ঢাকা , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ক্যাম্পাসগুলোতে হামলায় সরকারের উচ্চমহলের উসকানির অভিযোগ ছাত্রশিবিরের ৫ লাখ টাকা জরিমানা হলেও ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেলেন না আলোচিত রিপন মিয়া মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল বিএনপি নেতার, দল থেকে অব্যাহতি বেরোবি ক্যাম্পাস ছাত্রদলের দখলে: দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবিতে জুতা নিক্ষেপ ‘দেখা না দিলে বন্ধু কথা কইও না’— এবার আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: আসিফ মাহমুদ ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, মাথায় আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত ঢাকা আলিয়া মাদরাসার অধ্যক্ষ ‘বাংলা আজ এক বিশালাকার কারাগার’: এবার গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার পৃথিবীর দিকে আসছে বিশাল গ্রহাণু, পারমাণবিক বোমা দিয়ে করা হবে ধ্বংস! জুলাই যোদ্ধাদের হাত-পা ভাঙবেন না, রক্ত ঝরাবেন না: জামায়াত আমির তনু হত্যা মামলা: জামিনে মুক্ত অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর

‘বাংলা আজ এক বিশালাকার কারাগার’: এবার গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:২৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গের সুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে রাজনৈতিক নিপীড়ন, বিরোধী কণ্ঠ দমন এবং পুলিশ বাহিনীর অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি এক বিস্ফোরক বক্তব্য পেশ করেছেন তিনি।

 

এক ফেসবুক লাইভ বার্তায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্যে তৃণমূল কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি অনেকে জানেনই না তাদের অপরাধ কী!

 

অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত, পৌরসভা ও জেলা পরিষদগুলো গায়ের জোরে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে ব্যবহার করে ভয় দেখানো হচ্ছে—হয় বিজেপিতে যোগ দাও, না হয় জেলে যাও! হাজার হাজার তৃণমূল কর্মীকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। পুরো বাংলাটাকেই একটা বিশালাকার কারাগারে পরিণত করেছে এই বিজেপি।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা না করেই গোপনে সীমানা পুনর্র্নিধারণ এবং জনশুমারির প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে বিচার ব্যবস্থার ওপর হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, “আমরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু ন্যায়বিচার অধরাই রয়ে গেছে। তাই আমার মনে হয়, এখন সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এক তীব্র গণআন্দোলন এবং গণসচেতনতা গড়ে তোলা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।”

 

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, “মানি লন্ডারিংয়ের দোহাই দিয়ে আমাদের দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে। কিন্তু আমি জানতে চাই, অন্যান্য দলের অ্যাকাউন্ট কেন তদন্তের আওতায় আসছে না? বিজেপির কত শত অ্যাকাউন্ট! এমনকি আরএসএস তো নিবন্ধিতই নয়, অথচ তারা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক তহবিল পাচ্ছে। রাম মন্দিরের নামে দানের বাক্স লুট করা হচ্ছে, মধ্যপ্রদেশ ও আসামে নানা অনিয়ম ও চুরির খবর আসছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।”

 

দেশজুড়ে চলতে থাকা ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মমতা বলেন, পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদী তরুণদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেশের তরুণ সমাজের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই এখন দেশবিরোধী তকমা সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি বলবো—সাহস হারাবেন না। গণতন্ত্র কোনো সরকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, গণতন্ত্র জনগণের। ঐক্যবদ্ধ থাকুন, সংবিধান ও আমাদের জাতীয় নেতাদের ঐতিহ্য রক্ষা করুন।”

 

আইনের প্রতি নিজের আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “যারা আইন রক্ষার দায়িত্বে তারা নিজেরা আইন ভাঙলে, রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানানোর সাংবিধানিক অধিকার জনগণের আছে। আমাকে যত দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হবে, আমি তত শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবো। আমি ছাত্র ও যুব রাজনীতি থেকে উঠে এসেছি, ক্ষমতার চেয়ারকে আমি তোয়াক্কা করি না। আপনারা ঘৃণা ছড়াবেন, আর আমরা শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখবো। লড়াই চলবে, জয় আমাদেরই হবে।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসগুলোতে হামলায় সরকারের উচ্চমহলের উসকানির অভিযোগ ছাত্রশিবিরের

‘বাংলা আজ এক বিশালাকার কারাগার’: এবার গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার

আপডেট সময় ১১:২৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের সুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে রাজনৈতিক নিপীড়ন, বিরোধী কণ্ঠ দমন এবং পুলিশ বাহিনীর অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি এক বিস্ফোরক বক্তব্য পেশ করেছেন তিনি।

 

এক ফেসবুক লাইভ বার্তায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্যে তৃণমূল কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি অনেকে জানেনই না তাদের অপরাধ কী!

 

অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত, পৌরসভা ও জেলা পরিষদগুলো গায়ের জোরে দখল করে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশকে ব্যবহার করে ভয় দেখানো হচ্ছে—হয় বিজেপিতে যোগ দাও, না হয় জেলে যাও! হাজার হাজার তৃণমূল কর্মীকে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। পুরো বাংলাটাকেই একটা বিশালাকার কারাগারে পরিণত করেছে এই বিজেপি।”

 

তিনি অভিযোগ করেন, কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা না করেই গোপনে সীমানা পুনর্র্নিধারণ এবং জনশুমারির প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে বিচার ব্যবস্থার ওপর হতাশা প্রকাশ করে তিনি জানান, “আমরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু ন্যায়বিচার অধরাই রয়ে গেছে। তাই আমার মনে হয়, এখন সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে এক তীব্র গণআন্দোলন এবং গণসচেতনতা গড়ে তোলা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।”

 

তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, “মানি লন্ডারিংয়ের দোহাই দিয়ে আমাদের দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে। কিন্তু আমি জানতে চাই, অন্যান্য দলের অ্যাকাউন্ট কেন তদন্তের আওতায় আসছে না? বিজেপির কত শত অ্যাকাউন্ট! এমনকি আরএসএস তো নিবন্ধিতই নয়, অথচ তারা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক তহবিল পাচ্ছে। রাম মন্দিরের নামে দানের বাক্স লুট করা হচ্ছে, মধ্যপ্রদেশ ও আসামে নানা অনিয়ম ও চুরির খবর আসছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।”

 

দেশজুড়ে চলতে থাকা ‘ককোরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মমতা বলেন, পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে প্রতিবাদী তরুণদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেশের তরুণ সমাজের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই এখন দেশবিরোধী তকমা সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি বলবো—সাহস হারাবেন না। গণতন্ত্র কোনো সরকারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, গণতন্ত্র জনগণের। ঐক্যবদ্ধ থাকুন, সংবিধান ও আমাদের জাতীয় নেতাদের ঐতিহ্য রক্ষা করুন।”

 

আইনের প্রতি নিজের আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রাক্তন এই মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, “যারা আইন রক্ষার দায়িত্বে তারা নিজেরা আইন ভাঙলে, রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানানোর সাংবিধানিক অধিকার জনগণের আছে। আমাকে যত দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হবে, আমি তত শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবো। আমি ছাত্র ও যুব রাজনীতি থেকে উঠে এসেছি, ক্ষমতার চেয়ারকে আমি তোয়াক্কা করি না। আপনারা ঘৃণা ছড়াবেন, আর আমরা শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখবো। লড়াই চলবে, জয় আমাদেরই হবে।”