ঢাকা , সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ছেলেকে বলেছিলাম মিষ্টি আর কমদামি শাড়ি আইনো, কিন্তু তা আর আনা হলো না’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

‘গতকাল রাতে মোবাইলে কথা হয়েছিল সাগরের সঙ্গে। পরিবারের খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি সে আমার কাছে জানতে চেয়েছিল মা, ঈদে কী আনব? তখন তাকে বলেছিলাম আমার জন্য মিষ্টি আর কমদামি শাড়ি আইনো। তা হয়তো কিনেও নিয়েছিল। কিন্তু তা আর আনা হলো না। সাগরের সঙ্গে তার বাবা নোয়াখালীতে চুল কেনা-বেচার ব্যবসা করত’—এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা ট্রাক উল্টে নিহত মোহাম্মদ সাগরের মা শরিফা বিবি।

 

 

ওই দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়; যার মধ্যে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের অধিকাংশেরই বাড়ি জেলার মান্দা উপজেলায়। নিহতদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামেরই ৭ জন। পরিবারগুলোতে এখন চলছে শোকের মাতম।

 

 

নিহতরা হলেন, উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক (২১), আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল বারেক (২৬), আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা (৩১), একাব্বরের ছেলে সোহাগ (২১), শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল (৩২) এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর (২২), মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম (৩৪) আছির উদ্দিনের ছেলে রকি (৩৫) এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল (১৮) ও মোহাম্মদ গিয়াস।

 

 

দুর্ঘটনায় নিহত তারেকের মা মোমেনা বেগম জানান, তার দুই ছেলে নোয়াখালীতে চুল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। গত রাতেও কথা হয় ছোট ছেলে তারেক জিয়া ও বড় ছেলে মনসুরের সঙ্গে। ছোট ছেলেকে নিষেধ করেছিলেন খোলা ট্রাকে আসতে। কিন্তু সকালেই জানতে পারেন ট্রাক চাপায় বুকের ধন চলে গেছে না ফেরার দেশে। আর বড় ছেলে আহত হয়ে ভর্তি আছেন হাসপাতালে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা সবাই নোয়াখালীতে ফেরি করে চুল ও পরিত্যক্ত জিনিস কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। মান্দা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্ন আয়ের শতাধিক মানুষ প্রতিবছর নোয়াখালীতে গিয়ে ঝুট ব্যবসা করেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে যাতায়াত করতেন তারা।

 

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত নওগাঁ জেলার ১৩ জনের নিহত হওর খবর পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

 

 

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ছেলেকে বলেছিলাম মিষ্টি আর কমদামি শাড়ি আইনো, কিন্তু তা আর আনা হলো না’

আপডেট সময় ০৯:৪৭:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

‘গতকাল রাতে মোবাইলে কথা হয়েছিল সাগরের সঙ্গে। পরিবারের খোঁজখবর নেয়ার পাশাপাশি সে আমার কাছে জানতে চেয়েছিল মা, ঈদে কী আনব? তখন তাকে বলেছিলাম আমার জন্য মিষ্টি আর কমদামি শাড়ি আইনো। তা হয়তো কিনেও নিয়েছিল। কিন্তু তা আর আনা হলো না। সাগরের সঙ্গে তার বাবা নোয়াখালীতে চুল কেনা-বেচার ব্যবসা করত’—এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা ট্রাক উল্টে নিহত মোহাম্মদ সাগরের মা শরিফা বিবি।

 

 

ওই দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলার বিভিন্ন উপজেলায়; যার মধ্যে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের অধিকাংশেরই বাড়ি জেলার মান্দা উপজেলায়। নিহতদের মধ্যে রাজেন্দ্রবাটি গ্রামেরই ৭ জন। পরিবারগুলোতে এখন চলছে শোকের মাতম।

 

 

নিহতরা হলেন, উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের বাসিন্দা সুলতানের ছেলে মোহাম্মদ তারেক (২১), আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুল বারেক (২৬), আব্দুর রহিমের ছেলে মোহাম্মদ বাদশা (৩১), একাব্বরের ছেলে সোহাগ (২১), শহিদুলের ছেলে মোহাম্মদ রবিউল (৩২) এবং মোহাম্মদ সাকিমের ছেলে মোহাম্মদ সাগর (২২), মুর্শিদপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোহাম্মদ মইনুর ইসলাম (৩৪) আছির উদ্দিনের ছেলে রকি (৩৫) এবং পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের দুই ছেলে মোহাম্মদ মাইনুল (১৮) ও মোহাম্মদ গিয়াস।

 

 

দুর্ঘটনায় নিহত তারেকের মা মোমেনা বেগম জানান, তার দুই ছেলে নোয়াখালীতে চুল কেনাবেচার ব্যবসা করতেন। গত রাতেও কথা হয় ছোট ছেলে তারেক জিয়া ও বড় ছেলে মনসুরের সঙ্গে। ছোট ছেলেকে নিষেধ করেছিলেন খোলা ট্রাকে আসতে। কিন্তু সকালেই জানতে পারেন ট্রাক চাপায় বুকের ধন চলে গেছে না ফেরার দেশে। আর বড় ছেলে আহত হয়ে ভর্তি আছেন হাসপাতালে।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা সবাই নোয়াখালীতে ফেরি করে চুল ও পরিত্যক্ত জিনিস কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। মান্দা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্ন আয়ের শতাধিক মানুষ প্রতিবছর নোয়াখালীতে গিয়ে ঝুট ব্যবসা করেন। মাঝেমধ্যে বাড়িতে যাতায়াত করতেন তারা।

 

 

নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত নওগাঁ জেলার ১৩ জনের নিহত হওর খবর পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ১০ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।