ঢাকা , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের তদন্ত শুরু

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

মাঠে বিশ্বকাপে এগিয়ে চলছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু মাঠের বাইরে দেশটির ফুটবল সংস্থা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের, এএফএ, মার্কিন আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রসিকিউটর ও এফবিআই-সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা এএফএ-র অর্থপ্রবাহ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এএফএ যুক্তরাষ্ট্রে কীভাবে আর্থিক কার্যক্রম চালিয়েছে এবং কীভাবে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের কোনো অংশ যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় মানি লন্ডারিং বা জালিয়াতির মতো অপরাধের ঝুঁকি তৈরি করে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

এই অনুসন্ধানের কেন্দ্রে আছে ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। লা নাসিওনের তথ্য অনুযায়ী, প্রযোজক হাভিয়ের ফারোনি ও তার স্ত্রী এরিকা জিলেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বিদেশে এএফএ-র বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে অর্থ আদায়ের দায়িত্বে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা এখন প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে অর্থপ্রবাহের পথ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলো বিশ্লেষণ করছেন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী গুইয়ের্মো তোফোনির সঙ্গে সম্প্রতি প্রায় তিন ঘণ্টার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন ওয়াশিংটন ডিসি ও ফ্লোরিডাভিত্তিক ফেডারেল প্রসিকিউটর এবং এফবিআই-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তোফোনি আগে তাপিয়া ও এএফএ নেতৃত্বের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে লা নাসিওনকে তিনি ওই বৈঠকের বিষয়ে নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি।

 

লা নাসিওনের হাতে থাকা নথি অনুযায়ী, ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসি যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খোলা হিসাবের মাধ্যমে এএফএ-র অন্তত ২৬০ মিলিয়ন ডলার আয় ব্যবস্থাপনা করেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এর মধ্যে ৫৭ মিলিয়ন ডলারের কিছু লেনদেন এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সুবিধাভোগীর কাছে গেছে, যার অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা নথিতে স্পষ্ট নয়।

 

এএফএ পক্ষ অবশ্য বিষয়টিকে অপরাধ প্রমাণ হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। উত্তর আমেরিকায় সংস্থার প্রতিনিধি তোমাস রেগালাদো বলেছেন, তদন্তমূলক পদক্ষেপ নিজে থেকে দায় বা দোষ প্রমাণ করে না। অর্থাৎ বিষয়টি এখনো অভিযোগ, নথি বিশ্লেষণ ও তথ্য-সংগ্রহের পর্যায়ে আছে।

 

লা নাসিওন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এসব নথি ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করছে। এখনো এই অনুসন্ধান আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি তদন্তে রূপ নেবে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। মার্কিন বিচার বিভাগও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মাঠের সাফল্যের মাঝেই এএফএ-র এই আর্থিক অধ্যায় তাই নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। তবে আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, অনুসন্ধান মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এখন খতিয়ে দেখছে, এএফএ-র মার্কিন লেনদেনে কোনো আইনি ঝুঁকি আছে কি না।

 

সূত্র: লা নাসিওন, মায়ামি হেরাল্ড

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে এফবিআইয়ের তদন্ত শুরু

আপডেট সময় ০৯:০৮:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

মাঠে বিশ্বকাপে এগিয়ে চলছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু মাঠের বাইরে দেশটির ফুটবল সংস্থা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের, এএফএ, মার্কিন আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা নাসিওন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল প্রসিকিউটর ও এফবিআই-সংশ্লিষ্ট এজেন্টরা এএফএ-র অর্থপ্রবাহ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়ার নেতৃত্বাধীন এএফএ যুক্তরাষ্ট্রে কীভাবে আর্থিক কার্যক্রম চালিয়েছে এবং কীভাবে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়েছে। এসব লেনদেনের কোনো অংশ যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় মানি লন্ডারিং বা জালিয়াতির মতো অপরাধের ঝুঁকি তৈরি করে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

এই অনুসন্ধানের কেন্দ্রে আছে ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। লা নাসিওনের তথ্য অনুযায়ী, প্রযোজক হাভিয়ের ফারোনি ও তার স্ত্রী এরিকা জিলেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি বিদেশে এএফএ-র বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে অর্থ আদায়ের দায়িত্বে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা এখন প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে অর্থপ্রবাহের পথ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবগুলো বিশ্লেষণ করছেন।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী গুইয়ের্মো তোফোনির সঙ্গে সম্প্রতি প্রায় তিন ঘণ্টার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন ওয়াশিংটন ডিসি ও ফ্লোরিডাভিত্তিক ফেডারেল প্রসিকিউটর এবং এফবিআই-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তোফোনি আগে তাপিয়া ও এএফএ নেতৃত্বের আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে লা নাসিওনকে তিনি ওই বৈঠকের বিষয়ে নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেননি।

 

লা নাসিওনের হাতে থাকা নথি অনুযায়ী, ট্যুরপ্রডএন্টার এলএলসি যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খোলা হিসাবের মাধ্যমে এএফএ-র অন্তত ২৬০ মিলিয়ন ডলার আয় ব্যবস্থাপনা করেছে। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এর মধ্যে ৫৭ মিলিয়ন ডলারের কিছু লেনদেন এমন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সুবিধাভোগীর কাছে গেছে, যার অর্থনৈতিক ব্যাখ্যা নথিতে স্পষ্ট নয়।

 

এএফএ পক্ষ অবশ্য বিষয়টিকে অপরাধ প্রমাণ হিসেবে দেখার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। উত্তর আমেরিকায় সংস্থার প্রতিনিধি তোমাস রেগালাদো বলেছেন, তদন্তমূলক পদক্ষেপ নিজে থেকে দায় বা দোষ প্রমাণ করে না। অর্থাৎ বিষয়টি এখনো অভিযোগ, নথি বিশ্লেষণ ও তথ্য-সংগ্রহের পর্যায়ে আছে।

 

লা নাসিওন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এসব নথি ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করছে। এখনো এই অনুসন্ধান আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি তদন্তে রূপ নেবে কি না, সেটি নিশ্চিত নয়। মার্কিন বিচার বিভাগও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মাঠের সাফল্যের মাঝেই এএফএ-র এই আর্থিক অধ্যায় তাই নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। তবে আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা, অনুসন্ধান মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ এখন খতিয়ে দেখছে, এএফএ-র মার্কিন লেনদেনে কোনো আইনি ঝুঁকি আছে কি না।

 

সূত্র: লা নাসিওন, মায়ামি হেরাল্ড