প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী Bobi Hajjaj ববি হাজ্জাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং ইউনিভার্সিটি’ আখ্যা দিয়ে এর গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। সম্প্রতি ‘SameerScane’কে দেওয়া এক পডকাস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এসময় তার সহধর্মিণী ব্যারিস্টার রাশনা ইমামও উপস্থিত ছিলেন।
পডকাস্টে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং সেই জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করে University of Dhaka ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি তো বলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং। ইউনিভার্সিটি সিস্টেমটা তৈরি হয় নতুন জ্ঞান সৃষ্টি এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সব বিশ্ববিদ্যালয় তো আর প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয় না। কিছু প্রতিষ্ঠান আসলে কোচিং সেন্টারের মতো কাজ করে। এগুলোকেই পরে ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ বলা শুরু হয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় মূলত ‘টিচিং ইউনিভার্সিটি’ বা ‘কোচিং ইউনিভার্সিটি’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই কোচিং ইউনিভার্সিটি। আসল নাম টিচিং ইউনিভার্সিটি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে ববি হাজ্জাজ বলেন, “আজকে North South University নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি এবং BRAC University ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি যে পরিমাণ গবেষণা করে, তার কানাকড়িও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় করে না। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় ভর্তুকিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান।”
তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু গবেষণাপত্রে প্লেজারিজম বা চৌর্যবৃত্তির ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, “যা দুই একটা পাবলিশ হয়, তার অনেকগুলোই প্লেজারাইজড। নিজেদের জার্নালে প্রকাশ করে, পরে ধরা পড়লেও সংশ্লিষ্টরা প্রমোশন পেয়েছে—এমন উদাহরণও আছে।”
এসময় অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে হওয়া একটি বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “একজন ভিসি বলেছিলেন, ১০ টাকায় চা, সিঙ্গারা, সিগারেট পাওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো ওই কোয়ালিটিতেই রয়ে গেছে।”
তবে সমালোচনার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের স্টেট রিসোর্স। এটাকে এমন জায়গায় নিতে হবে, যেখানে এটা আর কোচিং সেন্টার বা ১০ টাকার চা-সিঙ্গারার স্টেশন না থেকে সত্যিকারের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়।”

ডেস্ক রিপোর্ট 
























