ঢাকা , শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একজন জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে ১৮ বছর পর ঘরে ফেরা আলমগীর, ততদিনে মৃত ভেবে মিলাদ-দোয়া, স্ত্রীর নতুন সংসার নেপালে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে নিহত ৩, কারফিউ জারি ইরানের হামলায় কুয়েতে চীনা কোম্পানির ভবন ক্ষতিগ্রস্ত, নিরাপদ নাগরিকরা ছাত্রদলের মামলায় সারজিসের মন্তব্য, ‘সেই পুরোনো অভ্যাস’ বান্দরবানে পাহাড়ের খাদে মিলল দুই পর্যটকের লাশ যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে জবাব পাবে দুই দেশ: ইরান এনসিপির ওপর হামলা নিয়ে মুখ খুললেন সামান্তা শারমিন ব্রিটিশ ফুটবলে রেকর্ড ইহুদিবিদ্বেষ, অভিযোগ বেড়েছে ৪৩% বাংলাদেশিদের ভিসা দ্রুত স্বাভাবিকের তাগিদ ভারতের কমিটির

পরিচয়পত্র দেখিয়েও বাংলাদেশে পুশইন, যা বললেন ভারতীয় নারী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

ভারতের নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন শাহিদা ফকির নামে এক নারী। নিজেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা দাবি করা এই নারী বর্তমানে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি গ্রামে একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন।

শাহিদার দাবি, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ভারতের মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন। গত ১৮ জুলাই রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিআইডি পরিচয়ে কয়েকজন তাকে আটক করে। সে সময় তার কাছে থাকা ভারতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি দেখানোর চেষ্টা করলেও সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি জানান, পরে তাকে মুম্বাইয়ের একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এরপর বিমানে করে আসাম সীমান্তে নেওয়ার পর কয়েকজনের সঙ্গে জোর করে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়। সীমান্ত পার হওয়ার পর দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অসুস্থ অবস্থায় তিনি বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।

শাহিদা বলেন, তার স্থায়ী বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গোবিন্দপুর গ্রামে। তার স্বামী ও দুই সন্তান এখনও ভারতে রয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি ভারতের নাগরিক। আমার দুই সন্তান ভারতে আছে। আমাকে আমার দেশে ফিরিয়ে দিন।”

এদিকে, ভাদিয়ালি গ্রামের বাসিন্দা আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী চিকিৎসা শেষে ভারত থেকে ফেরার পথে বেনাপোলে অসহায় অবস্থায় শাহিদাকে দেখতে পান। মানবিক কারণে তারা তাকে বাড়িতে এনে আশ্রয় দিয়েছেন। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা খোঁজ নিচ্ছেন। আর কলারোয়া থানার পুলিশ বলছে, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগ পরীক্ষায় একজন জামায়াতের প্রার্থী থাকলেও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে

পরিচয়পত্র দেখিয়েও বাংলাদেশে পুশইন, যা বললেন ভারতীয় নারী

আপডেট সময় ১১:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

ভারতের নাগরিকত্বের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাকে বাংলাদেশে পুশইন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ করেছেন শাহিদা ফকির নামে এক নারী। নিজেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাসিন্দা দাবি করা এই নারী বর্তমানে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি গ্রামে একটি পরিবারের আশ্রয়ে রয়েছেন।

শাহিদার দাবি, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ভারতের মুম্বাইয়ে বসবাস করছিলেন। গত ১৮ জুলাই রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিআইডি পরিচয়ে কয়েকজন তাকে আটক করে। সে সময় তার কাছে থাকা ভারতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য নথি দেখানোর চেষ্টা করলেও সেগুলো গ্রহণ করা হয়নি।

তিনি জানান, পরে তাকে মুম্বাইয়ের একটি ডিটেনশন ক্যাম্পে চার দিন রাখা হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এরপর বিমানে করে আসাম সীমান্তে নেওয়ার পর কয়েকজনের সঙ্গে জোর করে বাংলাদেশ সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হয়। সীমান্ত পার হওয়ার পর দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অসুস্থ অবস্থায় তিনি বেনাপোল এলাকায় পৌঁছান।

শাহিদা বলেন, তার স্থায়ী বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গোবিন্দপুর গ্রামে। তার স্বামী ও দুই সন্তান এখনও ভারতে রয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি ভারতের নাগরিক। আমার দুই সন্তান ভারতে আছে। আমাকে আমার দেশে ফিরিয়ে দিন।”

এদিকে, ভাদিয়ালি গ্রামের বাসিন্দা আরিফা বেগম জানান, তার স্বামী চিকিৎসা শেষে ভারত থেকে ফেরার পথে বেনাপোলে অসহায় অবস্থায় শাহিদাকে দেখতে পান। মানবিক কারণে তারা তাকে বাড়িতে এনে আশ্রয় দিয়েছেন। গত পাঁচ দিন ধরে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা খোঁজ নিচ্ছেন। আর কলারোয়া থানার পুলিশ বলছে, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।