ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবরি মসজিদ’ পুনর্নির্মাণে মাথায় করে ইট আনছে স্থানীয়রা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:৪৯:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৫৩ বার পড়া হয়েছে

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় আজ শনিবার ‘বাবরি মসজিদ’ নামেই একটি নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কর্মসূচি ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এদিন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে মানুষের ঢল নামে। অনেকে মাথায় করে ইট নিয়ে এসে প্রতীকী অংশগ্রহণ জানান।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা বাড়ায়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বেলডাঙা থানা এলাকা ও আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় ও রাজ্য পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, অনুষ্ঠানের আগে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। উত্তর বারাসাতের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামকে মাথায় ইট তুলে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়।

বেলডাঙার বাসভবন থেকে কড়া নিরাপত্তায় রওনা দেওয়ার সময় হুমায়ুন কবীর জানান, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনার পর পুলিশ তাকে পূর্ণ সমর্থন ও নিরাপত্তা দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আজ বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। পুলিশ আমাকে সহযোগিতা করছে, আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসন অনুষ্ঠান আয়োজকদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে।”

কলকাতা হাইকোর্ট মুর্শিদাবাদে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত রাজ্য সরকারকে জানিয়েছে, শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, সিআইএসএফের ১৯টি কোম্পানি ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে মোতায়েন রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে র‌্যাফসহ মোট ৩৫০০ জন নিরাপত্তা সদস্য রেজিনগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। জাতীয় সড়ক ১২ নম্বর রুটের নিরাপত্তায় বিএসএফের দুটি কোম্পানি প্রস্তুত রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখা এবং নাগরিকদের জীবন-সম্পত্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবরি মসজিদ’ পুনর্নির্মাণে মাথায় করে ইট আনছে স্থানীয়রা

আপডেট সময় ০৭:৪৯:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ৩৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় আজ শনিবার ‘বাবরি মসজিদ’ নামেই একটি নতুন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কর্মসূচি ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ও উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এদিন মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে মানুষের ঢল নামে। অনেকে মাথায় করে ইট নিয়ে এসে প্রতীকী অংশগ্রহণ জানান।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা বাড়ায়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বেলডাঙা থানা এলাকা ও আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় ও রাজ্য পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, অনুষ্ঠানের আগে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। উত্তর বারাসাতের বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামকে মাথায় ইট তুলে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়।

বেলডাঙার বাসভবন থেকে কড়া নিরাপত্তায় রওনা দেওয়ার সময় হুমায়ুন কবীর জানান, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনার পর পুলিশ তাকে পূর্ণ সমর্থন ও নিরাপত্তা দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আজ বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করব। পুলিশ আমাকে সহযোগিতা করছে, আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসন অনুষ্ঠান আয়োজকদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে।”

কলকাতা হাইকোর্ট মুর্শিদাবাদে কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়াতে না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত রাজ্য সরকারকে জানিয়েছে, শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, সিআইএসএফের ১৯টি কোম্পানি ইতোমধ্যে অঞ্চলটিতে মোতায়েন রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে র‌্যাফসহ মোট ৩৫০০ জন নিরাপত্তা সদস্য রেজিনগর ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। জাতীয় সড়ক ১২ নম্বর রুটের নিরাপত্তায় বিএসএফের দুটি কোম্পানি প্রস্তুত রয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা কঠোরভাবে বজায় রাখা এবং নাগরিকদের জীবন-সম্পত্তি সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব।