নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে। পরিবারের দাবি, ওই ছাত্রী বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় বকুল মিয়াসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর বাবা। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি বকুল মিয়া পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম। এর আগে মঙ্গলবার রাতে মামলা হওয়ার পরই অভিযান চালিয়ে আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর বকুল মিয়া তাকে একটি বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে বকুল মিয়ার সহযোগী এক নারী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে বকুলের নেতৃত্বে একাধিক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, গত ১ আগস্ট ওই ছাত্রীর একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা করানো হলে চিকিৎসকেরা তাকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো এবং অন্যদের দিয়েও ধর্ষণ করানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ করার পর প্রাণনাশের আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সে। এ ঘটনায় কঠোর বিচার দাবি করেছে ভুক্তভোগী।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন এবং বকুল মিয়ার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আবু মিয়াকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। প্রধান আসামি বকুল মিয়াকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























