এক বছরে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে ইরান। আর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর কৌশলগত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অস্ত্রের উৎপাদন তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার ইরানে পালিত হয়েছে জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প দিবস। এ উপলক্ষে শত্রুপক্ষকে চমকে দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতার তথ্য গোপন রাখতে এবারও নতুন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের প্রদর্শন সীমিত রেখেছে তেহরান।
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পরবর্তী এক বছরে অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎপাদন দ্বিগুণ করা হয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন করে সংঘাত শুরুর পর কৌশলগত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত অস্ত্রের উৎপাদন তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবনে রেজা দাবি করেন, গত বছরের তুলনায় এবারের যুদ্ধে ইরানি বাহিনী শত্রুর ঘাঁটির আরও গভীরে হামলা, বেশি নির্ভুল আঘাত এবং আকাশ প্রতিরক্ষায় আরও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে, আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানান, ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধে বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন প্রজন্মের ওয়ারহেড ব্যবহার করবে। এসব অস্ত্রের উন্নয়ন ও উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানে ৯ হাজার ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূপৃষ্ঠের কিছু উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস হলেও ভূগর্ভস্থ ও ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন স্থাপনাগুলোতে ইরান অস্ত্র উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশটির পুরো প্রতিরক্ষা শিল্পকে একসঙ্গে অচল করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য কঠিন হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























