ঢাকা , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সপ্তাহজুড়ে খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার ঘোষণা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:২৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে ঘিরে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত। ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে শেষ শ্রদ্ধা, শোভাযাত্রা ও দাফনসংক্রান্ত বিভিন্ন আয়োজন।

প্রথমে চলতি বছরের মার্চে খামেনির দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে নিহত হন তিনি। তেহরানের দাবি, ওই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে চালিয়েছিল।

সাত দিনের এই আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়েছে তেহরানে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ইসলামি পণ্ডিতরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে খামেনির কফিন। তার পরিবারের নিহত সদস্যদের মরদেহও একই স্থানে রাখা হবে। রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ এই প্রার্থনাস্থলে লাখো মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান।

এরপর ৬ ও ৭ জুলাই তেহরান থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের পবিত্র শহর কোমের উদ্দেশে বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শিয়া ইসলামি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোম শহরের সঙ্গে খামেনির ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় সম্পর্কও ছিল গভীর।

৮ জুলাই মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকে। নজফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনার পর নজফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত হবে শোকযাত্রা। ইমাম আলী ও ইমাম হুসাইনের পবিত্র মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচিও রয়েছে।

সবশেষে ৯ জুলাই মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে। শিয়াদের অন্যতম পবিত্র এই শহরেই ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। জীবনের শুরুর গুরুত্বপূর্ণ সময়ও তিনি মাশহাদেই কাটিয়েছিলেন।

ইরান সরকার বলছে, এই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

খামেনির কফিনের পাশের ছোট কফিনে কে?

সপ্তাহজুড়ে খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতার ঘোষণা

আপডেট সময় ০৬:২৭:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনকে ঘিরে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত। ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে শেষ শ্রদ্ধা, শোভাযাত্রা ও দাফনসংক্রান্ত বিভিন্ন আয়োজন।

প্রথমে চলতি বছরের মার্চে খামেনির দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে নিহত হন তিনি। তেহরানের দাবি, ওই হামলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে চালিয়েছিল।

সাত দিনের এই আনুষ্ঠানিকতার সূচনা হয়েছে তেহরানে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও ইসলামি পণ্ডিতরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

৪ ও ৫ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে খামেনির কফিন। তার পরিবারের নিহত সদস্যদের মরদেহও একই স্থানে রাখা হবে। রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ এই প্রার্থনাস্থলে লাখো মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান।

এরপর ৬ ও ৭ জুলাই তেহরান থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরের পবিত্র শহর কোমের উদ্দেশে বিশাল শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। শিয়া ইসলামি শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কোম শহরের সঙ্গে খামেনির ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় সম্পর্কও ছিল গভীর।

৮ জুলাই মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকে। নজফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনার পর নজফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিত হবে শোকযাত্রা। ইমাম আলী ও ইমাম হুসাইনের পবিত্র মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদনের কর্মসূচিও রয়েছে।

সবশেষে ৯ জুলাই মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে। শিয়াদের অন্যতম পবিত্র এই শহরেই ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। জীবনের শুরুর গুরুত্বপূর্ণ সময়ও তিনি মাশহাদেই কাটিয়েছিলেন।

ইরান সরকার বলছে, এই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হবে।