ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বের অবসান না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক সম্ভব নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল–সিসি। রোববার (৫ জুলাই) এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়। ইসরায়েলের উদ্দেশে সিসি বলেছেন, ন্যায়ভিত্তিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা কিংবা জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এক বক্তব্যে আল–সিসি বলেন, ‘দখলদারিত্বের অবসান, অন্যায় ও আগ্রাসনের সমাপ্তি, প্রকৃত অধিকারীদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন ন্যায়সঙ্গত শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হলে স্থায়ী শান্তি, প্রকৃত স্থিতিশীলতা কিংবা জনগণের পর্যায়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রশ্নই আসে না।‘
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে একটি সর্বাত্মক শান্তি চুক্তির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, ন্যায়ভিত্তিক একটি শান্তিচুক্তি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির নতুন পথ খুলে দিতে পারে। আল–সিসির এই বক্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ মিসরই ছিল প্রথম আরব দেশ, যারা ১৯৭৯ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই ঐতিহাসিক চুক্তির পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হলেও, ফিলিস্তিন প্রশ্নে কায়রো দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মিশরের প্রেসিডেন্ট। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থন জানান তিনি। তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবসহ একাধিক আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আরব দেশগুলোর অবস্থান এখনো বড় বাধা হয়ে রয়েছে। আল–সিসির সর্বশেষ বক্তব্যও সেই অবস্থানকেই আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























