ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ উপলক্ষে ৪০ হাজার মানুষকে খাওনো হলো বিরিয়ানি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় একটি নতুন ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে করা হয়েছে বিশাল এক আয়োজন। সৌদি আরব থেকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আলেমদের। সেইসঙ্গে ৪০ হাজার মানুষের জন্য রান্না করা হয়েছে বিরিয়ানি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেস ও বিজেপি ঘুরে তৃণমূলে আসেন মুর্শিদাবাদের প্রভাবশালী নেতা হুমায়ুন কবির। গত বৃহস্পতিবার দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বহিস্কার করা হয়। এর মধ্যেই তিনি এই মসজিদ নিয়ে উঠেপড়ে লেগে আছেন। বহিস্কার নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বা প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে কোনোভাবেই বিচলিত নন এই নেতা। হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, শনিবার মোরাদিঘির কাছে ২৫ বিঘা জুড়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ জড়ো হবেন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত হবে এখানে। তিনি আরও জানান, কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিশেষ কনভয়ে করে সৌদি আরব থেকে দুজন আলেম আসবেন।

রাজ্যের একমাত্র উত্তর-দক্ষিণ মহাসড়ক এনএইচ-১২ লাগোয়া বিশাল এক এলাকায় চলছে এই আয়োজন। মুর্শিদাবাদের সাতটি কেটারিং প্রতিষ্ঠানকে শাহি বিরিয়ানি রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হুমায়ুন কবিরের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানান, অতিথিদের জন্য প্রায় ৪০ হাজার প্যাকেট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আরও ২০ হাজার প্যাকেট তৈরি করা হচ্ছে। শুধু খাবারের ব্যয়ই ৩০ লাখ রুপির বেশি হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে আয়োজনের বাজেট ৬০–৭০ লাখ রুপিতে পৌঁছাবে বলে জানান হুমায়ুন কবির।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের জন্য ধানখেতের ওপর ১৫০ ফুট লম্বা ও ৮০ ফুট চওড়া এক বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এ মঞ্চে প্রায় ৪০০ অতিথির বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শুধু এই মঞ্চের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ রুপি। আয়োজকরা জানান, প্রায় ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ২ হাজার জন শুক্রবার ভোর থেকেই কাজ শুরু করেছেন। তারা এই বড় জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশপথ সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা ও এনএইচ-১২–তে যাতে জ্যাম না লেগে যায় সেই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।

শুক্রবার হুমায়ুন কবির জানান, সকাল ১০টায় কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর দুপুর ১২টায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠিত হবে। আনুষ্ঠানিকতা দুই ঘণ্টা আগে থেকেই শুরু হবে। পুলিশি নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাল ৪টার মধ্যে মাঠ খালি করা হবে। এদিকে এত বিশাল আয়োজন প্রশাসনের উদ্বেগও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনার পর জেলা পুলিশ হুমায়ুন কবিরের দলের সঙ্গে এক দফা আলোচনায় বসে। জনশৃঙ্খলা বজায় এবং এনএইচ-১২–তে যান চলাচল ঠিক রাখতে বৈঠক করে তারা।

জেলা পুলিশের সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানান, বেলডাঙা ও রানীনগর থানার আওতাজুড়ে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধান উদ্বেগ হচ্ছে জাতীয় মহাসড়ক সচল রাখা। সদর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এসে গেছে। একাধিক ডাইভারশন পরিকল্পনা প্রস্তুত আছে। ইতোমধ্যে এই মসজিদ তৈরির উদ্যোগ তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি করছে। হুমায়ুন কবিরের জন্য এই আয়োজন একদিকে যেমন জনসমাবেশ গঠনের পরীক্ষা, তেমনি একপ্রকার প্রতিরোধ প্রদর্শনও। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপত্তাবলয়ের চিন্তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ আসবে, কারণ এটি এই এলাকার জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণ উপলক্ষে ৪০ হাজার মানুষকে খাওনো হলো বিরিয়ানি

