আজাদ কাশ্মিরের বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার ওয়েবসাইট পাকিস্তানে অপ্রাপ্য হয়ে পড়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়নি, তবে সোমবার (৩ আগস্ট) থেকে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আলজাজিরার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
একই দিনে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে আলজাজিরার বিরুদ্ধে নির্বাচন নিয়ে ‘মনগড়া’ প্রতিবেদন প্রকাশের অভিযোগ তোলে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, মুজাফফরাবাদের কয়েকটি ভোটকেন্দ্রের সীমিত তথ্য ও বাছাইকৃত ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। সরকারের ভাষ্য, নির্বাচন চলাকালে এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের পেছনে ‘বিশেষ উদ্দেশ্য’ থাকতে পারে।
এদিকে আজাদ কাশ্মিরের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মিরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবা বন্ধ, সংবাদ পরিবেশনে বাধা এবং সাংবাদিকদের আটক ও গুমের অভিযোগকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে তারা।
সিপিজে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের প্রতি সাংবাদিকদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ, তথ্যপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, আজাদ কাশ্মিরের ৫৩ সদস্যের বিধানসভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে নির্বাচন ও ‘শরণার্থী কোটা’ বাতিলের দাবিকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটিকে (জেএএকে) সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান সরকার। নির্বাচন শুরুর দিন নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এদিকে আলজাজিরার ওয়েবসাইট বন্ধ হওয়ার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















