ঢাকা , মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ট্রাম্পকে নিয়ে বিপজ্জনক খেলায় নেতানিয়াহু সাবেক ভূমিমন্ত্রীর বাসা থেকে আওয়ামী লীগ নেতা মুরাদ গ্রেপ্তার একই দিনে আদালতে সাতক্ষীরার আলোচিত ৩ নজরুল ইসলাম, দুজন কারাগারে কোটি টাকার সেতু পার হতে লাগে বাঁশের সাঁকো লুট করে দেশের অর্থনীতি শূন্যের কোঠায় নিয়ে গেছে হাসিনা: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: মুখ খুলল দুদক পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে জরুরি অবতরণ করল হেলিকপ্টার জামালপুরে শিয়ালের তাণ্ডব, মুহূর্তেই কামড়ে দিল ৭ জনকে রাজধানীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪ এসএসসিতে গাজী নজরুলের ‘স্ত্রীর’ রেজাল্ট কী হলো?

কোটি টাকার সেতু পার হতে লাগে বাঁশের সাঁকো

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৬:৩২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের হুগলী নদীর ওপর নির্মিত ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। তবে সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় এখনো সেতুটি পুরোপুরি চালু করা যায়নি। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের ভরসা এখন বাঁশের সাঁকো।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর—এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জের সখিপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের নড়িয়া উপজেলা সদরে যাতায়াত সহজ করতে থিরপাড়া এলাকায় হুগলী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২১ সালের নভেম্বরে ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার সেতু ও দুই পাশে মোট ২৮৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুনে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে পূর্ব পাশের ১৮০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলেও পশ্চিম পাশের ১০৫ মিটার সড়কের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি।

এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, সেতু নির্মাণের আগে সমীক্ষায় দুই প্রান্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় দুই একর জমি থাকার বিষয়টি জানা যায়। তবে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা না করেই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়।

পরে পূর্ব পাশের জমির সমস্যা সমাধান করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হলেও পশ্চিম পাশের জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি ছাড়তে রাজি হননি। তাদের দাবি, জমির পাশাপাশি সেখানে থাকা স্থাপনারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এদিকে, প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কাজ আটকে যায়। গত বছরের নভেম্বরে ৮১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো এর কোনো সমাধান হয়নি।

সেতু নির্মাণের পর থিরপাড়া ঘাটে নৌকা চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে সেতুতে ওঠার ব্যবস্থা করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভেদরগঞ্জের চরভাগা ও নড়িয়ার ঘড়িসার ইউনিয়নের বাসিন্দারা প্রতিদিন এই বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে ঘড়িসার বাজার, কার্তিকপুর, গোলার বাজার ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করছেন। একই পথে চলাচল করছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরাও।

স্থানীয় বাসিন্দা সাগর সরদার বলেন, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। আগে নৌকায় পারাপার হলেও এখন সেতু নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে। গত এক বছরে সাঁকো থেকে পড়ে নারী ও শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

থিরপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শাহ আলম মাল জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে তার দোকান ভেঙে ফেলতে হবে। তবে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জমি ছেড়ে দিতে রাজি তিনি।

নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি দিতে রাজি না হওয়ায় এক পাশের সংযোগ সড়কের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সেতুটিও পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না।

শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণের আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জমির মালিকেরা মৌখিকভাবে জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে এক পাশের জমির সমস্যা সমাধান হলেও অন্য পাশের জমি পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, স্থাপনার আংশিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে, যাতে দ্রুত সেতুটি যান চলাচলের উপযোগী করা যায়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পকে নিয়ে বিপজ্জনক খেলায় নেতানিয়াহু

কোটি টাকার সেতু পার হতে লাগে বাঁশের সাঁকো

আপডেট সময় ০৬:৩২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়নের হুগলী নদীর ওপর নির্মিত ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। তবে সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ না হওয়ায় এখনো সেতুটি পুরোপুরি চালু করা যায়নি। ফলে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের ভরসা এখন বাঁশের সাঁকো।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর—এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ভেদরগঞ্জের সখিপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের নড়িয়া উপজেলা সদরে যাতায়াত সহজ করতে থিরপাড়া এলাকায় হুগলী নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২১ সালের নভেম্বরে ১২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯০ মিটার সেতু ও দুই পাশে মোট ২৮৫ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুনে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। পরে পূর্ব পাশের ১৮০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হলেও পশ্চিম পাশের ১০৫ মিটার সড়কের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি।

এলজিইডি কর্মকর্তারা জানান, সেতু নির্মাণের আগে সমীক্ষায় দুই প্রান্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় দুই একর জমি থাকার বিষয়টি জানা যায়। তবে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা না করেই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়।

পরে পূর্ব পাশের জমির সমস্যা সমাধান করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা সম্ভব হলেও পশ্চিম পাশের জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি ছাড়তে রাজি হননি। তাদের দাবি, জমির পাশাপাশি সেখানে থাকা স্থাপনারও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এদিকে, প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের জন্য আলাদা বরাদ্দ না থাকায় পশ্চিম পাশের সংযোগ সড়কের কাজ আটকে যায়। গত বছরের নভেম্বরে ৮১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনো এর কোনো সমাধান হয়নি।

সেতু নির্মাণের পর থিরপাড়া ঘাটে নৌকা চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে সেতুতে ওঠার ব্যবস্থা করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভেদরগঞ্জের চরভাগা ও নড়িয়ার ঘড়িসার ইউনিয়নের বাসিন্দারা প্রতিদিন এই বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে ঘড়িসার বাজার, কার্তিকপুর, গোলার বাজার ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করছেন। একই পথে চলাচল করছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অসুস্থ রোগীরাও।

স্থানীয় বাসিন্দা সাগর সরদার বলেন, প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ এই পথ ব্যবহার করেন। আগে নৌকায় পারাপার হলেও এখন সেতু নির্মিত হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে। গত এক বছরে সাঁকো থেকে পড়ে নারী ও শিশুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

থিরপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শাহ আলম মাল জানান, সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে তার দোকান ভেঙে ফেলতে হবে। তবে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হলে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জমি ছেড়ে দিতে রাজি তিনি।

নড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, জমির মালিকেরা ক্ষতিপূরণ ছাড়া জমি দিতে রাজি না হওয়ায় এক পাশের সংযোগ সড়কের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে সেতুটিও পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না।

শরীয়তপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রাফেউল ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণের আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জমির মালিকেরা মৌখিকভাবে জমি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। পরে এক পাশের জমির সমস্যা সমাধান হলেও অন্য পাশের জমি পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, স্থাপনার আংশিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজা হচ্ছে, যাতে দ্রুত সেতুটি যান চলাচলের উপযোগী করা যায়।