ঢাকা , রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা-ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ, না মানলে ব্যবস্থা ইরানে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই, মোজতবার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের অভিযোগ আল্লাহ মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনেছেন, ইচ্ছে করে সিজদা থেকে মাথা না তুলি: বাবর জানাজায় মানুষের ওপর হামলা, মুহূর্তেই নিভে গেল ৮ জনের প্রাণ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের আইনি পদক্ষেপ শুরু মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর ‘মূল্যহীন ও অবৈধ’: মোজতবা খামেনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুরোনো ফর্মুলা বাদ দিতে হবে: আখতার হোসেন দাবানল, বিষাক্ত ধোঁয়া ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে ট্রাকচাপায় অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু গাজায় অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপন করছে ইসরায়েল

দাবানল, বিষাক্ত ধোঁয়া ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একই সময়ে দাবানল, দাবানলের ধোঁয়া এবং আকস্মিক বন্যার ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশটির পূর্বাঞ্চল ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে, দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা চলছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন দাবানল।

 

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। একই সময়ে টেক্সাসের হিল কান্ট্রিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্যা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে একাধিক দাবানলের সূত্রপাত হয়।

 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে। দেশজুড়ে এক কোটিরও বেশি মানুষ বায়ুদূষণ সতর্কতার আওতায় রয়েছেন। অনেক এলাকাতেই মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার জানিয়েছে, বজ্রপাতের কারণে শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই নতুন করে ১৭টি বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে ১৭ হাজার ৪০০ এর বেশি কর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার এবং চারটি সামরিক সি-১৩০ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

 

এবছর এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর জমি পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ একরেরও বেশি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই সময়ে একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জেসি বারম্যানের মতে, এ ধরনের ‘সমন্বিত দুর্যোগ’ একক কোনো দুর্যোগের তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক।

 

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিজ্ঞানী মাইকেল ম্যান বলেন, জেট স্ট্রিমের অস্বাভাবিক ঢেউয়ের কারণে এ ধরনের চরম আবহাওয়া দীর্ঘ সময় ধরে একই অঞ্চলে হচ্ছে। তার গবেষণা অনুযায়ী, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ১৯৫০ এর দশকের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা তিনগুণ বেড়েছে।

 

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানী জনাথন ওভারপেক বলেন, উষ্ণ বায়ুমণ্ডল একদিকে মাটি ও উদ্ভিদের আর্দ্রতা দ্রুত শুষে নিয়ে দাবানলের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে একই বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার ঘটনাও বাড়ছে।

 

এদিকে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় মিনিয়াপোলিস থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত আকাশ কমলা-বাদামি রঙ ধারণ করেছে। শিকাগোতে শুক্রবার বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত বাতাস রেকর্ড করা হয়। পরিস্থিতির কারণে লেক মিশিগানের তীরবর্তী পার্ক ও সমুদ্রসৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে টেক্সাসে মঙ্গলবার থেকে কোথাও কোথাও ২৭ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ সপ্তাহের বন্যায় অন্তত দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বৃষ্টি কমলেও নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা-ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ, না মানলে ব্যবস্থা

দাবানল, বিষাক্ত ধোঁয়া ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় ১১:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে একই সময়ে দাবানল, দাবানলের ধোঁয়া এবং আকস্মিক বন্যার ত্রিমুখী দুর্যোগে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। দেশটির পূর্বাঞ্চল ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে, দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা চলছে এবং পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে নতুন নতুন দাবানল।

 

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) গ্রেট লেকস অঞ্চল থেকে ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। একই সময়ে টেক্সাসের হিল কান্ট্রিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্যা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নতুন করে একাধিক দাবানলের সূত্রপাত হয়।

 

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫টি অঙ্গরাজ্যে ৬৮টি বড় দাবানল জ্বলছে। দেশজুড়ে এক কোটিরও বেশি মানুষ বায়ুদূষণ সতর্কতার আওতায় রয়েছেন। অনেক এলাকাতেই মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার জানিয়েছে, বজ্রপাতের কারণে শুধু প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেই নতুন করে ১৭টি বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে ১৭ হাজার ৪০০ এর বেশি কর্মী, ১৪০টি হেলিকপ্টার এবং চারটি সামরিক সি-১৩০ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

 

এবছর এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৩৭ লাখ ২০ হাজার একর জমি পুড়ে গেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ লাখ একরেরও বেশি।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই সময়ে একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ জেসি বারম্যানের মতে, এ ধরনের ‘সমন্বিত দুর্যোগ’ একক কোনো দুর্যোগের তুলনায় অনেক বেশি বিপজ্জনক।

 

পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিজ্ঞানী মাইকেল ম্যান বলেন, জেট স্ট্রিমের অস্বাভাবিক ঢেউয়ের কারণে এ ধরনের চরম আবহাওয়া দীর্ঘ সময় ধরে একই অঞ্চলে হচ্ছে। তার গবেষণা অনুযায়ী, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ১৯৫০ এর দশকের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা তিনগুণ বেড়েছে।

 

মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানী জনাথন ওভারপেক বলেন, উষ্ণ বায়ুমণ্ডল একদিকে মাটি ও উদ্ভিদের আর্দ্রতা দ্রুত শুষে নিয়ে দাবানলের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে একই বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার ঘটনাও বাড়ছে।

 

এদিকে কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় মিনিয়াপোলিস থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত আকাশ কমলা-বাদামি রঙ ধারণ করেছে। শিকাগোতে শুক্রবার বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক দূষিত বাতাস রেকর্ড করা হয়। পরিস্থিতির কারণে লেক মিশিগানের তীরবর্তী পার্ক ও সমুদ্রসৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে টেক্সাসে মঙ্গলবার থেকে কোথাও কোথাও ২৭ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ সপ্তাহের বন্যায় অন্তত দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বৃষ্টি কমলেও নদ-নদীর পানি আরও বাড়তে পারে এবং পরিস্থিতি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।