টাঙ্গাইলে এক শতবর্ষী বৃদ্ধকে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। অসহায় অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই বৃদ্ধের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বৈল্লা বাজারের একটি সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় স্থানীয়দের নজরে আসেন বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন। পরে এলাকাবাসীর মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন মফিজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক এই বৃদ্ধের জীবন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে রেখে চলে যান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে বিষয়টি প্রশাসনকে জানান।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তাৎক্ষণিকভাবে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বৃদ্ধের এক নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পালিয়ে গেছেন।
শুধু উদ্ধারেই নয়, বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাদ্য, বাসস্থানসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি তার জন্য দ্রুত বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করাসহ প্রয়োজন হলে আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রাখা অত্যন্ত অমানবিক। বাবা-মা সমাজের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, যতদিন প্রয়োজন, বৃদ্ধের পাশে থাকবেন এবং একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















