্বরত এসআইয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। নেতাদের ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি।’