ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১০০ টাকায় গরুর মাংস দিয়ে ভাত বিক্রেতা ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীর কাছে হেফাজতের ৯ দফা, ইসলামবিরোধী আইন না করার দাবি ফরহাদ মজহারের ‘আমেরিকান ষড়’য’ন্ত্র’তত্ত্ব’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রিফাত বিএনপির প্রেসিডেন্ট পদে মির্জা ফখরুল নির্বাচিত বিমান বাহিনীর উইং কমান্ডার সাইফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কলকাতার কাছে মমতার গাড়িতে হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা বাবুনগর মাদ্রাসায় শীর্ষ আলেমদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহস থাকলে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হবেন: সমাজকল্যাণমন্ত্রী হেফাজত আমিরকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াবেন না: প্রধানমন্ত্রী

ভাতের সাথে ঘুষ খাচ্ছেন রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:১৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে জমির দলিল নিবন্ধন, নকল উত্তোলন ও রেকর্ড সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। তাদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি অফিস চলাকালীন খাবার খাওয়ার সময়ও ঘুষের টাকা লেনদেনের দৃশ্য ধরা পড়েছে গোপন ক্যামেরায়।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ জমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে এই অফিসে আসেন। তবে অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজ অযথা বিলম্বিত করা হয়। দ্রুত সেবা কিংবা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অফিসের রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, খাবার খাওয়ার সময়ও টেবিলে বসে অর্থ গ্রহণ করছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে অফিসে একটি অসাধু চক্র ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে গুরুত্বপূর্ণ নথি সরবরাহ বা বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে অযথা বিলম্ব করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেন। তবে হয়রানির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না অধিকাংশ মানুষ। ফলে বছরের পর বছর ধরে অনিয়মের এই সংস্কৃতি চলতেই রয়েছে।

তাদের দাবি, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা মুঠোফোনে বলেন, তিনি কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেননি। তার দাবি, খাবার খাওয়ার সময় এক ব্যক্তি চারটি জমির দলিলের নকল উত্তোলনের জন্য সরকারি নির্ধারিত ৪ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন, অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকলে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা কথিত ঘুষ লেনদেনের ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১০০ টাকায় গরুর মাংস দিয়ে ভাত বিক্রেতা ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার

ভাতের সাথে ঘুষ খাচ্ছেন রেজিস্ট্রার অফিসের রেকর্ড কিপার

আপডেট সময় ১০:১৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে জমির দলিল নিবন্ধন, নকল উত্তোলন ও রেকর্ড সংক্রান্ত সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রার্থীরা। তাদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি অফিস চলাকালীন খাবার খাওয়ার সময়ও ঘুষের টাকা লেনদেনের দৃশ্য ধরা পড়েছে গোপন ক্যামেরায়।

জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ জমি-সংক্রান্ত সেবা নিতে এই অফিসে আসেন। তবে অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে কাজ অযথা বিলম্বিত করা হয়। দ্রুত সেবা কিংবা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অফিসের রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, খাবার খাওয়ার সময়ও টেবিলে বসে অর্থ গ্রহণ করছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে অফিসে একটি অসাধু চক্র ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। সরকারি ফি ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে গুরুত্বপূর্ণ নথি সরবরাহ বা বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে অযথা বিলম্ব করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করেন। তবে হয়রানির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না অধিকাংশ মানুষ। ফলে বছরের পর বছর ধরে অনিয়মের এই সংস্কৃতি চলতেই রয়েছে।

তাদের দাবি, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দ্রুত অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে রেকর্ড কিপার আঞ্জুমান আরা মুঠোফোনে বলেন, তিনি কোনো অতিরিক্ত অর্থ নেননি। তার দাবি, খাবার খাওয়ার সময় এক ব্যক্তি চারটি জমির দলিলের নকল উত্তোলনের জন্য সরকারি নির্ধারিত ৪ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন, অতিরিক্ত কোনো অর্থ গ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্ট্রার মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কেউ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করে থাকলে এবং এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা কথিত ঘুষ লেনদেনের ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।