ঢাকা , শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার লাশের সামনে অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি সুজন নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপে যাবে ব্রাজিল, নিশ্চিত করলেন আনচেলত্তি এবার ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে কথা বলেছেন আসিফ মাহমুদ  বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইসরায়েল, ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ দুই ভবনের ফাঁকে আটকা কুকুরকে বাঁচাল ফায়ার সার্ভিস ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের বানান ভুল, চিড়িয়াখানার কিউরেটরকে বদলি এক দশক পর জঙ্গি অভিযোগের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন সেই তিন ছাত্রী লুডু খেলা নিয়ে দু‘পক্ষের তুমুল সংঘর্ষ, আহত ২০ উপজেলার বাজেটের টাকা তো আমাকে দেওয়া হয়নি: হাসনাত আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের ওপর আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হামলা

নেতারা দেশ চালাবেন, কিন্তু পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তার করবেন না-সেই জায়গায় কবে যাব: পুলিশ মহাপরিদর্শক

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
  • ৩০৪ বার পড়া হয়েছে

‘গত নভেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যে শুরু করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। আমাকেও শুনতে হয়– উনি কি আমাদের লোক? ধারাবাহিক এটা চলে এসেছে।’ শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল–‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়। প্রথম আলো ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার কল্যাণ সমিতি যৌথভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করে।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। এরপর ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ নিয়ে একটি প্রবন্ধ তুলে ধরেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (অবসরপ্রাপ্ত) ও বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি ইয়াসমিন গফুর।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, আমরা একটা জায়গায় এখনও হতাশা থেকে বের হতে পারছি না। অনেকে বলছেন, পুলিশ কমিশন এখনই করতে হবে। রাজনৈতিক সরকার আসলে এটি হবে না। তাহলে, আমাদের ভবিষ্যতে কি আছে? উনরা (রাজনৈতিক নেতারা) আমাদের অভিভাবক, আমি তাই মনে করি। তারা দেশ পরিচালনা করেন। তাহলে তাদের কেন আস্থায় রাখতে পারব না। এটা হতাশাজনক। এটা তো হওয়ার কথা নয়। সেই ভয় থেকেই বলি যে, রাজনীতি ও কার্যনির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত একটা স্বতন্ত্র বডির আওতায় আমাদের (পুলিশ) নিয়ে যান। ওই আস্থাটা কেন পাচ্ছি না। উনারাই (রাজনৈতিক নেতারা) করবেন। উনারা দেশ চালাবেন, কিন্তু উনারা কোনো প্রভাব বিস্তার করবেন না সেই জায়গায় কবে যাব আমি।’

বাহারুল আলম আরও বলেন, গত এক বছরে যেটা মনে হয়েছে, পুলিশের ও জনমানুষের যে অভিজ্ঞতা– কতটুকু ঘৃণা সঞ্চার হলে পুলিশ তার স্টেশন থেকে পালাতে হয়। গত দেড়শ’ বছরে যেটা হয়নি। গত ১৫ বছরে আমরা কীভাবে ব্যবহার হয়েছি, আমরা এর আত্ম অনুসন্ধান করি। যারা পরিচালনা করেন, রাজনৈতিক দল তারা এর থেকে বেরিয়ে যাবেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, কার্যকর স্বাধীনতা আমাকে দেন। মামলা তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আমার কাছে যে কোনো নির্দেশনা যেন না আসে। কীভাবে পুলিশ পরিচালিত হবে তা বইতে লেখা আছে। আমাকে ওই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আইনের শাসন অনুযায়ী কাজ করতে দেন। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ৩ ধারাতে পুলিশের ওপর সরকারের অসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটা কাটছাট করতে হবে। নতুন পুলিশ আইনও হোক। সুখের কথা হলো– অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার লাশের সামনে অঝোরে কাঁদলেন সাবেক এমপি সুজন

নেতারা দেশ চালাবেন, কিন্তু পুলিশের ওপর প্রভাব বিস্তার করবেন না-সেই জায়গায় কবে যাব: পুলিশ মহাপরিদর্শক

আপডেট সময় ১১:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

‘গত নভেম্বরে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যে শুরু করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয়। আমাকেও শুনতে হয়– উনি কি আমাদের লোক? ধারাবাহিক এটা চলে এসেছে।’ শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গোলটেবিল বৈঠকে এ কথা বলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম। আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল–‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়। প্রথম আলো ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার কল্যাণ সমিতি যৌথভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করে।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান। এরপর ‘বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ নিয়ে একটি প্রবন্ধ তুলে ধরেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (অবসরপ্রাপ্ত) ও বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সহসভাপতি ইয়াসমিন গফুর।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, আমরা একটা জায়গায় এখনও হতাশা থেকে বের হতে পারছি না। অনেকে বলছেন, পুলিশ কমিশন এখনই করতে হবে। রাজনৈতিক সরকার আসলে এটি হবে না। তাহলে, আমাদের ভবিষ্যতে কি আছে? উনরা (রাজনৈতিক নেতারা) আমাদের অভিভাবক, আমি তাই মনে করি। তারা দেশ পরিচালনা করেন। তাহলে তাদের কেন আস্থায় রাখতে পারব না। এটা হতাশাজনক। এটা তো হওয়ার কথা নয়। সেই ভয় থেকেই বলি যে, রাজনীতি ও কার্যনির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত একটা স্বতন্ত্র বডির আওতায় আমাদের (পুলিশ) নিয়ে যান। ওই আস্থাটা কেন পাচ্ছি না। উনারাই (রাজনৈতিক নেতারা) করবেন। উনারা দেশ চালাবেন, কিন্তু উনারা কোনো প্রভাব বিস্তার করবেন না সেই জায়গায় কবে যাব আমি।’

বাহারুল আলম আরও বলেন, গত এক বছরে যেটা মনে হয়েছে, পুলিশের ও জনমানুষের যে অভিজ্ঞতা– কতটুকু ঘৃণা সঞ্চার হলে পুলিশ তার স্টেশন থেকে পালাতে হয়। গত দেড়শ’ বছরে যেটা হয়নি। গত ১৫ বছরে আমরা কীভাবে ব্যবহার হয়েছি, আমরা এর আত্ম অনুসন্ধান করি। যারা পরিচালনা করেন, রাজনৈতিক দল তারা এর থেকে বেরিয়ে যাবেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, কার্যকর স্বাধীনতা আমাকে দেন। মামলা তদন্ত ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আমার কাছে যে কোনো নির্দেশনা যেন না আসে। কীভাবে পুলিশ পরিচালিত হবে তা বইতে লেখা আছে। আমাকে ওই অনুযায়ী কাজ করতে হবে। আইনের শাসন অনুযায়ী কাজ করতে দেন। ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ৩ ধারাতে পুলিশের ওপর সরকারের অসীম ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এটা কাটছাট করতে হবে। নতুন পুলিশ আইনও হোক। সুখের কথা হলো– অন্তর্বর্তী সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।