ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আজ সেই জুলাই, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল ইতিহাস বদলের যাত্রা হাসনাত-সারজিস অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে নাকি দরবেশ বাবাকে বাঁচাতে দুদকে গিয়েছিলো?: রাশেদ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভারতের কেরালায় ইসলাম ত্যাগের চেয়ে ইসলাম গ্রহণের হার বাড়ছে নিখোঁজের ৫০ দিন পর রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে মিলল বৃদ্ধের মরদেহ দীপিকা-ক্যাটরিনাকে ছাড়িয়ে শীর্ষে আলিয়া ভাট বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জানাজা: ৯ জুলাই চিরবিদায় খামেনির সংঘর্ষের পর স্লিপার বাসে আগুন, মুহূর্তেই ঝরল ৭ জনের প্রাণ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পাকিস্তানে কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে ১৪ শিশুর মৃত্যু

হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য ‘সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত উপহার’: গালিবাফ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

এবার হরমুজ প্রণালির ওপর কোনো অবস্থাতে নিজেদের সার্বভৌমত্বের অধিকার ছাড়বে না ইরান। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিকে ইরানের জন্যসৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত উপহারএবংশক্তির সবচেয়ে বড় হাতিয়ারহিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ আমাদের নিজস্ব আঞ্চলিক জলসীমা। ইরান এই জলপথকে সামরিকীকরণ করছেএমন মনগড়া দাবি তুলে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। এই সার্বভৌমত্বের অবস্থান থেকে ইরান কোনো পরিস্থিতিতে এক চুলও পিছু হটবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গালিবাফ। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তিটি হরমুজ প্রণালিতে ফি মওকুফের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের একটি সাময়িক ছাড় মাত্র, এর বেশি কিছু নয়।

জলপথটি পরিচালনার বিষয়ে গালিবাফ আরও জানান, ইরান ও প্রতিবেশী ওমান ইতোমধ্যে সব চুক্তি এবং হরমুজে ফি দেওয়ার বিষয়ে যৌথ চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের মূল পাঁচ চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা আর এক কদমও সামনে এগোবে না। ইরানের দেওয়া সর্বশেষ পাঁচ শর্তের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলোলেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও শত্রুতার অবসান ঘটানো, ইরানের তেল রপ্তানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করে দেওয়া।

এদিকে, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক উত্তেজনা এড়াতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবানন যৌথভাবে একটিডিকনফ্লিক্ট সেলবা সংঘাত নিরসন কেন্দ্র গঠনে সম্মত হয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে এই সেলের জন্য নিজেদের প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত খুব শিগগিরই এ বিষয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি নিয়োগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিনিধি নিয়োগের পর মূলত সেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে সচল হবে। ইরানের এই শীর্ষনেতা আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকটির মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের যে পৃথক চুক্তি হয়েছে তা মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তার চুক্তি বলে উল্লেখ করেছেন গালিবাফ। সূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আজ সেই জুলাই, যেখান থেকে শুরু হয়েছিল ইতিহাস বদলের যাত্রা

হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য ‘সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত উপহার’: গালিবাফ

আপডেট সময় ১০:২৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

এবার হরমুজ প্রণালির ওপর কোনো অবস্থাতে নিজেদের সার্বভৌমত্বের অধিকার ছাড়বে না ইরান। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিকে ইরানের জন্যসৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত উপহারএবংশক্তির সবচেয়ে বড় হাতিয়ারহিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ আমাদের নিজস্ব আঞ্চলিক জলসীমা। ইরান এই জলপথকে সামরিকীকরণ করছেএমন মনগড়া দাবি তুলে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। এই সার্বভৌমত্বের অবস্থান থেকে ইরান কোনো পরিস্থিতিতে এক চুলও পিছু হটবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গালিবাফ। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তিটি হরমুজ প্রণালিতে ফি মওকুফের ক্ষেত্রে ৬০ দিনের একটি সাময়িক ছাড় মাত্র, এর বেশি কিছু নয়।

জলপথটি পরিচালনার বিষয়ে গালিবাফ আরও জানান, ইরান ও প্রতিবেশী ওমান ইতোমধ্যে সব চুক্তি এবং হরমুজে ফি দেওয়ার বিষয়ে যৌথ চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকের মূল পাঁচ চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা আর এক কদমও সামনে এগোবে না। ইরানের দেওয়া সর্বশেষ পাঁচ শর্তের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলোলেবাননে ইসরায়েলি হামলা ও শত্রুতার অবসান ঘটানো, ইরানের তেল রপ্তানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবিলম্বে মুক্ত করে দেওয়া।

এদিকে, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সামরিক উত্তেজনা এড়াতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং লেবানন যৌথভাবে একটিডিকনফ্লিক্ট সেলবা সংঘাত নিরসন কেন্দ্র গঠনে সম্মত হয়েছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন ইতোমধ্যে এই সেলের জন্য নিজেদের প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত খুব শিগগিরই এ বিষয়ে উভয় পক্ষের প্রতিনিধি নিয়োগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিনিধি নিয়োগের পর মূলত সেলটি আনুষ্ঠানিকভাবে সচল হবে। ইরানের এই শীর্ষনেতা আরও বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকটির মূল লক্ষ্য হলো লেবাননের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের যে পৃথক চুক্তি হয়েছে তা মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তার চুক্তি বলে উল্লেখ করেছেন গালিবাফ। সূত্র: আল জাজিরা