আপডেট সময় ০৪:৪০:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

এবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় একটি নতুন ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে এই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে করা হয়েছে বিশাল এক আয়োজন। সৌদি আরব থেকে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আলেমদের। সেইসঙ্গে ৪০ হাজার মানুষের জন্য রান্না করা হয়েছে বিরিয়ানি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেস ও বিজেপি ঘুরে তৃণমূলে আসেন মুর্শিদাবাদের প্রভাবশালী নেতা হুমায়ুন কবির। গত বৃহস্পতিবার দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে বহিস্কার করা হয়। এর মধ্যেই তিনি এই মসজিদ নিয়ে উঠেপড়ে লেগে আছেন। বহিস্কার নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বা প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে কোনোভাবেই বিচলিত নন এই নেতা। হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের জানান, শনিবার মোরাদিঘির কাছে ২৫ বিঘা জুড়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ জড়ো হবেন। বিভিন্ন রাজ্য থেকে ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত হবে এখানে। তিনি আরও জানান, কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিশেষ কনভয়ে করে সৌদি আরব থেকে দুজন আলেম আসবেন।

রাজ্যের একমাত্র উত্তর-দক্ষিণ মহাসড়ক এনএইচ-১২ লাগোয়া বিশাল এক এলাকায় চলছে এই আয়োজন। মুর্শিদাবাদের সাতটি কেটারিং প্রতিষ্ঠানকে শাহি বিরিয়ানি রান্নার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হুমায়ুন কবিরের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী জানান, অতিথিদের জন্য প্রায় ৪০ হাজার প্যাকেট এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আরও ২০ হাজার প্যাকেট তৈরি করা হচ্ছে। শুধু খাবারের ব্যয়ই ৩০ লাখ রুপির বেশি হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে আয়োজনের বাজেট ৬০–৭০ লাখ রুপিতে পৌঁছাবে বলে জানান হুমায়ুন কবির।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের জন্য ধানখেতের ওপর ১৫০ ফুট লম্বা ও ৮০ ফুট চওড়া এক বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এ মঞ্চে প্রায় ৪০০ অতিথির বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শুধু এই মঞ্চের নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ রুপি। আয়োজকরা জানান, প্রায় ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ২ হাজার জন শুক্রবার ভোর থেকেই কাজ শুরু করেছেন। তারা এই বড় জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশপথ সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা ও এনএইচ-১২–তে যাতে জ্যাম না লেগে যায় সেই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।

শুক্রবার হুমায়ুন কবির জানান, সকাল ১০টায় কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর দুপুর ১২টায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠিত হবে। আনুষ্ঠানিকতা দুই ঘণ্টা আগে থেকেই শুরু হবে। পুলিশি নির্দেশনা অনুযায়ী বিকাল ৪টার মধ্যে মাঠ খালি করা হবে। এদিকে এত বিশাল আয়োজন প্রশাসনের উদ্বেগও বাড়িয়ে দিয়েছে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশনার পর জেলা পুলিশ হুমায়ুন কবিরের দলের সঙ্গে এক দফা আলোচনায় বসে। জনশৃঙ্খলা বজায় এবং এনএইচ-১২–তে যান চলাচল ঠিক রাখতে বৈঠক করে তারা।

জেলা পুলিশের সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানান, বেলডাঙা ও রানীনগর থানার আওতাজুড়ে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। তিনি বলেন, আমাদের প্রধান উদ্বেগ হচ্ছে জাতীয় মহাসড়ক সচল রাখা। সদর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত ফোর্স এসে গেছে। একাধিক ডাইভারশন পরিকল্পনা প্রস্তুত আছে। ইতোমধ্যে এই মসজিদ তৈরির উদ্যোগ তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি করছে। হুমায়ুন কবিরের জন্য এই আয়োজন একদিকে যেমন জনসমাবেশ গঠনের পরীক্ষা, তেমনি একপ্রকার প্রতিরোধ প্রদর্শনও। রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপত্তাবলয়ের চিন্তা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষ আসবে, কারণ এটি এই এলাকার জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত।’