ঢাকা , রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নরওয়ের বিপক্ষে ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত নেইমার, জানালেন আনচেলত্তি মরক্কোর কাছে ৩-০ গোলে হারল কানাডা মেহেরপুরে ১১ দলীয় জোটের গণমিছিল, গণরায় বাস্তবায়নের দাবি পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত নেইমার: আনচেলত্তি ৩ মিনিটে বাণিজ্যমন্ত্রীকে ৮৬ বার ‘স্যার’ ডাকার কারণ জানালেন কৃষি কর্মকর্তা যাদের ডাকে সন্তান মারা গেলো তারাই খোঁজ নেয় নাই: জুলাই শহীদের মা স্বপ্নের নেতা তারেক রহমানের বাংলাদেশ গড়ব আমরা: মির্জা ফখরুল ‘আর্জেন্টিনার খেলা দেখে টেনশন হচ্ছিল’ বলার পর নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি ফিফা সভাপতির আমাকে থামাতে চাইলে মেরে ফেলতে হবে: মমতা যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি পরীক্ষিত বন্ধু : বিরোধীদলীয় নেতা

মানিকগঞ্জে প্যারালাইজড বৃদ্ধা মায়ের লাশ ডোবায়, বড় ছেলে-ছেলের বৌ-নাতি গ্রেফতার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:১৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৫ বার পড়া হয়েছে

 

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় লক্ষ্মী রাজবংশী (৭০) নামে এক প্যারালাইজড বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে তার বড় ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের ছোট ছেলে ঝন্টু রাজবংশীর দায়ের করা হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—নিহতের বড় ছেলে রঞ্জিত রাজবংশী, পুত্রবধূ পার্বতী রানী রাজবংশী এবং নাতি পিয়াস রাজবংশী

মামলার বাদী ঝন্টু রাজবংশী বলেন,

“রোববার রাত একটার দিকে মায়ের ঘরে গিয়ে দেখি তিনি নেই। সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। সকালে দেখি বাড়ির সামনের ডোবায় মায়ের লাশ ভাসছে। মা প্যারালাইজড ছিলেন, নিজের থেকে সেখানে যেতে পারেন না। আমার মা‌কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা লিমন কাজী বলেন,

“লক্ষ্মী রাজবংশী পাঁচ বছর ধরে প্যারালাইজড ছিলেন। তিনি হাঁটাচলা করতে পারতেন না। তাই ডোবায় পড়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক।”

নিহতের বড় মেয়ে কামনা রাজবংশী জানান,

“দুই বছর মা আমার সঙ্গে টাঙ্গাইলে ছিলেন। আমার তিন ভাইয়ের কেউ মায়ের খরচ দিত না। আট দিন আগে বড় ভাই রঞ্জিত মাকে নিয়ে যায়। এখন মা আর নেই। আমি এর বিচার চাই।”

সাটুরিয়া থানার ওসি মো. শাহিনুল ইসলাম জানান,

“হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”

উল্লেখ্য, সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বটতলা এলাকার বাড়ির সামনের ডোবা থেকে বৃদ্ধা লক্ষ্মী রাজবংশীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নরওয়ের বিপক্ষে ৯০ মিনিট খেলতে প্রস্তুত নেইমার, জানালেন আনচেলত্তি

মানিকগঞ্জে প্যারালাইজড বৃদ্ধা মায়ের লাশ ডোবায়, বড় ছেলে-ছেলের বৌ-নাতি গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৭:১৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

 

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় লক্ষ্মী রাজবংশী (৭০) নামে এক প্যারালাইজড বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে তার বড় ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের ছোট ছেলে ঝন্টু রাজবংশীর দায়ের করা হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে বুধবার (২২ অক্টোবর) রাতে তাদের আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—নিহতের বড় ছেলে রঞ্জিত রাজবংশী, পুত্রবধূ পার্বতী রানী রাজবংশী এবং নাতি পিয়াস রাজবংশী

মামলার বাদী ঝন্টু রাজবংশী বলেন,

“রোববার রাত একটার দিকে মায়ের ঘরে গিয়ে দেখি তিনি নেই। সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। সকালে দেখি বাড়ির সামনের ডোবায় মায়ের লাশ ভাসছে। মা প্যারালাইজড ছিলেন, নিজের থেকে সেখানে যেতে পারেন না। আমার মা‌কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা লিমন কাজী বলেন,

“লক্ষ্মী রাজবংশী পাঁচ বছর ধরে প্যারালাইজড ছিলেন। তিনি হাঁটাচলা করতে পারতেন না। তাই ডোবায় পড়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি সন্দেহজনক।”

নিহতের বড় মেয়ে কামনা রাজবংশী জানান,

“দুই বছর মা আমার সঙ্গে টাঙ্গাইলে ছিলেন। আমার তিন ভাইয়ের কেউ মায়ের খরচ দিত না। আট দিন আগে বড় ভাই রঞ্জিত মাকে নিয়ে যায়। এখন মা আর নেই। আমি এর বিচার চাই।”

সাটুরিয়া থানার ওসি মো. শাহিনুল ইসলাম জানান,

“হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”

উল্লেখ্য, সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে উপজেলার দড়গ্রাম ইউনিয়নের পূর্ব বটতলা এলাকার বাড়ির সামনের ডোবা থেকে বৃদ্ধা লক্ষ্মী রাজবংশীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।