ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসিদের থামিয়ে কি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমক দেখাবে কেপ ভার্দে?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:২১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের দেশ কেপ ভার্দে। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অংশ নেওয়া তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। অথচ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলেই জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে। এবার তাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টায় মায়ামিতে মেসিদের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি।

বিশ্বকাপে নিজেদের যাত্রার শুরুতেই সবাইকে চমকে দেয় কেপ ভার্দে। ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে আলোচনায় আসে তারা। সেই ম্যাচে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত সাতটি সেভ দলকে এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট। এরপর দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র এবং শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে আরেকটি গোলশূন্য ড্র করে অপরাজিত থেকেই নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।

এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেই পাঁচবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শৃঙ্খলাবদ্ধ দলগঠন এবং প্রবাসী ফুটবলারদের কার্যকর ব্যবহারের ফলই এখন পাচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

বর্তমান স্কোয়াডের ২৬ জনের মধ্যে ১৪ জনই জন্মেছেন দেশের বাইরে। পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসে বেড়ে ওঠা এসব ফুটবলার এখন জাতীয় দলের শক্তির বড় ভিত্তি। তাদেরই একজন ফরোয়ার্ড ডেইলন লিভরামেন্তো, যার গোলে ক্যামেরুনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল কেপ ভার্দে।

দেশটির সংসদ সদস্য জোসিনা ফ্রেইতাস ফোর্তেসের ভাষায়, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর পরিকল্পিত কাজ, দৃঢ় বিশ্বাস এবং অসংখ্য মানুষের নিরলস পরিশ্রম।

২০২০ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা প্রধান কোচ বুবিস্তার অবদানও কেপ ভার্দের এই উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ। তার অধীনে দলটি গড়ে উঠেছে শক্তিশালী রক্ষণ, ভারসাম্যপূর্ণ মিডফিল্ড এবং কার্যকর আক্রমণভাগ নিয়ে। ২০২৩ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে ঘানাকে হারানো, মিসরের সঙ্গে ড্র করা এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ধারাবাহিকতাই বিশ্বকাপেও ধরে রেখেছে তারা।

স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে মাত্র একটি ফাউল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও অনন্য নজির গড়েছে কেপ ভার্দে। আর উরুগুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ড্র করে দেখিয়েছে তাদের মানসিক দৃঢ়তা।

কোচ বুবিস্তা বলেন, ফলাফলের চেয়েও বড় বিষয় হলো, তার দল নিজেদের পরিচয়, ঐক্য এবং লড়াই করার মানসিকতা বিশ্বকে দেখাতে পেরেছে। বিশ্বকাপে দলকে তোলার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (ক্যাফ) তাকে বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত করে।

বছর কয়েক আগেই বুবিস্তা বলেছিলেন, একদিন কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে খেলবে। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তব। আর এবার সেই বাস্তবতাকে আরও বড় ইতিহাসে রূপ দিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামছে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি। মেসিদের হারাতে পারলে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দেবে কেপ ভার্দে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির কফিনের পাশের ছোট কফিনে কে?

মেসিদের থামিয়ে কি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমক দেখাবে কেপ ভার্দে?

আপডেট সময় ০৬:২১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের দেশ কেপ ভার্দে। জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বকাপের ইতিহাসে অংশ নেওয়া তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। অথচ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলেই জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে। এবার তাদের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় শনিবার ভোর ৪টায় মায়ামিতে মেসিদের বিপক্ষে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নামবে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি।

বিশ্বকাপে নিজেদের যাত্রার শুরুতেই সবাইকে চমকে দেয় কেপ ভার্দে। ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে আলোচনায় আসে তারা। সেই ম্যাচে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহার দুর্দান্ত সাতটি সেভ দলকে এনে দেয় মূল্যবান এক পয়েন্ট। এরপর দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র এবং শেষ ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে আরেকটি গোলশূন্য ড্র করে অপরাজিত থেকেই নিশ্চিত করে শেষ ষোলোর টিকিট।

এই সাফল্য হঠাৎ করে আসেনি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেই পাঁচবারের আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে মূল পর্বে জায়গা করে নেয় কেপ ভার্দে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, শৃঙ্খলাবদ্ধ দলগঠন এবং প্রবাসী ফুটবলারদের কার্যকর ব্যবহারের ফলই এখন পাচ্ছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।

বর্তমান স্কোয়াডের ২৬ জনের মধ্যে ১৪ জনই জন্মেছেন দেশের বাইরে। পর্তুগাল ও নেদারল্যান্ডসে বেড়ে ওঠা এসব ফুটবলার এখন জাতীয় দলের শক্তির বড় ভিত্তি। তাদেরই একজন ফরোয়ার্ড ডেইলন লিভরামেন্তো, যার গোলে ক্যামেরুনকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছিল কেপ ভার্দে।

দেশটির সংসদ সদস্য জোসিনা ফ্রেইতাস ফোর্তেসের ভাষায়, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বছরের পর বছর পরিকল্পিত কাজ, দৃঢ় বিশ্বাস এবং অসংখ্য মানুষের নিরলস পরিশ্রম।

২০২০ সাল থেকে দায়িত্বে থাকা প্রধান কোচ বুবিস্তার অবদানও কেপ ভার্দের এই উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ। তার অধীনে দলটি গড়ে উঠেছে শক্তিশালী রক্ষণ, ভারসাম্যপূর্ণ মিডফিল্ড এবং কার্যকর আক্রমণভাগ নিয়ে। ২০২৩ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে ঘানাকে হারানো, মিসরের সঙ্গে ড্র করা এবং কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ধারাবাহিকতাই বিশ্বকাপেও ধরে রেখেছে তারা।

স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে মাত্র একটি ফাউল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসেও অনন্য নজির গড়েছে কেপ ভার্দে। আর উরুগুয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ড্র করে দেখিয়েছে তাদের মানসিক দৃঢ়তা।

কোচ বুবিস্তা বলেন, ফলাফলের চেয়েও বড় বিষয় হলো, তার দল নিজেদের পরিচয়, ঐক্য এবং লড়াই করার মানসিকতা বিশ্বকে দেখাতে পেরেছে। বিশ্বকাপে দলকে তোলার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন (ক্যাফ) তাকে বর্ষসেরা কোচ নির্বাচিত করে।

বছর কয়েক আগেই বুবিস্তা বলেছিলেন, একদিন কেপ ভার্দে বিশ্বকাপে খেলবে। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তব। আর এবার সেই বাস্তবতাকে আরও বড় ইতিহাসে রূপ দিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামছে আফ্রিকার ছোট্ট দেশটি। মেসিদের হারাতে পারলে বিশ্বকাপের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দেবে কেপ ভার্দে।