ঢাকা , শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জাতীয় চার নেতার মুরালকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে অপসারণ করলেন ইউএনও গ্রামে সরবরাহ বাড়াতেই রাজধানীতে লোডশেডিং নেপালে বন্যা-ভূমিধস: অপুদের দেশে ফেরার প্রস্তুতি, আটকে আছেন তাসরিফ রাজধানীতে মিছিলের চেষ্টা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন আটক পুলিশের ধাওয়া খেয়ে মাইক্রোবাস পুকুরে, ভেসে উঠল ৯ বস্তা ভারতীয় গাঁজা ৬ বছর ধরে বিধবার ভাতা তুলছেন ইউপি সদস্য বিদেশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর পরিবর্তে অর্থ সহায়তা চায় নেপাল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পুতিন আমরা যে রাস্তা দিয়ে ফিরব, সেটি পুরো ধসে গেছে: নেপাল থেকে তাসরিফ খান ‘আমরা ছাত্র হওয়ার জন্য সংসদে আসিনি’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জামায়াত আমির

‘বাড়ির ছাদ থেকে পুরো পরিবারকে ভেসে যেতে দেখলাম, এই বন্যা আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০২:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

এবার হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে বরফধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বত মিলে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৬৫ ছাড়িয়েছে এবং আরও ১৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের নুয়াকোট জেলার কল্পনা মল্লা বাড়ির ছাদে দাড়িয়ে দেখছেন প্রবল স্রোতে নিজের পুরো পরিবারের ভেসে যেতে। কল্পনা মল্লা কোনো রকম দৌড়ে বাড়ির ছাদে উঠে নিজের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। কিন্তু এই নারী চোখের সামনে তাঁর পুরো পরিবারকে ভেসে যেতে দেখেছেন।

বুধবার (২৬ আগষ্ট) নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বন্যা ও ভূমিধসে রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সকাল পর্যন্ত ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। আরও পাঁচ শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাঁরা মূলত পর্যটক।

কল্পনার বাড়ি সেই নুয়াকোট বাগমাতি প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। কল্পনা বলেন, তাঁর বাবা, মা, বোন এবং বোনের সন্তানেরা সবাই আকস্মিক ওই বন্যার তোড়ে ভেসে গেছেন। কল্পনা আরও বলেন, ‘চোখের সামনে বন্যার স্রোতে আমার পরিবারের সদস্যরা ভেসে গেছেন। তাঁরা বন্যার কবল থেকে বাঁচতে পারেননি। পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। এ বন্যা আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। আমি ও আমার ছেলে কোনোমতে একটি বাড়ির ছাদে উঠে প্রাণে বেঁচেছিকীভাবে বেঁচে গেলাম, তা নিজেরাও বলতে পারি না।কল্পনার ছেলে সুগম মাল্লা বলেন, তিনি হাত ধরে টেনে তাঁর মাকে বাঁচিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে আমি আমার ফোন বোনকে দিয়েছিলাম, যেন সে নিরাপদে থাকতে এবং সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারে। কিন্তু এখন ওর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, ফোনটিও বন্ধ। আমার আশঙ্কা, সেও হয়তো বন্যার তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।স্থানীয় আরেক নারী গোমা পণ্ডিত বলেন, বন্যায় তাঁর মহিষসহ অন্যসব গবাদিপশু ভেসে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার কৃষিজমিও ভেসে গেছে। ১০ বস্তা শর্ষের বীজ, টন টন ভুট্টা ও ধানসব শেষ। কিছুই অবশিষ্ট নেই।নেপালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা এবং আক্রান্ত স্থানীয় মানুষ।

গতকালের এ বন্যা ও ভূমিধসে তিব্বতেও তিনজন প্রান হারিয়েছে। সেখানে আরও অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার সকালে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির খবরে বলা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে। ঠিক কী কারণে হঠাৎ এমন বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, গতকাল তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পরই এর সূত্রপাত। এ বন্যা ও ভূমিধসকে ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় চার নেতার মুরালকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ আখ্যা দিয়ে অপসারণ করলেন ইউএনও

‘বাড়ির ছাদ থেকে পুরো পরিবারকে ভেসে যেতে দেখলাম, এই বন্যা আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে’

আপডেট সময় ০২:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

এবার হিমালয় সীমান্ত অঞ্চলে বরফধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় নেপাল ও তিব্বত মিলে নিহতের সংখ্যা অন্তত ১৬৫ ছাড়িয়েছে এবং আরও ১৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের নুয়াকোট জেলার কল্পনা মল্লা বাড়ির ছাদে দাড়িয়ে দেখছেন প্রবল স্রোতে নিজের পুরো পরিবারের ভেসে যেতে। কল্পনা মল্লা কোনো রকম দৌড়ে বাড়ির ছাদে উঠে নিজের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। কিন্তু এই নারী চোখের সামনে তাঁর পুরো পরিবারকে ভেসে যেতে দেখেছেন।

বুধবার (২৬ আগষ্ট) নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় বাগমাতি প্রদেশের রসুয়া ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। বন্যা ও ভূমিধসে রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সকাল পর্যন্ত ১৬৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ। আরও পাঁচ শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বহু বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাঁরা মূলত পর্যটক।

কল্পনার বাড়ি সেই নুয়াকোট বাগমাতি প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। কল্পনা বলেন, তাঁর বাবা, মা, বোন এবং বোনের সন্তানেরা সবাই আকস্মিক ওই বন্যার তোড়ে ভেসে গেছেন। কল্পনা আরও বলেন, ‘চোখের সামনে বন্যার স্রোতে আমার পরিবারের সদস্যরা ভেসে গেছেন। তাঁরা বন্যার কবল থেকে বাঁচতে পারেননি। পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই ছিল না। এ বন্যা আমাদের সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। আমি ও আমার ছেলে কোনোমতে একটি বাড়ির ছাদে উঠে প্রাণে বেঁচেছিকীভাবে বেঁচে গেলাম, তা নিজেরাও বলতে পারি না।কল্পনার ছেলে সুগম মাল্লা বলেন, তিনি হাত ধরে টেনে তাঁর মাকে বাঁচিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে আমি আমার ফোন বোনকে দিয়েছিলাম, যেন সে নিরাপদে থাকতে এবং সাহায্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারে। কিন্তু এখন ওর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, ফোনটিও বন্ধ। আমার আশঙ্কা, সেও হয়তো বন্যার তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে।স্থানীয় আরেক নারী গোমা পণ্ডিত বলেন, বন্যায় তাঁর মহিষসহ অন্যসব গবাদিপশু ভেসে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার কৃষিজমিও ভেসে গেছে। ১০ বস্তা শর্ষের বীজ, টন টন ভুট্টা ও ধানসব শেষ। কিছুই অবশিষ্ট নেই।নেপালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা এবং আক্রান্ত স্থানীয় মানুষ।

গতকালের এ বন্যা ও ভূমিধসে তিব্বতেও তিনজন প্রান হারিয়েছে। সেখানে আরও অন্তত ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার সকালে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির খবরে বলা হয়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তিব্বত অঞ্চলে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৪। উৎপত্তিস্থল ছিল নেপালের গোসাইকুন্ড হ্রদ থেকে ৪৭ কিলোমিটার উত্তরে। ঠিক কী কারণে হঠাৎ এমন বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, গতকাল তিব্বত অঞ্চলে ভূমিকম্পের পরই এর সূত্রপাত। এ বন্যা ও ভূমিধসকে ২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর নেপালে সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হচ্ছে।