ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন, চিকিৎসার জন্য শিগ্‌গির বিদেশে যাবেন গোপনে কারামুক্ত হলেন তৌহিদ আফ্রিদি অস্ত্র কেড়ে নিয়ে দুই ইসরায়েলি সেনাকে হত্যা করলো এক ফিলিস্তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে আবারও আগুন, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সিরাজগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৬ নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়তে হবে: জামায়াতের আমির শফিকুর-নাহিদ-মামুনুল এক হলে সরকারের পতন অনিবার্য: কর্নেল অলি জার্মানি, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকে হারানোর মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে চান বাংলাদেশের কোচ স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর গলায় ফাঁস, প্রাণ গেল নারী ইউপি সদস্যের জমি লিখে না দেওয়ায় প্রতিবন্ধী মা-র সঙ্গে ছেলে ইসলামী আন্দোলনের নেতার অমানবিক আচরণ

মেসির শরীরে ব্রাজিলের রক্ত, খেলতে পারতেন ব্রাজিলের হয়েও!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

লিওনেল মেসি খেলতে পারতেন ব্রাজিলের হয়ে! ফুটবল বিশ্বের জন্য কথাটি অদ্ভুত শোনালেও সাম্প্রতিক এক ঐতিহাসিক গবেষণায় এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ইতালীয় ইতিহাসবিদ ফিওরেঞ্জো সান্তিনির করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পারিবারিক শেকড়ের একটি অংশ ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্ত। তার প্রপিতামহ ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যিনি পরে পরিবারের সঙ্গে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমান। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর বরাত দিয়ে করা ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, উনিশ শতকের শেষের দিকে ও বিশ শতকের শুরুতে দক্ষিণ আমেরিকায় ইতালীয়দের বিশাল অভিবাসন তরঙ্গের অংশ হিসেবে দেশ ছাড়েন মেসির এক পূর্বপুরুষ। তার প্রপিতামহের বাবা (গ্রেটগ্রেট গ্র্যান্ডফাদার) রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনি ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে স্ত্রী রোজা রিচেজ্জাকে নিয়ে ব্রাজিলে পাড়ি জমান তিনি।

পরিবারটি প্রথমে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে এসে পৌঁছায়। সে সময় অভিবাসন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নামের বানান ভুল বা পরিবর্তন হওয়া ছিল খুব সাধারণ একটি ঘটনা। রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনির নামও পরিবর্তিত হয়েরামিয়েরো কনসেন্টিনিহিসেবে নিবন্ধিত হয়। পরে তাদের পারিবারিক পদবির বানানেও বিভিন্ন সময় পরিবর্তন আসে। ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর পরিবারটি সাও পাওলোর গ্রামাঞ্চলে চলে যায়। সেখানে তারা ওই অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ কফি উৎপাদক মার্তিনহো প্রাদো জুনিয়রের খামারে কৃষিকাজ করতেন। ঠিক সেই সময়েই রিবেইরো প্রেতো এলাকায় তাদের এক সন্তানের জন্ম হয়। নিবন্ধনের সময় তার নাম আবারও বদলে যায়। আর্দেরিগো কোচ্চেত্তিনি হয়ে যান ফেদেরিকো কুচ্চিত্তিনি। এই ফেদেরিকোই হলেন লিওনেল মেসির প্রপিতামহ।

তবে ব্রাজিলে পরিবারটির বসবাস খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ফেদেরিকো কুচ্চিত্তিনির বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন পুরো পরিবার আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। আর এখান থেকেই শুরু হয় ফুটবলের অন্যতম বিখ্যাত এক পরিবারের ইতিহাস। রোজারিওতে যাওয়ার পর ব্রাজিলের সঙ্গে তাদের সব ধরনের সরাসরি সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন হয়ে যায়। আর এর কয়েক দশক পর রোজারিওতেই জন্ম নেন লিওনেল মেসি। এই গবেষণার পর ফুটবলভক্তদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি মেসির পক্ষে ব্রাজিলের হয়ে খেলা সম্ভব ছিল? ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার পরিবারের একাংশের ব্রাজিলের সঙ্গে সংযোগ থাকলেও, আইনিভাবে তার ব্রাজিলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ ছিল না।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শুধু দূরবর্তী পূর্বপুরুষদের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশের জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা যায় না। এর জন্য ওই দেশের নাগরিকত্ব ও আইনি সম্পর্ক থাকতে হয়। জন্ম, নাগরিকত্ব ও ফুটবল শিক্ষাসব দিক থেকেই মেসির ভিত্তি রচিত হয়েছে আর্জেন্টিনায়। যুব পর্যায় থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ জেতা পর্যন্ত তিনি শুধু আকাশীসাদা জার্সিরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ফিওরেঞ্জো সান্তিনির এই গবেষণা আটবারের ব্যালন ডিঅর জয়ী তারকার পারিবারিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। যদিও এই আবিষ্কার আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অসামান্য অর্জনকে কোনোভাবেই ম্লান করে না, তবে এটি দক্ষিণ আমেরিকায় ইউরোপীয় অভিবাসনের সেই সময়কার প্রবাহকে নতুন করে সামনে এনেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ইতালীয় অভিবাসীদের মাধ্যমে ইতালি, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ইতিহাস কীভাবে এক সুতোয় গাঁথা পড়েছিল, সেই চিত্রই উঠে এসেছে এই গবেষণায়। ফুটবল বিশ্বের কাছে লিওনেল মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সি ছাড়া অন্য কোনো রূপে কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব হলেও, তার পরিবারের ব্রাজিলে বসবাসের ইতিহাস নতুন এক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন মো. সাহাবুদ্দিন, চিকিৎসার জন্য শিগ্‌গির বিদেশে যাবেন

মেসির শরীরে ব্রাজিলের রক্ত, খেলতে পারতেন ব্রাজিলের হয়েও!

আপডেট সময় ১১:১৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসি খেলতে পারতেন ব্রাজিলের হয়ে! ফুটবল বিশ্বের জন্য কথাটি অদ্ভুত শোনালেও সাম্প্রতিক এক ঐতিহাসিক গবেষণায় এমনই এক চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। ইতালীয় ইতিহাসবিদ ফিওরেঞ্জো সান্তিনির করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়কের পারিবারিক শেকড়ের একটি অংশ ব্রাজিলের সঙ্গে যুক্ত। তার প্রপিতামহ ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যিনি পরে পরিবারের সঙ্গে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমান। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর বরাত দিয়ে করা ওই গবেষণায় বলা হয়েছে, উনিশ শতকের শেষের দিকে ও বিশ শতকের শুরুতে দক্ষিণ আমেরিকায় ইতালীয়দের বিশাল অভিবাসন তরঙ্গের অংশ হিসেবে দেশ ছাড়েন মেসির এক পূর্বপুরুষ। তার প্রপিতামহের বাবা (গ্রেটগ্রেট গ্র্যান্ডফাদার) রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনি ইতালির সান সেভেরিনো মার্কে এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে স্ত্রী রোজা রিচেজ্জাকে নিয়ে ব্রাজিলে পাড়ি জমান তিনি।

পরিবারটি প্রথমে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে এসে পৌঁছায়। সে সময় অভিবাসন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নামের বানান ভুল বা পরিবর্তন হওয়া ছিল খুব সাধারণ একটি ঘটনা। রানিয়েরো কোচ্চেত্তিনির নামও পরিবর্তিত হয়েরামিয়েরো কনসেন্টিনিহিসেবে নিবন্ধিত হয়। পরে তাদের পারিবারিক পদবির বানানেও বিভিন্ন সময় পরিবর্তন আসে। ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর পরিবারটি সাও পাওলোর গ্রামাঞ্চলে চলে যায়। সেখানে তারা ওই অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ কফি উৎপাদক মার্তিনহো প্রাদো জুনিয়রের খামারে কৃষিকাজ করতেন। ঠিক সেই সময়েই রিবেইরো প্রেতো এলাকায় তাদের এক সন্তানের জন্ম হয়। নিবন্ধনের সময় তার নাম আবারও বদলে যায়। আর্দেরিগো কোচ্চেত্তিনি হয়ে যান ফেদেরিকো কুচ্চিত্তিনি। এই ফেদেরিকোই হলেন লিওনেল মেসির প্রপিতামহ।

তবে ব্রাজিলে পরিবারটির বসবাস খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ফেদেরিকো কুচ্চিত্তিনির বয়স যখন মাত্র এক বছর, তখন পুরো পরিবার আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। আর এখান থেকেই শুরু হয় ফুটবলের অন্যতম বিখ্যাত এক পরিবারের ইতিহাস। রোজারিওতে যাওয়ার পর ব্রাজিলের সঙ্গে তাদের সব ধরনের সরাসরি সম্পর্ক কার্যত ছিন্ন হয়ে যায়। আর এর কয়েক দশক পর রোজারিওতেই জন্ম নেন লিওনেল মেসি। এই গবেষণার পর ফুটবলভক্তদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে, তবে কি মেসির পক্ষে ব্রাজিলের হয়ে খেলা সম্ভব ছিল? ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে তার পরিবারের একাংশের ব্রাজিলের সঙ্গে সংযোগ থাকলেও, আইনিভাবে তার ব্রাজিলের হয়ে খেলার কোনো সুযোগ ছিল না।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শুধু দূরবর্তী পূর্বপুরুষদের জন্মস্থানের ওপর ভিত্তি করে কোনো দেশের জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা যায় না। এর জন্য ওই দেশের নাগরিকত্ব ও আইনি সম্পর্ক থাকতে হয়। জন্ম, নাগরিকত্ব ও ফুটবল শিক্ষাসব দিক থেকেই মেসির ভিত্তি রচিত হয়েছে আর্জেন্টিনায়। যুব পর্যায় থেকে শুরু করে বিশ্বকাপ জেতা পর্যন্ত তিনি শুধু আকাশীসাদা জার্সিরই প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

ফিওরেঞ্জো সান্তিনির এই গবেষণা আটবারের ব্যালন ডিঅর জয়ী তারকার পারিবারিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে। যদিও এই আবিষ্কার আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির অসামান্য অর্জনকে কোনোভাবেই ম্লান করে না, তবে এটি দক্ষিণ আমেরিকায় ইউরোপীয় অভিবাসনের সেই সময়কার প্রবাহকে নতুন করে সামনে এনেছে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় আগে ইতালীয় অভিবাসীদের মাধ্যমে ইতালি, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার ইতিহাস কীভাবে এক সুতোয় গাঁথা পড়েছিল, সেই চিত্রই উঠে এসেছে এই গবেষণায়। ফুটবল বিশ্বের কাছে লিওনেল মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সি ছাড়া অন্য কোনো রূপে কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব হলেও, তার পরিবারের ব্রাজিলে বসবাসের ইতিহাস নতুন এক কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।