ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা কে এই খাইরুল দেওয়ান বঙ্গভবন ছাড়লেন সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দেশের বাজারে পাওয়া ৩৪টি টুথপেস্টের ২৬টিতেই মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক শিশুর অনুরোধে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ‘চুক্তিতে’ স্বাক্ষর করলেন স্কালোনি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের এবার ইরানে স্থলসেনা নামানোর ছক যুক্তরাষ্ট্রের, ভয়ংকর পরিকল্পনা ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ পরীক্ষায় ছাত্রদলের দুই নেতার হাতাহাতি ইরানে হামলায় যুক্তরাজ্যের কোনো ঘাঁটি ব্যবহৃত হলে তা হবে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’: আইআরজিসি কৃষক সেজে ফসলি মাঠ থেকে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে ধরল পুলিশ সাবেক রাষ্ট্রপতির ফৌজদারী অপরাধের বিচার সম্ভব, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে কোন বাধা নেই: শিশির মনির

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে ইরান-ওমান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

এবার যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর যৌথভাবে একটিসেবা মাশুলবা শুল্কারোপের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান। মঙ্গলবার দেশ দুটি এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। একজন ইরানি কর্মকর্তা এবং চারজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার একটি চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। তবে ওই চুক্তির অংশ হিসেবেই দীর্ঘমেয়াদে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইরান ও ওমানের ওপর। যুদ্ধপরবর্তী আঞ্চলিক বাণিজ্যিক মডেলের অংশ হিসেবে এই টোল বা শুল্ক আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা মূলত শত শত বছর ধরে চলে আসা মুক্ত নৌচলাচলের নিয়মের সম্পূর্ণ বিপরীত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওমান চাইছে এই শুল্কের বিষয়টি যেনঐচ্ছিকরাখা হয়, কিন্তু ইরান এটিকেবাধ্যতামূলককরার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল বজায় রাখার খরচ মেটাতেই এই অর্থ ব্যবহার করতে চায় মাস্কাট, যা মালাক্কা বা সিঙ্গাপুর প্রণালীর শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওমানের সঙ্গে যদি কোনো যৌথ চুক্তি সম্পন্ন নাও হয়, তবে তেহরান একতরফাভাবেই এই শুল্ক আরোপ করবে। মূলত ইরানের এমন একতরফা ও বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত এড়াতেই ওমান একটি মধ্যপন্থা বা বিকল্প উপায় খোঁজার চেষ্টা করছে।

এদিকে ওমানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওয়াশিংটন। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, ইরান ও ওমান মিলে যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে, তবে ওমানকেউড়িয়ে দেওয়াহবে।

ট্রাম্পের মতে, এই প্রণালিটি একটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, কেউ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন উগ্র মন্তব্যের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে মার্কিন কূটনীতিকদের বেশ বেগ পেতে হয়। যদিও পরবর্তীতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে ওমানি কূটনীতিকরা আশ্বস্ত করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। সূত্র: মিডলইস্ট আই

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ থাকা কে এই খাইরুল দেওয়ান

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও হরমুজে শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে ইরান-ওমান

আপডেট সময় ১১:১৭:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

এবার যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর যৌথভাবে একটিসেবা মাশুলবা শুল্কারোপের পরিকল্পনা করছে ইরান ও ওমান। মঙ্গলবার দেশ দুটি এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস। একজন ইরানি কর্মকর্তা এবং চারজন কূটনীতিকের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার একটি চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ৬০ দিনের আলোচনা চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের মাশুল ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে। তবে ওই চুক্তির অংশ হিসেবেই দীর্ঘমেয়াদে একটি যৌথ পরিকল্পনা তৈরি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে ইরান ও ওমানের ওপর। যুদ্ধপরবর্তী আঞ্চলিক বাণিজ্যিক মডেলের অংশ হিসেবে এই টোল বা শুল্ক আদায়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা মূলত শত শত বছর ধরে চলে আসা মুক্ত নৌচলাচলের নিয়মের সম্পূর্ণ বিপরীত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ওমান চাইছে এই শুল্কের বিষয়টি যেনঐচ্ছিকরাখা হয়, কিন্তু ইরান এটিকেবাধ্যতামূলককরার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল বজায় রাখার খরচ মেটাতেই এই অর্থ ব্যবহার করতে চায় মাস্কাট, যা মালাক্কা বা সিঙ্গাপুর প্রণালীর শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওমানের সঙ্গে যদি কোনো যৌথ চুক্তি সম্পন্ন নাও হয়, তবে তেহরান একতরফাভাবেই এই শুল্ক আরোপ করবে। মূলত ইরানের এমন একতরফা ও বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত এড়াতেই ওমান একটি মধ্যপন্থা বা বিকল্প উপায় খোঁজার চেষ্টা করছে।

এদিকে ওমানের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ওয়াশিংটন। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছিলেন। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন, ইরান ও ওমান মিলে যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের শুল্ক আরোপের চেষ্টা করে, তবে ওমানকেউড়িয়ে দেওয়াহবে।

ট্রাম্পের মতে, এই প্রণালিটি একটি আন্তর্জাতিক জলসীমা এবং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, কেউ এর নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন উগ্র মন্তব্যের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে মার্কিন কূটনীতিকদের বেশ বেগ পেতে হয়। যদিও পরবর্তীতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে এক গোপন বৈঠকে ওমানি কূটনীতিকরা আশ্বস্ত করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালিতে শুল্ক আরোপের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। সূত্র: মিডলইস্ট আই