ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ শহর ঢাকা, অপরাধেও শীর্ষে: নাম্বেও ভারতে এবার ‘জেন আলফার’ আন্দোলন! ‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একজন জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে ১৮ বছর পর ঘরে ফেরা আলমগীর, ততদিনে মৃত ভেবে মিলাদ-দোয়া, স্ত্রীর নতুন সংসার নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নিহত ৩, কারফিউ জারি ইরানের হামলায় কুয়েতে চীনা কোম্পানির ভবন ক্ষতিগ্রস্ত, নিরাপদ নাগরিকরা ছাত্রদলের মামলায় সারজিসের মন্তব্য, ‘সেই পুরোনো অভ্যাস’ বান্দরবানে পাহাড়ের খাদে মিলল দুই পর্যটকের লাশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে জবাব পাবে দুই দেশ: ইরান এনসিপির ওপর হামলা নিয়ে মুখ খুললেন সামান্তা শারমিন

অর্থ আত্মসাতের মাম’লায় আত্মগোপনে থেকেও বেতন তুলেছেন মাদরাসা সুপার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৫:১০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

এম আর সাইফুল, জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার সাঈদ বিন আকবরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও টানা ১৫ মাস বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সাঈদ বিন আকবর আল আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির এবং জেলা ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সমবায় সমিতির অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুপার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় মাদরাসার শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও তিনি প্রায় ১৫ মাস নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। বর্তমানে তিনি দুই মাস ধরে বিনা বেতনের ছুটিতে রয়েছেন।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “সুপার সাঈদ বিন আকবর দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তিনি অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় ১৫ মাস ছুটি ভোগ করেছেন। এরপর আরও ছয় মাসের বিনা বেতনের ছুটি নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি দুই মাস ধরে বিনা বেতনের ছুটিতে রয়েছেন।”
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আজহারুল ইসলাম বলেন, “সুপার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।”
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ শফিকুল হায়দার বলেন, “বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমাদের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা কেবল পরামর্শ দিতে পারি। প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে বলা হয়েছে, সুপার হয় বিনা বেতনে ছুটির আবেদন করবেন, নয়তো তাকে অনুপস্থিত (অ্যাবসেন্ট) হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে তার বেতন-ভাতা বন্ধ থাকবে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদরাসার সুপার সাঈদ বিন আকবরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, “কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের কোনো বৈধতা নেই। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে অনিরাপদ শহর ঢাকা, অপরাধেও শীর্ষে: নাম্বেও

অর্থ আত্মসাতের মাম’লায় আত্মগোপনে থেকেও বেতন তুলেছেন মাদরাসা সুপার

আপডেট সময় ০৫:১০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

এম আর সাইফুল, জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারীতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার সাঈদ বিন আকবরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও টানা ১৫ মাস বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি সমবায় সমিতির অর্থ আত্মসাতের মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও মাদরাসা পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সাঈদ বিন আকবর আল আকাবা বহুমুখী সমবায় সমিতির পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি মাদারগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির এবং জেলা ওলামা-মাশায়েখ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সমবায় সমিতির অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করা হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সুপার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় মাদরাসার শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ও তিনি প্রায় ১৫ মাস নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। বর্তমানে তিনি দুই মাস ধরে বিনা বেতনের ছুটিতে রয়েছেন।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “সুপার সাঈদ বিন আকবর দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তিনি অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে প্রায় ১৫ মাস ছুটি ভোগ করেছেন। এরপর আরও ছয় মাসের বিনা বেতনের ছুটি নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি দুই মাস ধরে বিনা বেতনের ছুটিতে রয়েছেন।”
মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আজহারুল ইসলাম বলেন, “সুপার দীর্ঘদিন কর্মস্থলে না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।”
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ শফিকুল হায়দার বলেন, “বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমাদের সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা কেবল পরামর্শ দিতে পারি। প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে বলা হয়েছে, সুপার হয় বিনা বেতনে ছুটির আবেদন করবেন, নয়তো তাকে অনুপস্থিত (অ্যাবসেন্ট) হিসেবে গণ্য করা হবে। সেক্ষেত্রে তার বেতন-ভাতা বন্ধ থাকবে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মাদরাসার সুপার সাঈদ বিন আকবরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, “কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের কোনো বৈধতা নেই। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”