ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগকে দেশটির জন্য ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক হামলাও এড়াতে পারবে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে নাকচ করে দিয়েছে ইরান।
সোমবার (৩ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আগামী এক-দুদিনের মধ্যেই আলোচনা শুরু হতে পারে। তাঁর মতে, আলোচনার প্রথম ধাপ হবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা হবে।
ট্রাম্প বলেন, “প্রথম ধাপ হলো প্রণালি খুলে দেওয়া। দ্বিতীয় ধাপ হবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ। এতে কিছুটা সময় লাগবে। ভালো একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এটিই ইরানের শেষ সুযোগ।”
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা চলছে না।”
বাঘাই জানান, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ওমানের সঙ্গে একটি অস্থায়ী নৌপথ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরু হয়নি।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বকে “অবিশ্বাস্যভাবে দ্বিমুখী” বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, একদিকে ইরান বৈঠকের আগ্রহ দেখাচ্ছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা অস্বীকার করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুরোধে তিনি সপ্তাহান্তে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছিলেন। তবে ভবিষ্যতে সেই অবস্থান বহাল থাকবে কি না, তা ইরানের সমঝোতার আগ্রহের ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই দেশের টানাপোড়েনও অব্যাহত রয়েছে। ইরান প্রণালিটির ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে। অন্যদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী নৌ-করিডর চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে, যা স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কার্যকর রাখা হতে পারে।
১৮ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের গ্রহণযোগ্য নৌপথ নির্ধারণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সেই শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধের কারণে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে। এর প্রভাব লোহিত সাগর ও ইরাকসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলেও পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার ইরানকে ‘শেষ সুযোগ’ দেওয়ার কথা বলেছেন। কিন্তু প্রতিবারই নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায়, এবারও তাঁর এই হুঁশিয়ারি শেষ পর্যন্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক অঙ্গনে সংশয় রয়ে গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 






















