চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় এভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ঘর পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শরো বাপের বাড়ির মো. নাছিরের স্ত্রী জাহারা বেগম।
তাঁর ভাষ্য, ‘বন্যার সমত আর ঘর ভাঙি গেইয়িগুই। টিয়া ন থাহনের হারনে ঘর বান্ধিত ন পারি। হালিয়াত্তুন নতুন ঘর পাইয়ি। তারেক জিয়া আরারে মাথা গুঁজিবার ঠাঁই দিয়্যে। এতদিন মানুষের ঘরত আছিলাম। আজিয়াত্তুন নিজর ঘরত, তারেক জিয়ার ঘরত আরামে ঘুম যাইত পারগুম।’
আঞ্চলিক ভাষায় তার কথার সারমর্ম হলো, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার কারণে মাটি ও টিনের মিশ্রনে থাকা ঘরটি ভেঙে যায়। ভেঙে যাওয়ার পর থেকে তিনি পার্শ্ববর্তী মানুষের ঘরে বসবাস করে আসছেন। টাকা না থাকার কারণে ভাঙা ঘর মেরামত করতে পারেননি। রবিবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া নতুন ঘর পেয়েছেন। এখন তিনি নিজের ঘরে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়েছেন। এখন আর স্বামী-সন্তান নিয়ে মানুষের ঘরে থাকতে হবে না। এখন থেকে নিজের ঘরে, তারেক জিয়ার ঘরে আরাম করে ঘুমাতে পারবেন।
জাহারা বেগম আরও জানান, তার স্বামী সাগরে ট্রলারে মাছ ধরার কাজ করেন। তবে সারা বছর সাগরে যাওয়ার সুযোগ থাকে না। যে কয়টা দিন কাজে যেতে পারেন, সেই সামান্য আয় দিয়েই তাদের দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে নিয়ে ছয়জনের সংসার চলে। বন্যার তাণ্ডবে তাদের জীবন একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছিল। আর ঘরটি হারিয়ে মানসিকভাবে তারা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন। বন্যার পর অনেকেই খাদ্য বা ত্রাণ দিয়ে সাহায্য করেছেন, কিন্তু নতুন একটি ঘর তৈরি করার মতো সামর্থ্য তাদের ছিল না। যখন শুনেছেন জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের ঘর তৈরি করে দেবেন, তখন যেন অন্ধকারে নতুন আশার আলো দেখতে পান। তারা বরাবরই বিএনপিকে ভালোবেসে পাশে থেকেছেন, আজ বিপদের দিনে দলটি তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, এটাই তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের বন্যায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ও হতদরিদ্র মোট ১০০টি পরিবারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই নতুন ঘরগুলো দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট এবং প্রস্থ ১২ ফুট, যার ভেতরে রয়েছে দুটি সুপরিসর কক্ষ। এর সঙ্গে ৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থের একটি সংযুক্ত আধুনিক শৌচাগার রয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে ঘর নির্মাণে মজবুত আরসিসি পিলার, মানসম্মত কাঠ ও স্থায়িত্বশীল টিন ব্যবহার করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















