ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
‘ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না বাংলাদেশ’, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গরু জবাই নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে দাঁড়াল থালাপতির সরকার এইচএসসিতে ৯ বোর্ডে একই প্রশ্ন, ফাঁস ঠেকাতে বাড়তি নজর ‘আমাদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ এখনো গড়ে ওঠেনি’, নাহিদ ইসলাম ‘রাশিয়ার কারণে রাতে ঘুমাতে পারি না’, বললেন ন্যাটোপ্রধান আট বছর পর মিলল ম্যারাডোনার সেই ভবিষ্যদ্বাণী চার আকাশযান ধ্বং’সে’র দা’বি পাকিস্তানের, সফল হা’ম’লা’র কথা বলছে কাবুল সাবেক এমপিকে আমন্ত্রণের জেরে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে ভাঙচুর হোলি আর্টিজানের এক দশক, জ’ঙ্গি’বা’দ কতটা বদলেছে? এবার পুরো গাজা দখলে নেওয়ার ঘোষণা ইসরায়েলি মন্ত্রীর

ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা? স্বাধীন বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেয় যে দেশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের মানুষের কাছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা শুধু দুটি দেশের নাম নয়, আবেগেরও প্রতীক। বিশ্বকাপ এলেই এই দুই দলকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা, তর্কবিতর্ক ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে ফুটবলের বাইরেও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা রয়েছে দেশ দুটির। কারণ, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ইতিহাস বলছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল। অন্যদিকে ১৯৭২ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা। ফলে দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেওয়া দেশটি ছিল ব্রাজিল।

এদিকে বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তার মূল কেন্দ্র ফুটবল। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সময় গভীর রাতেও টেলিভিশনের সামনে বসে নেইমার, মেসি কিংবা তাদের সতীর্থদের খেলা উপভোগ করেন লাখো সমর্থক। ভৌগোলিক দূরত্ব অনেক হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে দুই দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও বাংলাদেশি সমর্থকদের এক ধরনের আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো কিংবা আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানোএমিমার্টিনেজও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন।

ফুটবলের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কেও দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় আট গুণ বেশি। একইভাবে আমদানির ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিলের অবস্থান এগিয়ে। দুই দেশেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।

এদিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক সাইডলাইন বৈঠকে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বাংলাদেশ সফরের আগ্রহের কথা জানান। অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে পুনরায় দূতাবাস কার্যক্রম শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রদূতকেও বিভিন্ন সময় স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ ও দলের জয় উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেছে, যা দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ধর্মের নামে সন্ত্রাসবাদ সমর্থন করে না বাংলাদেশ’, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা? স্বাধীন বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেয় যে দেশ

আপডেট সময় ০৩:২৮:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের মানুষের কাছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা শুধু দুটি দেশের নাম নয়, আবেগেরও প্রতীক। বিশ্বকাপ এলেই এই দুই দলকে ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা, তর্কবিতর্ক ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। তবে ফুটবলের বাইরেও স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা রয়েছে দেশ দুটির। কারণ, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ইতিহাস বলছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল। অন্যদিকে ১৯৭২ সালের ২৬ অক্টোবর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা। ফলে দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে আগে স্বীকৃতি দেওয়া দেশটি ছিল ব্রাজিল।

এদিকে বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জনপ্রিয়তার মূল কেন্দ্র ফুটবল। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের সময় গভীর রাতেও টেলিভিশনের সামনে বসে নেইমার, মেসি কিংবা তাদের সতীর্থদের খেলা উপভোগ করেন লাখো সমর্থক। ভৌগোলিক দূরত্ব অনেক হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে দুই দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও বাংলাদেশি সমর্থকদের এক ধরনের আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের ক্যাসেমিরো কিংবা আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানোএমিমার্টিনেজও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথা প্রকাশ করেছেন।

ফুটবলের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কেও দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে ব্রাজিলের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় আট গুণ বেশি। একইভাবে আমদানির ক্ষেত্রেও আর্জেন্টিনার চেয়ে ব্রাজিলের অবস্থান এগিয়ে। দুই দেশেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।

এদিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক সাইডলাইন বৈঠকে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা বাংলাদেশ সফরের আগ্রহের কথা জানান। অন্যদিকে, দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে পুনরায় দূতাবাস কার্যক্রম শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রদূতকেও বিভিন্ন সময় স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ ও দলের জয় উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেছে, যা দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে।