এবার পটুয়াখালীর বাউফলে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নিয়োগ পরীক্ষা কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে ভিডিও ধারণ এবং বহিরাগত ব্যক্তির পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব সাদিকুজ্জামান রাকিবের মধ্যে প্রকাশ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় শুমারির সুপারভাইজার ও আইটি সুপারভাইজার নিয়োগের জন্য শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ হলরুমে লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষা শুরুর পর বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদারের ছেলে রাইয়ান আকাশ মোবাইল ফোন নিয়ে কিছু সময়ের জন্য পরীক্ষা কক্ষে প্রবেশ করেন। একই সময়ে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল ফাহাদ বাইরে থেকে জানালার মাধ্যমে পরীক্ষাকক্ষের ভিডিও ধারণ করেন।
এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন পরীক্ষার্থী ফাহাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে তিনি রাইয়ান আকাশের সঙ্গে উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে বের হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে যান। সেখানে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিডিও ধারণের বিষয়টি নিয়ে সাদিকুজ্জামান রাকিবের সঙ্গে তার কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুজন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। সাদিকুজ্জামান রাকিবের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করায় তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল ফাহাদের দাবি, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই তার ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত হয় পৌর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব সাদিকুজ্জামান রাকিব। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এক প্রার্থী জসিম উদ্দীন অন্তু বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্তদের বাইরে অন্য কারও পরীক্ষা কক্ষে থাকা নিয়মবহির্ভূত। একই সঙ্গে বাইরে থেকে ভিডিও ধারণ করায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যা পরীক্ষার পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে বিএনপির সাবেক এমপির ছেলে রাইয়ান আকাশ একটি প্রার্থীর তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাইয়ান আকাশ বলেন, তিনি পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন, তবে অল্প সময় অবস্থান করেছেন। দীর্ঘ সময় পরীক্ষা কক্ষে ছিলেন না। উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদারও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, তারা কোনো তালিকা দেননি। ইউএনওর সঙ্গে কেবল নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তার দাবি, ইউএনও আশ্বস্ত করেছেন যে নিয়োগ সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী হবে। এদিকে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, পরীক্ষা কক্ষে অননুমোদিতভাবে কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্তের মাধ্যমে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















