ঢাকা , বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ডিআরইউতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ সাভারে বোমাসদৃশ ৫ বস্তু উদ্ধার, আটক ১ ৯০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষক ৬ জন, তবু ৯ বছর ধরে সেরা রাজধানীতে চাঁদা তোলায় বাধা, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলেন যুবদল নেতা চঞ্চল চাঁদা নিতে বাধা দেওয়ায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ওপর নিউমার্কেট যুবদলের হামলা নববধূর স্বামীর কাছে মাদক পাঠিয়ে পুলিশকে খবর দিলো সাবেক প্রেমিক সাভারে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করা একটি বাড়ি ঘিরে রেখেছে পুলিশ, ৫টি বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধার ফ্যামিলি কার্ড নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ: গাইবান্ধায় ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয় ‘পর্যালোচনা করছে’ ভারত ‘আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল শিক্ষার্থীরা’

‘স্বৈরাচারের কাছে মাথানত করিনি’ — তরুণ আন্দোলননেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫
  • ৪৩৩ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকদের মধ্যে সাহসী ও চিন্তাশীল নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র হিসেবেই তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার সূচনা, কিন্তু অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের অন্যতম মুখ।

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গড়ে ওঠা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়কারীদের একজন ছিলেন হাসনাত। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদবিরোধী যে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়, তার কেন্দ্রীয় চরিত্রে উঠে আসেন এই তরুণ। রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিতার্কিক হিসেবেও ছিল তার আলাদা খ্যাতি। শোষণবিরোধী যেকোনো আলোচনা-অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তির দীপ্তি দিয়ে মন জয় করতেন সাধারণ মানুষের।

বাসস-এ দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা ৯ জুলাই ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করি, যেটা সারা দেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পায়। সেই দিন দেখেছি—বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আবার রাজপথে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি স্মরণ করেন, কীভাবে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিলেন। পুলিশের হাতে বন্দিত্ব, নির্যাতন, ট্রমা—সবকিছুই মেনে নিয়েছিলেন দেশের মুক্তি ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার আশায়। “আমি শহীদ হতেও প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু স্বৈরাচারের সামনে মাথানত করিনি,” বলেন হাসনাত।

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার গোপালনগর গ্রামের সন্তান হাসনাত তাঁর এলাকার তরুণদের মাঝেও অনুপ্রেরণার উৎস। একজন নেতৃত্বদানকারী সংগঠক হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন।

তিনি মনে করেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তরুণদের হাতে। এই রাষ্ট্র শুধু শহীদদের রক্তের ফসল নয়, এটি আমাদের আদর্শিক সংগ্রামেরও ফল। ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে হলে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে হবে।”

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিআরইউতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা: পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

‘স্বৈরাচারের কাছে মাথানত করিনি’ — তরুণ আন্দোলননেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ

আপডেট সময় ০৯:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ জুলাই ২০২৫

দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠকদের মধ্যে সাহসী ও চিন্তাশীল নেতৃত্বের প্রতীক হয়ে উঠেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র হিসেবেই তার রাজনৈতিক সক্রিয়তার সূচনা, কিন্তু অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন জাতীয় ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের অন্যতম মুখ।

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে গড়ে ওঠা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর প্রধান সমন্বয়কারীদের একজন ছিলেন হাসনাত। ওই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদবিরোধী যে গণঅভ্যুত্থান শুরু হয়, তার কেন্দ্রীয় চরিত্রে উঠে আসেন এই তরুণ। রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিতার্কিক হিসেবেও ছিল তার আলাদা খ্যাতি। শোষণবিরোধী যেকোনো আলোচনা-অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তির দীপ্তি দিয়ে মন জয় করতেন সাধারণ মানুষের।

বাসস-এ দেওয়া এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা ৯ জুলাই ‘বাংলা ব্লকেড’ নামে একটি কর্মসূচি ঘোষণা করি, যেটা সারা দেশের ছাত্র-জনতা ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পায়। সেই দিন দেখেছি—বাংলাদেশের মানুষ তাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আবার রাজপথে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি স্মরণ করেন, কীভাবে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিলেন। পুলিশের হাতে বন্দিত্ব, নির্যাতন, ট্রমা—সবকিছুই মেনে নিয়েছিলেন দেশের মুক্তি ও স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার আশায়। “আমি শহীদ হতেও প্রস্তুত ছিলাম, কিন্তু স্বৈরাচারের সামনে মাথানত করিনি,” বলেন হাসনাত।

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার গোপালনগর গ্রামের সন্তান হাসনাত তাঁর এলাকার তরুণদের মাঝেও অনুপ্রেরণার উৎস। একজন নেতৃত্বদানকারী সংগঠক হিসেবে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন।

তিনি মনে করেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব তরুণদের হাতে। এই রাষ্ট্র শুধু শহীদদের রক্তের ফসল নয়, এটি আমাদের আদর্শিক সংগ্রামেরও ফল। ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে হলে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে হবে।”