ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না: পেজেশকিয়ান দেশে ফিরে বীরের সংবর্ধনা পেলেন বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ সেই রেফারি থানা হেফাজতে পুশইন হওয়া বৃদ্ধ, মিলেছে নিজ ঠিকানা আরোহীর মাথায় ইট ছুঁড়ে বাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা চমকে দিয়েছে দেশবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা ইরানের শিবিরের বট ও অ্যাক্টিভিস্টরা বারবার আমার ফাঁসির দাবি তুলছেন: মাহফুজ জোরপূর্বক পুশইন চেষ্টা, বাংলাদেশিদের ধাওয়ায় পালাল ভারতীয়রা বোমা হামলা বন্ধ করতে ফোন করেছিল ইরানের শীর্ষ নেতারা: ট্রাম্পের দাবি জীবন বাঁচাতে চুপ আছি, কিন্তু গালি কেন থামছে না: মাহফুজ  মধ্যপ্রাচ্যের ১৮ মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক হামলার দাবি ইরানের

রাজনৈতিক নেতার পাশবিকতার শিকার কিশোরী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

বুধবার (১০ জুন) চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার রবিউল হাসানের সার্বিক নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব এবং মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম হানিরপাড় এলাকার মো. কাইয়ুম মাল (৩৬) এবং একই এলাকার মোসা. তানিয়া আক্তার (২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাইয়ুম মাল কলাকান্দা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ভুক্তভোগীর মা জীবিকার তাগিদে বিদেশে চলে গেলে ওই শিক্ষার্থী তার বড় বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর অভিযুক্ত কাইয়ুম মাল, অপর অভিযুক্ত ভিকটিমের বড় বোন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।

 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি পারিবারিকভাবে ভুক্তভোগীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসা প্রতিবেদনে তিনি ৭ মাসের (২৮ সপ্তাহ) অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

 

এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় এফআইআর নং-২০, জিআর নং-৩৬৭, তারিখ ১০ জুন ২০২৬ মূলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারা এবং পেনাল কোডের ৫০৬(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, এসআই সাদেকুর রহমান, এসআই সুমন চন্দ্র দাস ও এসআই মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পশ্চিম হানিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, এটি শুধু একটি ধর্ষণের ঘটনা নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের নির্মম উদাহরণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভিকটিমের আপন বড় বোনই তার ছোট বোনের ওপর সংঘটিত এই জঘন্য অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, মতলব উত্তর থানা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়ে ভিকটিমের অভিযোগ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মূল আসামি এবং তার সহায়তাকারী অপর আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে। অপরাধ নির্মুলে পুলিশ সর্বদা সোচ্চার রয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না: পেজেশকিয়ান

রাজনৈতিক নেতার পাশবিকতার শিকার কিশোরী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা!

আপডেট সময় ১২:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে এক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

বুধবার (১০ জুন) চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার রবিউল হাসানের সার্বিক নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব এবং মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার পশ্চিম হানিরপাড় এলাকার মো. কাইয়ুম মাল (৩৬) এবং একই এলাকার মোসা. তানিয়া আক্তার (২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাইয়ুম মাল কলাকান্দা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ভুক্তভোগীর মা জীবিকার তাগিদে বিদেশে চলে গেলে ওই শিক্ষার্থী তার বড় বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর অভিযুক্ত কাইয়ুম মাল, অপর অভিযুক্ত ভিকটিমের বড় বোন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে।

 

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি পারিবারিকভাবে ভুক্তভোগীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসা প্রতিবেদনে তিনি ৭ মাসের (২৮ সপ্তাহ) অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়।

 

এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় এফআইআর নং-২০, জিআর নং-৩৬৭, তারিখ ১০ জুন ২০২৬ মূলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১)/৩০ ধারা এবং পেনাল কোডের ৫০৬(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

 

পুলিশ জানায়, এসআই সাদেকুর রহমান, এসআই সুমন চন্দ্র দাস ও এসআই মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পশ্চিম হানিরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

 

এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, এটি শুধু একটি ধর্ষণের ঘটনা নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের নির্মম উদাহরণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভিকটিমের আপন বড় বোনই তার ছোট বোনের ওপর সংঘটিত এই জঘন্য অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, মতলব উত্তর থানা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সময়ে ভিকটিমের অভিযোগ ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে মূল আসামি এবং তার সহায়তাকারী অপর আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করেছে। অপরাধ নির্মুলে পুলিশ সর্বদা সোচ্চার রয়েছে।