ঢাকা , বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমবোলোর লাল কার্ড ভুল ছিল, স্বীকার করল আইএফএবি স্পেনে ঘরে ফিরছেন হাজারো মানুষ, নতুন তাপপ্রবাহে আবারও দাবানলের শঙ্কা সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান মামুনুল হকের চট্টগ্রামে বিএনপি-এনসিপি নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থান, উত্তেজনা চরমে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুত হচ্ছে ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে অধীর অপেক্ষায় ভারত জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের হামলা বিশ্বকাপ বিতর্কে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আর্জেন্টিনা প্রেসিডেন্টের লোহিত সাগরের জাহাজে ফি বসাচ্ছে হুথিরা

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:২৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

 

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, দুদকের মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের মাধ্যমে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১২ জুন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।

তবে কোন নির্দিষ্ট মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে কিংবা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় তাঁর নামও আসে।

২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত শুরু করে দুদক। অভিযোগ ওঠার পরই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

দুদকের মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়াকেও আসামি করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা তাঁদের একাধিক ফ্ল্যাট, বিপুল পরিমাণ জমি, কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র এবং বিও হিসাব জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়।

দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের এই ঘটনা বহুল আলোচিত বেনজীর আহমেদ দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড় এনে দিল। এখন তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যায় কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমবোলোর লাল কার্ড ভুল ছিল, স্বীকার করল আইএফএবি

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ

আপডেট সময় ০৪:২৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

 

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রোববার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, দুদকের মামলার প্রেক্ষাপটে ইন্টারপোলের মাধ্যমে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ১২ জুন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়।

তবে কোন নির্দিষ্ট মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে কিংবা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‌্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাবের কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় তাঁর নামও আসে।

২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠার পর তদন্ত শুরু করে দুদক। অভিযোগ ওঠার পরই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং আদালত ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

দুদকের মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়াকেও আসামি করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা তাঁদের একাধিক ফ্ল্যাট, বিপুল পরিমাণ জমি, কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব, সঞ্চয়পত্র এবং বিও হিসাব জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়।

দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের এই ঘটনা বহুল আলোচিত বেনজীর আহমেদ দুর্নীতি মামলায় নতুন মোড় এনে দিল। এখন তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা যায় কি না, সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।