বিদ্যালয়ে সিনিয়রকে ‘তুই’ সম্বোধন করায় মাথা ফাটলো দুই শিক্ষার্থীর
শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার লোনসিং উচ্চ বিদ্যালয়ে সিনিয়রকে ‘তুই’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে নবম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহতরা হলেন হাবিব শিকদার (১৬) ও বাধন ছৈয়াল (১৬)।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুর ১টার দিকে বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মূলফৎগঞ্জে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নড়িয়া থানা-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগীদের পরিবার।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের ক্লাস বিরতির সময় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী অভিযুক্ত মাফুজ মুন্সির সঙ্গে ‘তুই’ সম্বোধন করে কথা বলাকে কেন্দ্র করে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিব শিকদারের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মাফুজ তার সহপাঠী তামিম সরদারসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে হাবিবকে মারধর শুরু করে। হাবিবকে বাঁচাতে তার সহপাঠী বাধন এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়।
পরে বিদ্যালয় ছুটির পর দুপুর ১টার দিকে হাবিব ও বাধন তাদের ব্যাগ আনতে বিদ্যালয়ে গেলে বিদ্যালয়ের সামনে আবারও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করলে হাবিব শিকদার ও বাধন ছৈয়াল গুরুতর আহত হয়। তাদের মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হাবিবের বড় ভাই নাজিম শিকদার বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে আমার ভাই ও তার সহপাঠী বাধনের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অভিযুক্ত মাহফুজ মুন্সির চাচা শাহিন মুন্সী বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। বিদ্যালয় থেকে আমাদের ডাকা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আপনারা আর কিছু কইরেন না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাস্টার শাহ আলম বলেন, ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরে আমরা অভিভাবকদের ডেকেছি। রবিবার এ বিষয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাহার মিয়া বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















